ঢাকা, শুক্রবার, ৮ আষাঢ় ১৪২৬, ২১ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বাসক পাতার বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে ব্যাপক চিন্তাভাবনা

এম.শাহীন গোলদার : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৪-২০ ৯:৩৪:২৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-২৫ ৩:৪২:৪৯ পিএম
Walton AC 10% Discount

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় বাসক পাতার চাহিদা বেশ এবং চাষও লাভজনক। এ কারণে বাসক পাতার বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে ব্যাপক চিন্তাভাবনা চলছে।

সাতক্ষীরায় বাসক গাছ জন্মায় প্রচুর পরিমাণে। এসব পাতা এখন ওষুধ কোস্পানিগুলো কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এর ঔষধি-গুণ এত বেশি যে, এই পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে কাশির সিরাপ। বাসক পাতার নির্যাস, রস বা সিরাপ শ্লেষ্মা তরল করে নির্গমে সুবিধা করে। ফলে সর্দি, কাশি এবং শ্বাসনালির অসুখ সারাতে এটি বেশ উপকারী।

সাতক্ষীরার গ্রামগুলোতে এরই মধ্যে বেশ সাড়া পড়ে গেছে বাসক পাতা নিয়ে। গ্রামবাসী নিজ নিজ বাড়ির চারপাশে বাসক গাছ লাগাচ্ছে। গ্রামের দরিদ্র নারীরা প্রতিদিনই সংগ্রহ করছে শত শত বাসক পাতা। পরিচ্ছন্নভাবে রোদে শুকিয়ে তা বিক্রি করছে ওষুধ কোম্পানির কাছে।

বাসক পাতার এই চাহিদাকে ঘিরে সাতক্ষীরায় এই গাছটির চাষ ও বিক্রয় কার্যক্রম সম্প্রসারণে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর মৎস্য প্রদর্শনী খামারের প্রশিক্ষণ কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ব্লু গোল্ড প্রোগ্রামের আওতায় সভাটির আয়োজন করা হয়।



ফিংড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শামসুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্লু গোল্ড প্রোগ্রামের টিম লিডার গাই জোনস, ডেপুটি টিম লিডার আলমগীর চৌধুরী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নাসরিন আক্তার, স্কয়ার কোম্পানির কর্মকর্তা মওদুদ আহমেদ, ব্লু গোল্ড প্রোগ্রামের কো অর্ডিনেটর জয়নুল আবেদীন, বাসক পাতা উৎপাদনকারী বিউটি খাতুন, হাফিজুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় জানানো হয়, ২০১৪ সালে সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনি উপজেলায় পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কাজ শুরু করে ব্লু গোল্ড। এই প্রোগ্রামের আওতায় গঠিত পানি ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যদের আয় বর্ধনে ২০১৭ সালে প্রাথমিকভাবে বাসক পাতা চাষ নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার ভিত্তিতে ফিংড়ি ইউনিয়নের ছয় কিলোমিটার এলাকায় শুরু হয় বাসক পাতা চাষ। বাসক পাতা উৎপাদন ও বিক্রি করে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের তিন শতাধিক নারী বাড়তি আয় করছেন। গত ছয় মাসে প্রায় ১৬ মেট্রিক টন বাসক পাতা বিক্রি করেছেন তারা। বর্তমানে ফিংড়ি ইউনিয়নের গ্রামীণ মানুষের কাছ থেকে বাসক পাতা ক্রয় করে জার্মান প্রযুক্তিতে সিরাপ তৈরি করছে স্কয়ার গ্রুপ অব কোম্পানি।

সভায় আরও বলা হয়, ব্লু গোল্ড প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর করে কৃষি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি। ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আয়বর্ধক হিসেবে বাসক পাতা চাষ করে পরিবারের দারিদ্র্য ঘুচাবে গ্রামের মানুষ।



জানা যায়, ফিংড়ি ইউনিয়নের ছয় কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে বিপুল বাসক গাছ। যার কমপক্ষে ১০ হাজার বাসক গাছ ব্যবহৃত হচ্ছে জমির চারধারে কিংবা বাড়ির চারপাশে বেড়া দেওয়ার কাজে। প্রতি বছর ১০০ টন পাতা সংগ্রহ হচ্ছে এসব গাছ থেকে। বছরে এ থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২৬ টন শুকনো পাতা। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বাসক উদ্ভিদের চাষ শুরু হয়েছে। ফলে ফিংড়ি গ্রামের বহু নারীই বাসক পাতা সংগ্রহ করে এভাবে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিচ্ছেন।

বাসক পাতা চাষে বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। যেমন- এই উদ্ভিদ দিয়ে বাড়িঘরের বেড়া দেওয়া হয়। পাতা ছিঁড়লেও গাছ মরে যায় না। আবারও নতুন পাতা গজায়। সারা বছর চলে নতুন পাতা গজানো। ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে দিলেই জন্মায় নতুন গাছ। এ ছাড়া বিকট গন্ধের কারণে এতে ছত্রাক জন্মায় না। এমনকি পোকামাকড়ও ধরে না। খায় না পশুপাখিও। বরং এই পাতা দিয়ে ফলমূল মুড়ে রাখলে তা ভালো থাকে।

ফিংড়ি গ্রামের একজন জানালেন, ‘আগে মনে করতাম আবর্জনা। এখন তা সংগ্রহ করে বিক্রি করছি। এতে লাভ হচ্ছে বেশ।’ তিনি জানান, তিনি প্রতি কেজি কাঁচা পাতা ৫ টাকা দরে কিনছেন। শুকিয়ে বিক্রি করছেন ৩৫ টাকায়।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের  উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. নাসরিন আক্তার  বলেন,  ‘বাসকের বৈজ্ঞানিক নাম আঢাটোডা বাসিকা। এটি ঔষধিগুণ সম্পন্ন একটি উদ্ভিদ। এর পাতা ও ফলে এক ধরনের দুর্গন্ধ আছে। যে কারণে তা ব্যবহার করলে ছত্রাক রোধ করা যায়। তা ছাড়া এর ঔষধিগুণ খুব বেশি। এসব গুণের কারণে বাসক বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বাংলাদেশেও। ভারতের তামিলনাড়ুতে বাসকের ব্যাপক চাষ রয়েছে। বাসক উদ্ভিদের জন্ম ও বৃদ্ধিতে সাতক্ষীরার মাটি অনুকূল। বেশি বেশি করে বাসক গাছ লাগালে এর পাতা দেশের ওষুধ শিল্পে  অবদান রাখা ছাড়াও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে।’



রাইজিংবিডি/সাতক্ষীরা/২০ এপ্রিল ২০১৯/শাহীন গোলদার/শাহ মতিন টিপু

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge