ঢাকা, সোমবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২০ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

এলোমেলো ব্যাটিংয়ে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-১৬ ৭:১৪:৩৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-১৭ ৯:৫৭:৪২ এএম
ম্যাচের একটি দৃশ্য ( ছবি : মিল্টন আহমেদ, কলম্বো থেকে)

ইয়াসিন হাসান, কলম্বো থেকে : প্রভাতের সূর্য সব সময় পুরো দিনের ইঙ্গিত দেয় না। কখনো হাসায়, আবার কখানো কাদাঁয়। পূর্ব দিক থেকে উদিত সূর্য মধ্য গগণে এসে হাসিয়েছিল বাংলাদেশকে। পশ্চিমে হেলে পড়তেই কাঁদালবাংলাদেশকেই। মাঝের সময়টায় সূর্যর প্রখর তাপের সঙ্গে শ্রীলঙ্কানদের পুড়িয়েছিল বাংলাদেশ।

কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ২১৪। পি. সারা ওভাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দল প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩৩৮ রান। বাংলাদেশ পিছিয়ে ১২৪ রানে। সাকিব আল হাসান ১৮ ও মুশফিকুর রহিম ২ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।



দিন শেষের স্কোর দেখে হয়ত ক্রিকেটপ্রেমিরা খুশি হবেন না। কিন্তু দিন শেষ হবার ৪ ওভার আগেও বাংলাদেশের হাতে ছিল কলম্বো টেস্টের নাটাই। শেষ ৪ ওভারে বাংলাদেশ ২৬ রান তুলতে হারিয়েছে ৩ উইকেট। আউট হতে হতে বেঁচে গিয়েছেন সাকিব আল হাসান! শেষ দুই ওভারে সাকিব দুবার ক্যাচ তুলেছেন। শ্রীলঙ্কার ফিল্ডিং ‘বাজে’ বলেই স্বস্তিতে বাংলাদেশ। অন্যথায় ৪ উইকেট হাতে রেখে দিন শেষ করতে হত টাইগারদের।



শুরুটা হয়েছিল ইমরুল কায়েসকে দিয়ে। ইনজুরি থেকে ফিরে ২২ গজের ক্রিজে দারুণ সময় কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠ্যাৎ মনোসংযোগ হারিয়ে বসলেন। চায়নাম্যান লাকসান সান্দাকান গুগলিতে পুল খেলতে গিয়ে এলবিডাব্লিউ হন ৩৪ রানে। এর আগে অবশ্য লাকমালের বলে ২৫ রানে ডিপ স্কয়ার লেগে জীবন পেয়েছিলেন। শ্রীলঙ্কা দলের সেঞ্চুরিয়ান চান্দিমাল জীবন দিয়েছিলেন ইমরুলকে। কিন্তু দ্বিতীয় জীবন পেয়েও পুরনো ভুলে ইমরুল আউট। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ক্রিজে আসেন তাইজুল ইসলাম। তাইজুলকেও গুগলিতে আমন্ত্রণ জানান সান্দাকান। তাইজুল এলবিডাব্লিউ হলেও ভারতের আম্পায়ার রবী সাড়া দেননি। ডিআরএসের সুবিধা নিয়ে তাইজুলের উইকেট পান সান্দাকান।



তাইজুলের পর ক্রিজে আসেন সাকিব। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার মুখোমুখি হ্যাটট্রিক বলের। কোথায় একটু ধৈর্য্ ধরে খেলবেন সাকিব, সেখানে সাকিব শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। হ্যাটট্রিক বলটি স্লগ সুইপ করে মারলেন চার। এক ওভার পর সান্দাকানের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল টেনে আবারও স্লগ সুইপ। এবার বল ব্যাটের মাঝে লেগে হাওয়ায় উঠে যায়। হাতেরমুঠোয় থাকা ক্যাচ সহজেই মিস করলেনথারাঙ্গা, বাংলাদেশকে বাঁচিয়েও দিলেন। সান্দাকানের ওভারের পরপরই সাব্বিরকে আউট করেন লাকমাল। নিজের মত করে ফিল্ডিং সাজিয়ে শর্ট বলে সাব্বিরকে করে ফাঁদে ফেলেন ডানহাতি এ পেসার। সাব্বিরের আউট হওয়া ডেলিভারির আগে ফিল্ডার ডি সিলভা ছিলেন কাভারে। সেখান থেকে ডি সিলভাকে লেগ গালিতে নিয়ে আসেন লাকমাল। লাকমাল শর্ট বল করলেন গায়ের উপর। সাব্বির পুল করতে গিয়ে টাইমিং মিস করে ক্যাচ দেন ডি সিলভার হাতে। তখন সাব্বিরের রান ৫৪ বলে ৪২। এরপর সাকিব আল হাসান ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ দুবার আউট হতে চাইলেও ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় বেঁচে যান।



