ঢাকা, সোমবার, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২০ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের দৈন্যদশার মূল কারণ

এম এ রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৫-১৮ ৬:১৭:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৫-১৯ ৯:৩৫:৫১ এএম

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : রাষ্ট্রায়ত্ব এবং বিশেষায়িত ব্যাংকের মূলধনের অবস্থা খুবই খারাপ, ক্রমশ তা কমছে। খেলাপি ঋণই ব্যাংকিং খাতের বর্তমান দৈন্যদশার মূল কারণ বলে মনে করছেন এ খাত সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ হিসাবে, রাষ্ট্রায়ত্ব এবং বিশেষায়িত ব্যাংকের মূলধনের সঞ্চিতি ঘাটতি রয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের কারণে মূলধন ঘাটতি আরও বেড়ে যাবে। এ ঘাটতি মোকাবেলা ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ‘ট্রেজারি অপারেশনস অব ব্যাংকস-২০১৬’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এসব মন্তব্য করেন।

বিআইবিএমর মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমর অধ্যাপক নেহাল আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমর পরিচালক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব, এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হোসেন, দি সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক মঈনুদ্দিনসহ সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৬ সালে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। যা আন্তর্জাতিক হিসাবের তুলনায় দ্বিগুণ। পুনঃতফসিল নীতিমালায় ছাড় দেওয়ার কারণে খেলাপি ঋণ ব্যাপক হারে বাড়ছে। এছাড়া আরো কিছু কারণে ব্যাংকিং খাতের জন্য খেলাপি ঋণ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৩ সালে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তিন বছরের মধ্যে ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯  দশমিক ২৩ শতাংশ। এভাবে খেলাপি ঋণ বাড়াকে ব্যাংকিং খাতের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের বর্তমান দৈন্যদশার মূল কারণ। এ খেলাপি ঋণের কারণেই সুদের হার এখনো সাধারণের নাগালের বাইরে। একই সঙ্গে ভাল ঋণ গ্রহীতারা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ আদায়ে সর্বোচ্চ তদারকি করতে হবে। 

বিআইবিএমর মহাপরিচালক ড. তৌফিক বলেন, খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতে সর্বনাশ ডেকে আনছে। এ অবস্থার উত্তোরণ না হলে পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য চরম খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। এ ধরনের ঋণের কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাংকগুলো ভালো গ্রাহকদের কাছ থেকে চড়া সুদ নিচ্ছে।

এনআরবি ব্যাংকের এমডি মাহমুদ বলেন, ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের আরো সতর্ক হতে হবে। সব ব্যাংকের প্রধানদের ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর না দিলে ক্ষতির মুখে পড়ার আশংকা রয়েছে। সরকার ব্যাংকিং খাত নিয়ে ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলায়, যা মঙ্গলজনক নয়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ মে ২০১৭/এম এ রহমান/মুশফিক

Walton
 
   
Marcel