ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:
দার্জিলিংয়ের পথে-১০

কালিম্পং পাইন ভিউ ক্যাকটাস নার্সারি

উদয় হাকিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-৩০ ১:০৯:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-৩০ ৩:৪১:৪১ পিএম
পাইন ভিউ ক্যাকটাস নার্সারির সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা ছবি তোলায় ব্যস্ত
Walton AC 10% Discount

উদয় হাকিম : ত্রিবেণী থেকে কোথাও যেতে ইচ্ছে করছিলো না। বৃষ্টির কারণে থাকাও যাচ্ছিলো না। মাথা ভিজে গিয়েছিলো বৃষ্টির জলে। ঠান্ডাও ছিলো। ইচ্ছে ছিলো এমন রোমান্টিক পয়েন্টে আরো কিছু সময় থাকি। কিন্তু কালিম্পং যেতে তখনো অনেকটা পথ বাকি।

মেঘগুলো চারপাশ ঘিরে ছিলো। জানলা দিয়ে হাত বাড়াতেই নরম ভেজা মেঘ হাতকে ভিজিয়ে দিচ্ছিলো। বর্ষাকালে বান্দরবানের নীলগিরি গিয়ে একবার এরকম মেঘ দেখেছিলাম। আমার খুব প্রিয় একটা গান ‘মেঘ এসে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়..। গোলাম আলীর গাওয়া। লিখেছিলেন বাংলাদেশের গীতিকার আসাফউদ্দৌলা। ইচ্ছে ছিলো ওই সময় গানটি শোনার।

তিস্তা আর রাঙগিতের স্রোত মনের নদে ধারণ করে চলছিলাম। ঢালু রাস্তা ধরে নিচের দিকে নামছিলাম। বাংলাদেশে বান্দরবানের রুমা উপজেলা থেকে বগা লেক পর্যন্ত নতুন একটি রাস্তা হচ্ছে। কিছুদিন আগে গিয়েছিলাম সেখানে। কিন্তু রাস্তাগুলো একেবারেই অবৈজ্ঞানিক। প্রায় সব ছড়া বা খালে ছোট্ট একটা কালভার্ট। তার দুপাশে খাঁড়া পাহাড়। নামতে হলে অনেকটা উপুর হয়ে নামতে হয়। উঠতে হলে চিত হয়ে। ওঠা বা নামার সময় একটু এদিক সেদিক হলেই পগাড় পাড়। সঠিক প্রকৌশল বিদ্যার প্রয়োগ সেখানে নেই বলেই মনে হলো। অথচ কালিম্পং এ দেখছি এর ঠিক উল্টো চিত্র। এমনকি দার্জিলিংয়ের চেয়েও অনেক বেশি পরিকল্পিত মনে হচ্ছে কালিম্পংকে। দার্জিলিংয়ের অনেক রাস্তা বিপজ্জনক খাঁড়া। যদিও তা বান্দরবানের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। আর কালিম্পং একেবারেই নিরাপদ। নেপালের পোখারা থেকে কাঠমান্ডু এই দীর্ঘ পথটিও অনেকটা নিরাপদ। এরকম নিরাপদ পথ তৈরি করতে পারলে আমাদের বান্দরবান এসব জায়গার চেয়ে কোনো অংশেই পিছিয়ে থাকতো না।

নামছিলাম সুষম ঢাল বেয়ে। তিস্তার পশ্চিম পাড়ে পাহাড় থেকে নামার সময় একটা আন্ডারপাস পার হলাম। একই জায়গায় চক্কর দিয়ে তৈরি। সেটি এতো চমৎকারভাবে পাহাড়কে ঘিরে করা হয়েছে যে উপর থেকে নিচে নামতে কোনো সমস্যা হয়নি। বরং বাঁকটি উপভোগ্যই মনে হচ্ছিলো। ব্রিজের উপর দিয়ে তিস্তা পার হলাম। চলে এলাম পূর্ব পাড়ে। এই তিস্তা নদীই সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করেছে। তিস্তার উৎপত্তি অবশ্য উত্তর সিকিমের সু লামো লেক থেকে। যদিও উৎসস্থলে জলের রঙ নীলাভ। আসলে শীতকালে সব পাহাড়ি নদীকেই নীলাভ মনে হয়। স্বচছ জল এবং বনানীর নীল মিলেই এই প্রেমের রঙ।

