ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪, ২৮ জুলাই ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

কেজিতে আড়াই টাকা বেড়েছে মোটা চালের দাম

আশরাফ : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-১৭ ১২:৫২:৪৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-১৭ ১২:৫২:৪৭ পিএম

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : গুটিকয়েক মিল মালিকের কারসাজিতে মোটা চালের বাজারে হঠাৎ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে আড়াই টাকা পর্যন্ত মোটা চালের দাম বেড়েছে।

মিল মালিক ও কৃষকরা বলছেন, চলতি বোরো মৌসুমে দেশে মোটা ও মাঝারি মানের চাল আবাদ তুলনামূলক কম হয়েছে। এ কারণে নিত্যপণ্যটির উৎপাদন কমতে পারে। এর প্রভাবে হয়তো পড়েছে চালের বাজারে।

তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি গুদাম, মোকাম ও পাইকারি বাজারে বিপুল পরিমাণ চাল মজুদ রয়েছে। এ অবস্থায় বাজারে মোটা চালের দাম কোনোভাবেই বাড়ার কথা নয়। তাদের অভিযোগ, গুটিকয়েক মিল মালিকের কারসাজিতে চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠছে।

রমজান সামনে রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এখনই বাজার তদারকি কার্যক্রম এবং পর্যালোচনা বৈঠক শুরু করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

রাজধানীর বাবুবাজারের চালের আড়ত এবং কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সোমবার প্রতি কেজি মোটা চাল সর্বোচ্চ ৩৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে এই বাজারে একই মানের প্রতি কেজি চাল বিক্রি হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩৩ টাকায়।

বাজারে মোটা চালের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে হাস্কি, মিনিকেটও। গত সোমবার প্রতি কেজি হাস্কি চাল বিক্রি হয় ৪৩ টাকায়, আজ সোমবার সকালে সেই চাল ৪৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৪৯ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ পয়সা বেড়েছে মিনিকেট চালের দাম।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, দেশের বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা চাল ৩৭ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই চাল কেজিপ্রতি ৩২ থেকে ৩৪ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে মোটা চালের দর ওঠানামা করে মিল মালিকদের প্রভাবে। বর্তমানে মোটা চাল তৈরির উপযোগী ধানের মজুদ তাদের হাতেই বেশি। বেশি পরিমাণে শুল্ক আরোপ করায় ভারত থেকে চাল আসা অনেকটাই কমেছে।

এ অবস্থায় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, চলতি বোরো মৌসুমে মোটা চাল উৎপাদন কমতে পারে। বিষয় দুটি মাথায় রেখে এখন থেকেই চালের দাম বাড়াতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলছেন বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকির হোসেন রনি। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাল পরিবহন বাবদ ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে দাম কিছুটা বেশি।

কৃষি মার্কেটের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী কবীর হোসেন লিটন বলেন, আগামী দেড় মাসের মধ্যে বোরো মৌসুমের চাল বাজারে আসবে। মৌসুম শেষের পথে প্রতিবারই মোটা চালের দাম সামান্য বাড়ে। তবে এবার বেশ আগে ভাগেই বাড়তে শুরু করেছে। সরকারের এদিকে নজর দেওয়া উচিৎ।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ এপ্রিল ২০১৭/আশরাফ/উজ্জল

Walton Laptop