দিনের শেষটা বিষাদময় হলেও প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল গৌরবের। তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার ৯৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান লঙ্কান বোলারদের দেখে শুনে খেলেন চা-বিরতির কিছু সময় আগ পর্যন্ত। চা-বিরতির দুই ওভার আগে তামিম ইকবাল এলবিডাব্লিউ হন হেরাথের বলে। লঙ্কান অধিনায়কের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হন তামিম। এলবিডাব্লিউর আবেদনে সাড়া দেননি রবী। কিন্তু ডিআরএসে কপাল খুলে শ্রীলঙ্কার। ৪৯ রান  করা তামিমের উইকেট যাওয়ার পরও আধিপত্য ধরে রাখে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে ইমরুলকে সঙ্গে নিয়ে ৩৫ রানের জুটি গড়েন সৌম্য সরকার।



টানা তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সৌম্য ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন বড় ইনিংসের। কিন্তু কিসের কি? নিজের উইকেট আত্মাহুতি দেন সৌম্য। সান্দাকানের ওভারের দ্বিতীয় বলে দারুণ এক চারে ৫৭ থেকে ৬১ এ পৌঁছান সৌম্য। পরের বলটি ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে গিয়ে সান্দাকানের গুগলি মিস করে বোল্ড হয়ে যান। ১২১ বলে সৌম্যর ব্যাট থেকে আসে ৬১ রান।

এর আগে দিনের শুরুতে বাংলাদেশ সাফল্য পেয়েছিল সাকিব আল হাসানের হাত ধরে। প্রথম দিন ১৮ রানে অপরাজিত থাকা রঙ্গনা হেরাথ ৭ রান যোগ করে আউট হন সাকিবের বলে। স্লিপে হেরাথের ক্যাচ ধরেন সৌম্য সরকার। নবম উইকেটে চান্দিমালকে দারুণ সঙ্গ দেন সুরাঙ্গা লাকমাল। ৫৫ রান যোগ করেন ৮৯ বলে। এ সময়ে চান্দিমাল ক্যারিয়ারের অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন। তাইজুলের বলে কভারে বল পাঠিয়ে এক রান নিয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিকাল ফিগার স্পর্শ করেন।



অসাধারণ ধৈর্য্য্ ও দারুণ ব্যাটিং করে ২৪৪ বলে তুলে নেন সেঞ্চুরি। এরপর দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় আক্রমণাত্মক পথ বেছে নেন। তাতে সফলও তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১০ চার ও ১ ছক্কায় ১৩৮ রান করেন চান্দিমাল। পুরো ইনিংসটি সাজান ৩০০ বলে।

চান্দিমাল ৩০৫ রানে আউট হওয়ার পর স্কোরবোর্ডে আরও ৩৩ রান যোগ করে শ্রীলঙ্কা। সুরাঙ্গা লাকমাল ২৮ ও সানদাকান করেন ৫ রান। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে শুভাশীষের বলে ৩৫ রানে আউট হন লাকমাল। শুভাশীষের শর্ট বল পুল করতে গিয়ে থার্ডম্যান অঞ্চলে ক্যাচ ধরেন সৌম্য সরকার।



বল হাতে মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট নেন সাকিব, মুস্তাফিজ ও শুভাশীষ।

পি. সারা ওভালে বাংলাদেশের এর আগে সর্বোচ্চ রান ছিল ১৯১। এদিন সৌম্য, তামিম ও সাব্বিরদের কল্যাণে সহজেই পূর্বের রেকর্ড টপকে যায় বাংলাদেশ। শেষ বিকেলে এলোমেলো ব্যাটিংয়ে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। রাজ্যের সকল চাপ এখন সাকিব-মুশফিকের কাঁধে।



রাইজিংবিডি/কলম্বো (শ্রীলঙ্কা)/১৬ মার্চ ২০১৭/ইয়াসিন/আমিনুল

Walton
 
   
Marcel