ঢাকা, সোমবার, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৭ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ভূমি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব জমা দিতে নির্দেশ

রেজাউল করিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-১২ ১:৩২:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-১৩ ১১:১৯:৫৯ এএম
Walton AC 10% Discount

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : ভূমি মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, ‘২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সারা দেশের ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের হিসাব জমা দিতে হবে। দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। যারা সততার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন তারা থাকেন, না পারলে অন্যত্র চলে যান।’

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের এই সংসদ সদস্য।

জনগণের যে কেউ প্রশ্ন করলে জবাব দিতে বাধ্য থাকবেন বলে জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘সারা দেশে ভূমি অফিসে অনেক সমস্যা রয়েছে। কর্মকর্তাদের সাহস দিতে চাই। মাঠ পর্যায়ে হাত দিচ্ছি। উপজেলা, ইউনিয়নের সব ভূমি অফিসকে সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসব। ভয়েস রেকর্ডিংয়ের সুযোগ রাখব বিভিন্ন পয়েন্টে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকব।’

‘আমি মনে করি, যারা অভ্যাস ছাড়তে পারবে না তাদের কেটে পড়া উচিত। আমি এসেছি সম্মানের জন্য। দুর্নীতি যেদিন স্পর্শ করবে সেদিন হবে আমার শেষ দিন। যে কেউ প্রশ্ন করলে জবাব দিতে বাধ্য থাকব। আমি সবার সেবক হিসেবে থাকতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে আমাকে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। তখন অভিজ্ঞতা ছিল না। তবুও নিজস্ব উদ্যোগে অনেক কাজ করেছি। ওই সময় অনেক ভালো কাজ করেছি। ভূমি মন্ত্রণালয়ে জটিলতা, হয়রানি কাটাতে অটোমেশনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এর সুফল পেতে থাকবে মানুষ।’

তদবিরে বিশ্বাস করেন না উল্লেখ করে সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘যা কপালে থাকবে তা-ই হবে। তিনবার সংসদ সদস্য হয়েছি। নির্বাচনের পর ঢাকায় দৌড়াইনি। এলাকার মানুষের সঙ্গে ভালো সময় কাটিয়েছি। শপথ গ্রহণের দিন ঢাকা যাই। শপথ নিয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। রোববার শেষ কর্মদিবসে অফিস করি। তখন মন্ত্রী হওয়ার ফোন আসে। আমি বিশ্বাস করি, সততার বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘শুভানুধ্যায়ীরা বিব্রতবোধ করে এমন কোনো কাজ করব না। দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি, বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব। প্রধানমন্ত্রী আমাকে পূর্ণমন্ত্রী করে পুরস্কার দিয়েছেন। আমি সততা, দক্ষতা, স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে কাজ করব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয় একসময় ছিল ডাম্পিং স্টেশন। কিন্তু এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ বছরের মধ্যে ভালো অবস্থানে নিয়ে আসব। অটোমেশনসহ সব উদ্যোগ গতিশীল করব। সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও দুর্নীতির ধারের কাছে থাকি না, বরদাশতও করি না। সবার আগে আপনারা আমার সম্পদ মিলিয়ে নেবেন। আর আমি আমার অধঃস্তনদের সততা দেখব। আমি চাই ভূমি মন্ত্রণালয়কে টপ ফাইভে নিয়ে যেতে। আগে এই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বিভিন্ন অফিস নিয়ে অনেক কথা শোনা যেত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আস্থা নিয়ে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এখনো সুযোগ আছে। যারা খারাপ কাজে ছিলেন ভালো হয়ে যান। সবাই মিলে আমরা আমাদের স্বপ্নের মতো করে সুন্দর বাংলাদেশ সাজাব।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, প্রাক্তন সভাপতি আলী আব্বাস, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, নির্বাহী সদস্য শহীদ উল আলম, শামসুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক পঙ্কজ কুমার দস্তিদার, তপন চক্রবর্তী, মোস্তাক আহমেদ, এম নাসিরুল হক, এজাজ মাহমুদ, শফিউল আলম, একরামুল হক, আলমগীর সবুজ, রেজাউল করিম, সুমন দাশ, আলমগীর অপু প্রমুখ।



রাইজিংবিডি/চট্টগ্রাম/১২ জানুয়ারি ২০১৯/রেজাউল করিম/সাইফুল

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge