ঢাকা, বুধবার, ১১ শ্রাবণ ১৪২৪, ২৬ জুলাই ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

১ লাখ একর জমির সুবিধায় আসছে ভূমি ব্যাংক

এম এ রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-২০ ৬:৪৯:২৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-২০ ৭:১৩:০১ পিএম

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ভূমি ব্যাংক’ করছে সরকার।  এতে থাকবে ১ লাখ একর  বিনিয়োগ উপযোগী ভূমি। ব্যবসায়ীরা চাইলেই এতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। ভূমি ব্যাংকের জমির দাম হবে বাজার মূল্যের তিন ভাগের এক ভাগ।

বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে ‘রোড টু ২০৩০: স্ট্র্যাটেজিক প্রায়োরিটিজ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী এ তথ্য জানান।

ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও ডিসিসিআইর যৌথ আয়োজনে এ সেমিনার হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইর সভাপতি আবুল কাশেম খান।

পবন চৌধুরী বলেন, আমরা ল্যান্ড ব্যাংক করতে যাচ্ছি। এতে ১ লাখ একর ল্যান্ড থাকবে। যেখানে ব্যবসায়ীরা চাইলেই বিনিয়োগ করতে পারবেন। ল্যান্ড ব্যাংকের আওতায় জমির মূল্য হবে বাজার মূল্যের তিন ভাগের এক ভাগ। ইতিমধ্যে ৩৪ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ৭৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। ২৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে মাটি ভারাটসহ অন্যান্য সেবা সংযোগ প্রদানের কাজ চলছে। বেসরকারি খাতে তিনটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

পবন চৌধুরী জানান, বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে পর্যটন নগরী স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে নাফ নদীতে অবস্থিত একটি দ্বীপকে পর্যটন নগরী হিসেবে উন্মুক্ত করা হবে।

সেমিনারে প্যানেল আলোচক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা, দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার যে লক্ষ্য সরকারের আছে, তা পূরণ করতে হলে অবকাঠামো খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে সমানতালে এগিয়ে নিতে হবে। সাথে সাথে সুশাসনের চর্চা কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, অবকাঠামো শিল্পের যেকোনো কাজে একটা টাইম বাউন্ড থাকতে হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যবহৃত ইকুইপমেন্ট যথাসময়ে রাখতে হবে। কারণ, এটা না থাকলে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হবে। এজন্য বিশ্বস্ততা ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা নীতি থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, আমরা যদি ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে চাই, তাহলে শুধুমাত্র অবকাঠামো খাতে প্রতিবছর ২০-২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে ৮ শতাংশ উন্নীত হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের মেগা প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়নে ধীরগতি একটি মারাত্মক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, ভূমি, যোগাযোগ অবকাঠামোর অপ্রতুলতা, দক্ষ মানবসম্পদের অভাব এবং উচ্চ কর হারকে বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেন।

কয়লা নীতির দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নিজস্ব কয়লার ব্যবহার নিশ্চিতকরের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

ঢাকা চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের অবকাঠামো খাতে ৭৪ বিলিয়ন, যোগাযোগ খাতে ৩৬ বিলিয়ন, জ্বালানি খাতে ১১ বিলিয়ন, পানি ব্যবস্থাপনায় ১২ বিলিয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ২.১ বিলিয়ন, সেচ ব্যবস্থায় ৭.৭ বিলিয়নসহ বিভিন্ন সেক্টর বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। লক্ষ্য জানি, এখন শুধু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি।

সেমিনারের সভাপতি ইআরএফ সভাপতি সাইফুল ইসলাম দিলাল বলেন, আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কোথায় যেন একটা বাধা রয়েছে। সেটা চিহ্নিত করতে হবে। জনসম্পদকে কীভাবে জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়, তার উদ্যোগ থাকতে হবে। বাংলাদেশকে ৩০তম অর্থনীতির দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বিশেষ করে অবকাঠামো খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সেমিনারে ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের অর্থনীতি একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। সে সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। সেক্ষেত্রে অবকাঠামো খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, এখন অনেক নদী মারা যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য থাকছে না। এজন্য অবকাঠামো উন্নয়নে সড়ক পথের পাশাপাশি রেল ও নৌ-পথকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করা হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা। অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা। এতে জনগণেরও অনেক ক্ষতি হচ্ছে।”

ইংরেজি দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য বড় কাজ হলো ইনক্লুসিভ উন্নয়ন। যেটা কোয়ালিটি ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে আসতে পারে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে অনেক গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চ্যালেঞ্জগুলোকে চিহ্নিত করে মোকাবিলা করতে হবে।

মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআইর প্রাক্তন পরিচালক মতিউর রহমান, ডিসিসিআই পরিচালক খন্দকার আতিক-ই-রাব্বানী, আহ্বায়ক ইকরাম ঢালী, ডেইলি স্টারের সাজ্জাদুর রহমান, মানবকণ্ঠের বিজনেস এডিটর সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, নিউজ টুডের সিটি এডিটর বাদিউল আলম প্রমুখ অংশ নেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২০ এপ্রিল ২০১৭/এম এ রহমান/রফিক

Walton Laptop