ঢাকা, শনিবার, ৪ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

অবসরোত্তর ছুটি শুরুর আগেই মঞ্জুরির কাগজপত্র!

বিএম ফারুক : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-০৮ ১০:৪৩:৩০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-০৮ ১:৫০:২৪ পিএম
একজন শিক্ষিকাকে পিআরএল মঞ্জুরির কাগজপত্র হাতে তুলে দিচ্ছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম

যশোর প্রতিনিধি: অবসরোত্তর ছুটি শুরুর তিনদিন আগেই পিআরএল মঞ্জুরির কাগজপত্র হাতে পেলেন যশোরের সরকারি প্রাইমারির শিক্ষক আবদার রহমান।

তিনি যশোর জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে চৌগাছা উপজেলার ভাদড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। গত ৩০ ডিসেম্বর (২০১৮) অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শুরু তার। তিনদিন আগেই ২৭ ডিসেম্বর তিনি পিআরএল মঞ্জুরির কাগজপত্র হাতে পেয়ে যান। তিনি কল্পনাও করতে পারেননি এত সহজে পেনশনের যাবতীয় কাগজপত্র পাওয়া যায়।

কোন হয়রানি ছাড়া চেষ্টা-তদ্বিরের আগেই পিআরএল মঞ্জুরির কাগজপত্র হাতে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগটি যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুল আলমের। তিনি নিজেই উপজেলা দপ্তরে গিয়ে সেখানেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের হাতে মঞ্জুরির কাগজপত্র তুলে দিয়েছেন। বলেন শিক্ষক আবদার রহমান।

কেবল আবদার রহমান নয়, ২০১৮ সালে যশোর জেলার ১০৫জন অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে পিআরএল মঞ্জুরির কাগজপত্র পেতে কষ্ট করে জেলা অফিসে আসতে হয়নি। তারা নিজ এলাকায় বসেই সহজে পেয়ে গেছেন পিআরএল ও অবসর ভাতার মঞ্জুরিপত্র।

শিক্ষা অফিসারের এই উদ্যোগকে দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন অবসরে যাওয়া শিক্ষকরা। তারা বলছেন, অতীতে এমন উদ্যোগ তারা কখনো দেখেননি। এতে শিক্ষকরা কষ্ট ও দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, ‘চাকরি জীবনের শেষে শিক্ষকদের পেনশন ও পিআরএল পাওনা নিয়ে টেনশনে ভুগতে হতো। সেটি লাঘবে আমি উদ্যোগ নিয়েছি উপজেলায় উপজেলায় গিয়ে তাদের হাতে পেনশন ও পিআরএল কাগজপত্র তুলে দিয়ে আসবো।’

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের জানুয়ারিতে আমি এখানে যোগদানের পর থেকে এটি চালু করেছি। আমার নিয়মিত উপজেলা অফিস পরিদর্শন ও বিদ্যালয় পরিদর্শন থাকে। সেই সময় একজন অফিস স্টাফকে সঙ্গে নিয়ে যাই। সেখানেই সকল রেজিস্টার যাচাই বাছাই করে কাজ সম্পন্ন করা হয়। এরপর শিক্ষকদের হাতে মঞ্জুরিপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রতি দুই মাস পর পর উপজেলায় গিয়ে এই কাজটি করছি। এতে শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ হয়েছে। সহজেই তারা পেনশন ও পিআরএল পাচ্ছেন। এটি অব্যাহত রাখবো। ভবিষতে অন্য জেলায় গেলেও এই সুবিধা চালু রাখবো। এটি আমার স্বপ্ন।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে যশোর জেলায় ১০৫জন শিক্ষককে পিআরএল ও পেনশন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে অভয়নগরে ৬জন, কেশবপুরে ৮জন, চৌগাছায় ১২জন, ঝিকরগাছায় ১৫জন, বাঘারপাড়ায় ৫জন, মণিরামপুরে ১৮জন, শার্শায় ১৪জন ও সদর উপজেলায় ২৭জন। চাকরি জীবন শেষে টেনশন ও হয়রানি দূর করতে উপজেলা অফিসে বসেই যাতে পেনশন ও পিআরএল মঞ্জুরি শিক্ষকরা পান সেই উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিদুল আলম। ঘুষ ছাড়াই হয়রানিমুক্ত ও দোরগোড়ায় সেবা পেয়ে খুশি শিক্ষকরাও।

উপকারভোগী চৌগাছার আড়ারদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক জানান, পাওনা পেনশনের টাকা উত্তোলন নিয়ে টেনশনে ছিলেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করি। সেখান থেকে জানানো হয় ৩১ ডিসেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম নিজে এসেই পেনশন মঞ্জুরি কাগজ তুলে দিবেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব কাজ সম্পন্ন করে ওই দিনই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেই পেনশন মঞ্জুরি হাতে তুলে দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজে এসে পেনশনের মঞ্জুরির কাগজপত্র দিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিরল। শিক্ষকতা জীবনে এই প্রথম দেখলাম উপজেলায় বসে পেনশন, পিআরএল কাগজপত্র পাওয়া যায়।

চৌগাছার বেড়গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাপী রানীও কোন ঘুষ ছাড়াই সহজেই উপজেলায় বসে পিআরএল কাগজ পেয়েছেন। এজন্য তিনি শিক্ষা কর্মকর্তাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।

তার দাবি, চাকরি জীবনের শেষে পিআরএল ও পেনশনের ভাতার টাকা উত্তোলন নিয়ে সবাই টেনশনে থাকে। নানাভাবে হয়রানির শিকারও হয়। কিন্তু বর্তমান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উদ্যোগে সেই টেনশন ও হয়রানিমুক্ত হয়েছেন শিক্ষকরা।

 

 

 

রাইজিংবিডি/ যশোর/৮ জানুয়ারি ২০১৯/ বি এম ফারুক/টিপু

Walton Laptop