ঢাকা, শনিবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ জুন ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

রাজারহাট চামড়ার মোকাম, সবাই তাকিয়ে শনিবারের দিকে

বিএম ফারুক : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-০৬ ২:৫৫:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-০৬ ২:৫৫:১৫ পিএম

বি এম ফারুক, যশোর : এখনো জমে ওঠেনি দেশের অন্যতম প্রধান চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাট। আগামী শনিবার রাজারহাট জমবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবছর যে হাটে কোটি কোটি টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়, এবার ঈদের পর মঙ্গলবারের হাট মোটেই জমেনি ।  মুখরিত হয়নি ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে । গতবছর ঈদ-পরবর্তী প্রথম হাটে রাজারহাটে প্রায় দশ কোটি টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়েছিল। এবার সেখানে বিক্রি হয়েছে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মতো। এখন শনিবারকে ঘিরেই ব্যবসায়ীদের সকল প্রত্যাশা।

জানা যায়, এবার এই মোকাম সংশ্লিষ্টদেরকে মাঠ পর্যায় থেকে তাদের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকায় চামড়া সংগ্রহ করতে হয়েছে। একই সঙ্গে লবণের দামও বেড়েছে। চামড়া পাইকারি বিক্রি করতে এসে আসল বাঁচানোই যাচ্ছে না। গরুর চামড়া প্রতি ২০০-৩০০টাকা ও ছাগলের চামড়া প্রতি ৫০-৬০টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই লোকসানের কথা জানালেন বৃহত্তম চামড়ার হাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ।

অপরদিকে পাইকাররা বলছেন, ট্যানারি শিল্প সমিতির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকায় ঝুঁকি নিয়ে তারা চামড়া ক্রয় করছেন। ফলে ট্যানারি মালিকরা দাম না বাড়ালে বিপদে পড়তে হবে তাদের।

ব্যবসায়ীদের মতে, লোকসানের আশঙ্কায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হাটে চামড়া না নিয়ে আসায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ট্যানারি কর্তৃক মাঠপর্যায় থেকে উচ্চমূল্যে চামড়া সংগ্রহ, পাওনা টাকা না পাওয়া ও লবণের অতিরিক্ত দামও প্রভাব ফেলেছে হাটে। তবে, ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের আশা, শনিবারের হাটে চামড়ার দেখা মিলবে।

যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে রাজারহাটে চামড়াহাট বসে সপ্তাহে দুইদিন শনি ও মঙ্গলবার । এ হাটে যশোর ছাড়াও খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বড় বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া বেচাকেনা করেন। এবারের ঈদ ছিল শনিবার। ফলে মঙ্গলবার ছিল ঈদ-পরবর্তী প্রথম হাট। প্রথম হাট যেমন জমজমাট থাকে অন্য বছর, এবারের চিত্র তার পুরোটাই উল্টো। প্রত্যাশার এক-তৃতীয়াংশ চামড়াও ওঠেনি হাটে।

হাটে কথা হয়, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার গোয়ালদা গ্রামের রিপন হোসেনের সাথে। তিনি জানান, ৫০টি গরু ও ৬০টি ছাগলের চামড়া নিয়ে এসেছিলেন রাজারহাটে। গ্রাম থেকে চামড়া সংগ্রহ করে লবণজাত ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে তার গরুর চামড়া কেনা পড়ে ৫০ টাকা ফুট। আর ছাগলের ৩৫ টাকা করে। কিন্তু এদিন হাটে গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ছাগলের ৩০  থেকে ৩৫ টাকায়। এতে লোকসানের আশঙ্কায় তিনি চামড়া ফেরত নিয়ে যান।

শুধু রিপন দাস নয়, মঙ্গলবার রাজারহাটে বেশিরভাগ খুচরা ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি করেননি। এতে চামড়া ভারতে পাচারের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাধবকাটি গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রফুল্ল দাস জানান, চামড়া পাচারের কোন আশঙ্কাই নেই। সীমান্তের চামড়াও হাটে আসছে। তবে গত বারের তুলনায় এবার কোরবানি কম হয়েছে। এ জন্য হাটে চামড়া কম।

রাজারহাটের স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন জানান, ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে এবার চামড়ার বাজার খারাপ। কেননা লবণের দাম চামড়ার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে যেখানে লবণের বস্তা এক হাজার টাকা ছিল। সেখানে এবার এক হাজার ৪০০ টাকায় কিনতে হয়েছে।

যশোর সদরের ইছালির অর্জুন ঋষি বলেন, ‘এবার এনজিও থেকে ১ লাখ টাকা লোন (ঋণ) নিয়ে চামড়া কিনেছি। বাজার দরের যে অবস্থা তাতে পুঁজি বাঁচবে বলে মনে হচ্ছে না।’

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ জানান, পেশাদার চামড়া ব্যবসায়ীদের পুঁজি সংকটের সুযোগ নেবে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তারা বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করে থাকে। পরে বাজারে চাহিদামত দাম না পেয়ে তারা পাচারকারী চক্রের হাতে চামড়া তুলে দেয়।

বিজিবির যশোর অঞ্চলের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আরিফুল হক বলেন, ‘চামড়া পাচার ঠেকাতে আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে সব বিওপিকে আমরা অ্যালার্ট করে দিয়েছি।’

চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আকিল আহমেদ জানান, এবার ব্যবসায়ীদের হাতে কোনো টাকা নেই। সব পুঁজি আটকা পড়েছে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে। ট্যানারি মালিকদের কাছে ব্যবসায়ীদের বকেয়া রয়েছে অন্তত ২ কোটি টাকা। গত বছরের পাওনার ২৫ ভাগ টাকা দিয়েছে ট্যানারি মালিকরা। এই টাকায় দেনা শোধ করবে, না নতুন করে চামড়া কিনবে? যে কারণে প্রথম হাটে তেমন ক্রেতা-বিক্রেতা নেই।



রাইজিংবিডি/যশোর/৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭/বি এম ফারুক/টিপু

Walton Laptop
 
   
Walton AC