এই অঞ্চলের পুরোটাই রেইন ফরেস্ট। রেইন ফরেস্ট শব্দটা প্রথম শুনেছিলাম জিম্বাবুয়ে গিয়ে। ভিক্টোরিয়া ফলস সংলগ্ন বনকে রেইন ফরেস্ট বলা হয়। তীব্র বেগে অনেক উপর থেকে বিশাল জলরাশি আঁছড়ে পড়ছিলো জাম্বেজি নদীতে। জলের চাপে পানি বাষ্প হয়ে উপরে উঠে যাচ্ছিলো। আর তা বৃষ্টি হয়ে অনবরত ঝরছিলো সংলগ্ন বনভূমিতে। যে কারণে ওটাকে রেইন ফরেস্ট বলা হচ্ছিলো। সাধারণ ফরেস্ট আর রেইন ফরেস্টের একটা মৌলিক পার্থক রয়েছে। রেইন ফরেস্টে প্রচুর বৃষ্টি হয়। ফলে গাছগুলো হয় অনেক বড়, উঁচু এবং সতেজ পাতা বিশিষ্ট। আর সাধারণ বনের গাছগুলো থাকে বেঁটে, চিকন এবং পাতা বিবর্ণ।



নার্সারিতে বড় বড় গোলাকার ক্যাকটাস

রাঙগিত নদীর আরেকটি ধারা রাম্মান। রাম্মান নদীর উৎপত্তি দার্জিলিংয়ের সিঙ্ঘালিলা এলাকা থেকে। সব ধারা মিলিয়ে তিস্তা এগিয়ে গেছে প্রবল স্রোত নিয়ে। অনেকটা ভাটিতে বিশাল বেসিন (বিলের মতো জায়গা) সেবক ভ্যালিতে পাহাড় ছেড়ে সমতলে এসেছে তিস্তা।

আমরা তিস্তা পার হচ্ছিলাম। ব্রিজটির নামও তিস্তা ব্রিজ। সদ্য ঘোলা উতলা জল দেখে ভেতরটা কেমন আনচান করে উঠলো। ড্রাইভারকে বলে গাড়ি থামালাম ব্রিজের ওপর। দৃষ্টির আড়ালে বনের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে নব যৌবনা তিস্তা। হালকা বৃষ্টির ছাঁট মোহনীয় করে তুলেছিলো মুহূর্তটি। সেলফি নিলাম। মনটা হঠাৎ চঞ্চল হয়ে উঠলো। দুপাশে মাথার উপরে পাহাড়, মেঘ। মাঝখানে মোহময়ী তিস্তা। গাড়িতে ওঠার তাড়া। মন বলছিলো, দাঁড়া- একটু দাঁড়া। আবারো মনে পড়লো গোলাম আলীর সেই গান - ‘তোমার আমার দেখা কোনোদিন বৃষ্টিতে হবে না/ যদি হতো জ্বলে যেতো বৃষ্টিতে সবকিছু তখনি/ আগুনের ধোঁয়ায় ধোঁয়ায়? মেঘ এসে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় . . .

নদী পার হয়ে হাইওয়েতে উঠলাম। এটি শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং এর হাইওয়ে। গাইড পার্থ বাসনেত জানালেন, সেখান থেকে সিকিম হয়ে চায়না বর্ডার ৩০০ কিলোমিটার হবে। কালিম্পং থেকে সিকিম যাওয়ার রাস্তাটা পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিষয়। দুপাশের সৌন্দর্য দেখতেই ব্যস্ত থাকতে হয় ট্যুরিস্টদের। সে সৌন্দর্য থেকে চোখ ফেরানো যায় না। অথবা চোখ ফেরানো গেলেও মন ফেরানো যায় না। সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হবে মনের খোলা আয়না।

দক্ষিণ-পশ্চিমে চলে গেছে কলকাতার রাস্তা। দক্ষিণ-পূবে শিলিগুড়ি। এই রাস্তা ধরেই যাওয়া যাবে সিকিম, ভুটান, মেঘালয়, আসামসহ ভারতের সেভেন সিস্টারখ্যাত সব রাজ্যে। এটি ভারতের ৩১ নম্বর হাইওয়ে।

