ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদী বাণিজ্যমন্ত্রী

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৯ ৮:০৬:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-২৯ ৮:০৬:০০ পিএম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : ডিজিটাল সুবিধায় রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি।

তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সব কাজ এখন অনলাইনে সম্পাদিত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য ইনফরমেশন পোর্টাল, গ্লোবাল ট্রেড ডানা চালু করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এখন অতি অল্প সময়েই ব্যবসায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারছেন। আমদানি ও রপ্তানি সহজ করতে বিমানবন্দর, সমুদ্র বন্দর, কাস্টমস, ভ্যাট ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে ২০২১ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ‘হাইলেভেল ডায়ালগ অন এনহানসিং রিজিওন্যাল ট্রেড থ্রো ইফেকটিভ পার্টিসিপেশন ইন দি ডিজিটাল ইকোনমি’ শীর্ষক ডায়ালগে প্রথম প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৩৪.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। এ বছর ৩৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্ভিস সেক্টরসহ এ রপ্তানি আয়ের পরিমাণ হবে ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি বলেন, পেপারলেস ট্রেডের সুবিধা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ এ চুক্তিতে স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বাণিজ্যে জটিলতা দূর এবং দ্রুত কাজ সম্পাদন করতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি অফিস, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অফিস, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোকে অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশের রপ্তানি বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বৈদেশিক বাণিজ্যে সক্ষমতা অর্জনে পেপারলেস ট্রেডসহায়ক ভূমিকা রাখবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়তে সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। আজ তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি তথা দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করে ভিশন ২০২১ ঘোষণা করেছেন। ২০২১ সালে বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল মধ্য আয়ের দেশ। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত দেশ।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সবক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করেছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৫ হাজারের বেশি ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়েছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটি ৯ লাখ এবং ৬ কোটি ৭ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ই-গভর্নেন্স, ই-কমার্স, ই-ব্যাংকিং সুবিধা দেশের মানুষ ভোগ করছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, ল্যান্ড রেজিস্ট্রেশন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ জাতিসংঘ ঘোষিত এমডিজি অর্জন করে পুরস্কার লাভ করেছে। এখন ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন করতে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত দশকে বাংলাদেশে জিডিপি ছিল গড়ে ছয় ভাগের বেশি, গত বছর অর্জিত হয়েছে ৭.১১ ভাগ। ফলে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের হার ২৪.৮ ভাগ এবং হতদরিদ্র মানুষের হার ১১.৯ ভাগে নেমে এসেছে। এসডিজি অর্জনের মধ্যদিয়ে অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ শতাংশের নিচে নেমে আসবে- বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয়। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, আইসিটি, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণ, হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং কৃষিজাত পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এসব পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের আইসিটি রপ্তানি করা সম্ভব হবে। বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন খুবই আকর্ষণীয় স্থান। বর্তমান সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও পরিবেশের কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশ এখন একটি বড় বাজার। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সরকার আইন করে রক্ষা করেছে। এখন শিল্পে শতভাগ বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকৃত অর্থ লাভসহ যে কোনো সময় ফেরত নেওয়ার সুবিধা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। ফরেন ডাইরেস্ট ইনভেস্টমেন্ট গত বছরের চেয়ে ৪৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এসকাপের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ড এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ড. শামসাদ আক্তারের সভাপতিত্বে ডায়ালগে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন থাইল্যান্ডের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার কিয়েটচাই সোফাসটিনফং, কম্বোডিয়ার কমার্স মিনিস্টার পান সোরাসাক এবং থাইল্যান্ডে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত।

অনুষ্ঠান শেষে ইউএনএসকাপের সদর দপ্তরে জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোস্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দি প্যাসিফিক (ইউএনএসকাপ)-এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন ফেসিলিটেশন অব ক্রস-বর্ডার পেপারলেস ট্রেড ইন এশিয়া অ্যান্ড দি প্যাসিফিক’-এ বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশ এ চুক্তিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ। এছাড়া চীন ও কম্বোডিয়া এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। পরে তোফায়েল আহমেদ কম্বোডিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনিম বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী ৩০ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী শ্রীলংকা যাবেন। সেখানে শ্রীলংকার ইন্টারন্যাশনাপল ট্রেড এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং এফটিএ সম্পাদন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন। এর পর তিনি ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর কলম্বোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘সেকেন্ড ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স-২০১৭’-এ যোগদান করে ১ সেপ্টেম্বর মিনিস্টার প্যানেলে বক্তৃতা করবেন।

এতে ২৯টি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। এ কনফারেন্সের প্রতিপাদ্য বিষয় হলে ‘পিস, প্রোগ্রেস অ্যান্ড প্রোসপারিটি’। কনফারেন্সে বাণিজ্যমন্ত্রী ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলের দেশসমূহের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করবেন। এতে করে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ আগস্ট ২০১৭/নঈমুদ্দীন/মুশফিক

Walton
 
   
Marcel