নদীর পূর্ব পাড়ে গিয়ে কেবলি উপরের দিকে উঠছিলাম। মনে মনে বলতে হচ্ছিলো সেই কই কথা। কত উঁচু পাহাড়ে উঠছি, অথচ রাস্তাগুলো সুষম ঢালের। টিমের মুরব্বি জাহিদ হাসান বললেন, কত সুন্দর, চমৎকার রাস্তা। কোথাও কোনো ভাঙা নেই। বিপজ্জনক গর্ত নেই। তার মতে, এসব রাস্তার গার্ডিয়ান আছে। তাই রেগুলার তত্ত্বাবধান করা হয়। বাংলাদেশের রাস্তার গার্ডিয়ান নেই।

পাহাড়ি হাইওয়ে থেকে বাঁ দিকে বাঁক নিয়ে জিপ উঠতে লাগলো আরো উঁচুতে। সেটি ছিলো সরু রাস্তা। পার্থ বললেন, এসে গেছি কালিম্পং। হোটেলে যেতে লাগবে মাত্র দশ মিনিট। তবে তার আগে আমরা যাব আরেকটি স্পটে। কি সেটি? ক্যাকটাস ফার্ম। ভারত জুড়ে খ্যাতি রয়েছে কালিম্পংয়ের এই ক্যাকটাস ফার্ম বা নার্সারির।

রাস্তার সঙ্গেই নার্সারিটি। নাম ‘পাইন ভিউ নার্সারি’। এখানে পাইন কতটা জনপ্রিয় এবং সৌন্দর্যের প্রতীক যে নার্সারির নামের সঙ্গেও পাইন জুড়েছে। ধারণা ছিলো, পাইন হচ্ছে ইউরোপের গাছ। কিন্তু ভারতে এতো পাইন গাছ রয়েছে ভাবতে পারিনি। যাক, বলছিলাম ক্যাকটাস নার্সারির কথা। ধান ভানতে শিবের গীত এসে যাচ্ছিলো।

ক্যাকটাসতো অনেকেই চেনেন। এটি এক ধরনের উদ্ভিদ। নাম যেহেতু ক্যাকটাস, সহজেই অনুমান করা যায়, কাঁটার টাচ আছে। মানে এটি কাঁটা জাতীয় উদ্ভিদ। এর শরীর জুড়ে কেবল কাঁটা আর কাঁটা। ছোট-বড়, লম্বা-বেঁটে, চিকন- পেটুক নানা সাইজের, নানা জাতের ক্যাকটাস রয়েছে। বিশ্বে ১৭৫০ প্রজাতির ক্যাকটাস আছে। তবে এদের জন্মস্থান হিসেবে আমেরিকাকে ধরা হয়। কানাডাতেও কিছু প্রজাতির আদি নিবাস। আফ্রিকা এবং এশিয়ার শ্রীলঙ্কাতেও রয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো- ক্যাকটাস নেই কোন দেশে? কম বেশি সব দেশেই আছে। দেখতে সুন্দর, সতেজ বলে ভালোবাসে সবাই।



ক্যাকটাসের মাথায় ফুটে আছে রঙিন ফুল

আমার কাছে ক্যাকটাসকে আফ্রিকান উদ্ভিদ বলেই মনে হয়। কারণ চেহারা দেখেই ধারণা জন্মে এগুলো উষর মরু কিম্বা শুষ্ক মাটির উদ্ভিদ। ও হ্যাঁ, মরুভূমির ক্যাকটাসে নাকি কাঁটা আরো ধারালো হয়। পাতাগুলো বেশি পুরু থাকে। অনেক ক্যাকটাসের বড় ফুলও হয়। এমনকি ফলও নাকি হয়! ক্যাকটাস ফল কারা খায় জানেন? কিছু খেতে পারে মানুষও। এছাড়া ছাগল, পিঁপড়া, ঈদুর, বাঁদুর এরাও ক্যাকটাস ফল খায়। এদের (ক্যাকটাস) অভিযোজন ক্ষমতা খুব বেশি। যে কোনো পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারে। এজন্য মরুভূমিতে ক্যাকটাস দিব্যি হেসে খেলে বেড়ে ওঠে।

ক্যাকটাস নামটি কোত্থেকে আসলো জানেন? প্রাচীন গ্রিক শব্দ ককটক থেকে এর নামকরণ। ল্যাটিন শব্দ কাকটস। কুমিরের মতো দেখতে উদ্ভিদের এরকম নাম দেয়া হয়। পরে কাঁটাজাতীয় উদ্ভিদগুলোও পেয়ে বসে নামটি। সংক্ষেপে এদের ক্যাকটি নামেও ডাকা হয়। এটি আসলে আদুরে নাম। এরা জল শোষণ করতে পারে অনেক বেশি। খুব ছোট মাছির মতো ক্যাকটাস যেমন রয়েছে; তেমনি ৬৩ ফুট উচ্চতার ক্যাকটাসও আছে!

নার্সারিটা খুব একটা বড় নয়। কিন্তু এর সংগ্রহ অবশ্যই বিশাল। মাঝখানে লম্বা লন। দুপাশে ক্যাকটাস বন! বায়ে গ্রিন হাউজ করা ছোট ছোট ছাউনি। ডানে বড় জায়গা নিয়ে বিশাল প্ল্যান্টেশন প্ল্যান্ট।

টিমের সবাই ধাই ধাই করে সামনে চলে যাচ্ছিলো। আমি সময় নিয়ে ধীরে ধীরে দেখছিলাম। এতো সাইজের, এতো রঙের, এতো ধরনের ক্যাকটাস আছে আমার ধারণা ছিলো না। অনেকটা বিস্ময় নিয়ে দেখছিলাম! মোবাইলে ছবি তুলছিলাম। একই সময়ে কিছু ভারতীয় ট্যুরিস্ট ছিলো কয়েকটি গ্রুপে। তারাও দেখে মজা পাচ্ছিলেন। ছবি তুলছিলেন। আমিও কম যাইনি কিছু। মোবাইলের স্পেসগুলো ভরে যাচ্ছিলো।

অন্যরা চলে গেলেও জনি আর সাইফুল ছিলেন আমার সঙ্গে। জনিকে মোবাইল দিলাম আমার কিছু ছবি তুলতে। এরপর সাইফুলকে। এই সাইফুল ছেলেটাকে দেখলেই একটা বিজ্ঞাপনের কথা মনে পড়ে। হাজব্যান্ড দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিলেন। উসকো খুশকো চুল, ভেঙ্গে পড়া অবয়ব নিয়ে বেচারা ফিরে আসে বাসায়। কলবেল টিপতেই দরজা খুলে দেয় বউ। লোকটি বলে, আমি সাইফুল, তোমার হাজব্যান্ড। কই একটু সহানুভূতি নিয়ে, আহারে ওহারে বলে স্বামীকে বরণ করবে; বনলতা সেনের মতো জিজ্ঞেস করবে ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন’। তা না, সঙ্গে সঙ্গেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বউ। নিমিষে শুনিয়ে দেয় একগাদা কথা। আমাদের কোনো খোঁজ খবর নাও না, কি খাই না খাই। এতোদিন পর আসছে আমি সাইফুল! যাও বাজার নিয়ে আসো! সে কি ঝাড়ি!



এখানে বসতে গিয়েই লেগেছিলো কাঁটার আঘাত

সাইফুল ছবি তুলছিলেন। আমি পেছাচ্ছিলাম। কোন পজিশনে বসলে ছবি ভালো হবে দেখছিলাম। এভাবে বসতে বসতে বেখেয়ালে ভারসাম্য হারিয়ে গোলাকার একটি ক্যাকটাসের ওপর পশ্চাৎদেশ পড়ে গেলো। আর কই যাই! বড় কয়েকটি কাঁটা ভেঙ্গে গেলো। প্যান্ট ভেদ করে সূঁচের মতো আঘাত হানলো অসংখ্য কাঁটা। এ যেন বিনা মেঘে ঠাঁটা! ভাগ্য ভালো জিন্সের প্যান্ট পরা ছিলো। না হলে হাসপাতালেও যেতে হতে পারতো। সাইফুল আর জনি এসে পেছন থেকে প্যান্টের কাঁটা ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। ছোট কাটাগুলো ছিলো সত্যিই ব্যাথাজাগানিয়া!

চার-পাঁচটা গ্রিন হাউজ ভিজিট করলাম। একেকটাতে একেক রকম ক্যাকটাস। কালার, সাইজ, প্রজাতি ইত্যাদি নানা ভাগে ভাগ করা। চেষ্টা করলাম প্রধানগুলোর ছবি নিতে। যারা ক্যাকটাস ভালোবাসেন, পছন্দ করেন তাদের জন্য জায়গাটি অসাধারণ। এখানে প্রবেশ করতে ২০ রুপির টিকিট লাগে। তবে আমরা প্যাকেজে গিয়েছিলাম বলে এধরনের স্বার্থ দেখছিলেন গাইড পার্থ। ১৫০ থেকে ৭৫০ রুপিতে ক্যাকটাস কেনার ব্যবস্থাও আছে। সত্যিকার অর্থে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য সত্যিই একটি আনন্দদায়ক স্থান এটি। কাঁটা ভালো না বাসলেও এখানে এলে যে কেউ ক্যাকটাসের প্রেমে পড়ে যাবেন।

নার্সারির পেছন দিকটাতে কিছুটা খোলা জায়গা আছে। গোলাকার একটা জায়গায় কিছু ফুল আর অর্কিড দেখা গেলো। ঝোঁপের মতো পাতাবাহারের সামনে বিশেষ করে কিছু নারীকে বেশ ভাব নিয়ে ছবি তুলতে দেখা গেলো।

সম্ভবত একটা বোগেনভেলিয়ার কলম ছিলো। চারা গাছ। কালো পলিথিনে মোড়া গোঁড়াটা। তার পাশে গিয়ে মিলটনকে বললাম ক্লোজ করে ছবি নিতে। ছোট জাহিদের (নারকেল) কিছু ছবি তুলে দিলাম। এবার কোচ জাহিদ ধরলেন তার ছবি তুলে দিতে। আমার হাতের ছবি নাকি ভালো আসে। দিলাম। আসলে ছবি শুধু তুললেই হয় না। লাইট জ্ঞান মাথায় নিতে হয়। ভাবতে হয় কম্পোজিশন। যেটা সবাই বোঝে না।

এরমধ্যে কয়েক প্রস্ত মেঘের খেলা হচ্ছিলো। অনেক উঁচুতে ছিলাম আমরা। পাহাড় ডিঙাতে নিচু থেকে উঁচুতে উঠতে হচ্ছিলো বেয়াড়া মেঘগুলোকে। মেঘেরা আমাদের গা ছুুঁয়ে চলে যাচ্ছিলো। হাত দিয়ে ধরা যাচ্ছিলো। এক পশলা চলে যেতেই আরেক পশলা আসছিলো। আশে পাশেই দুরন্ত মেঘ ভাসছিলো।


ক্যাকটাস নার্সারিতে গ্রুপ ছবি

আলভি আর সোহাগকে দেখা গেলো শ্যুটিং নিয়ে ব্যস্ত। মোবাইলে স্লো-মোশনে ভিডিও হচ্ছিলো। সম্ভবত ফিরোজ আলম কিংবা মিলটন আহমেদের এক্সপিরিমেন্ট। ল্যাবে গিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি হয়ে যেতে পারে। একটা বেঞ্চে দাঁড়িয়ে গ্রুপ ছবি তুললাম। এরপর গ্রুপ সেলফি।

ছবি তোলার উৎসব তখনো চলছিলো। জনি আর মিজানকে নিয়ে গেলাম নার্সারির অন্য পাশে। ওদিকটায় কর্মকর্তাদের থাকার ব্যবস্থা। মাঝখানে একটি অফিসঘর। জাংলা বা মাঁচার মতো করে কিছু ক্যাকটাস ছোট টবে ঝুলছিলো, দুলছিলো। বড় গ্রিন হাউজটাতে গিয়ে দেখলাম, বিশাল একটা মাঠের মতো। সেখানে নানা জাতের ক্যাকটাসের চাষ বা ব্রিডিং হচ্ছিলো। এটিকেই ক্যাকটাস প্ল্যান্ট বলেছিলাম শুরুতে। দেখলাম এর পেছন দিকটায় মানকচু বা ফ্যানকচুর মতো বড় কিছু ক্যাকটাস।

কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম অন্য জগতে। ক্যাকটাস বন ছাড়তে মন চাইছিলো না। কিন্তু কালিম্পং এর আসল সৌন্দর্য উপভোগ বাকি ছিলো তখনো।

** মধুচন্দ্রিমার লামাহাটা, অনিন্দ্য সুন্দর ত্রিবেণী
** দার্জিলিংয়ের বাতাসিয়া লুপ
** দার্জিলিং : অদম্য ক্ষমতার অধিকারী, বজ্রপাতের শহর
** দার্জিলিংয়ের আইনক্স
** দার্জিলিংয়ের চা বাগান আর জুলজিক্যাল পার্ক
** দার্জিলিংয়ের পিস প্যাগোডা, রক গার্ডেন
** পৌঁছলাম স্বপ্নের দার্জিলিং
** সড়ক পথে ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ মে ২০১৮/অগাস্টিন সুজন

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge