ঢাকা, সোমবার, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৬ জুলাই ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ইসলামি ব্যাংকিংয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পিছিয়ে বাংলাদেশ

নাসির উদ্দিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৪ ৫:০৬:২২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-০৪ ৮:২১:২৮ পিএম

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহৎ মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইসলামি ব্যাংকিংয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পেছনের সারিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ইসলামিক বন্ড সুকুক খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু এদেশে আটটি পূর্ণ ইসলামি ব্যাংক এবং ১৭টি ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো থাকলেও সুকুক এখনো চালু হয়নি। তবে ভিন্ন নামে ইসলামি বন্ড চালু থাকলেও তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না গ্রাহকরা। ইসলামি বন্ড সুকুক সবচেয়ে জনপ্রিয় সৌদি আরবে। বিশ্বে সুকুক বন্ডের মোট শেয়ারের প্রায় ৩৯ শতাংশ সৌদি আরবের দখলে। দ্বিতীয় অবস্থানে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে সুকুক বন্ড। ২০১৮ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে ইসলামিক বন্ড সুকুকের প্রায় ৩৩ শতাংশ মালয়েশিয়ার শেয়ার। এরপরে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, কাতার, ওমান, তুরস্ক, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, হংকং, নাইজেরিয়া, ব্রুনাই, জর্ডান। বাংলাদেশের অবস্থান ১৪ নম্বরে। মাত্র দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ ইসলামিক বন্ডের শেয়ার আছে বাংলাদেশের।

বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘প্রডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন অব ইসলামিক ব্যাংকস : প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মো. আলমগীর। গবেষণা দলে ছিলেন বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মহব্বত হোসেন, বিআইবিএমের প্রভাষক মো. আব্দুল হালিম এবং ইসলামিক ব্যাংক ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ একাডেমির (আইবিটিআরএ) পরিচালক (গবেষণা) ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মো. মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী। তিনি গ্রাহকদের ইসলামিক ব্যাংকিং সেবার মান আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং নতুন নতুন ইসলামি ব্যাংকিং সেবা নিয়ে গ্রাহকদের সেবা করার ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং পরামর্শ) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, ইসলামি ব্যাংকিং এখন বাংলাদেশের মূল ধারার ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে আটটি ইসলামি ব্যাংক গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ ব্যাংকিংয়ের ১৭টি উইন্ডো ইসলামি ব্যাংকিং সংক্রান্ত সেবা প্রদান করছে। ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রসারে বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়ক ভুমিকা পালন করছে যাতে আগামী দিনে টেকসই আর্থিক ব্যবস্থাপনা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সুকুক বন্ড খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল বিভিন্ন দেশ ঘুরে খতিয়ে দেখছে যে, কীভাবে চালু করলে এ বন্ডটি জনপ্রিয় হবে।

তিনি ইসলামিক ব্যাংকগুলোকে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ করার ওপর জোর দেন।

বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক এবং পূবালী ব্যাংকের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং খাতের মোট শেয়ারের ২২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইসলামী ব্যাংকংগুলো। তবে এ বড় শেয়ারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যাপ্ত প্রোডাক্ট নেই। ছোট ছোট ঋণ দেওয়ার জন্য সেই ধরনের বহুমুখী প্রোডাক্ট তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। এতে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের ঝুঁকি কমবে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইসলামি ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকি কমাতে প্রোডাক্টে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। বড় ধরনের ঋণের সাথে ছোট ছোট ঋণ দিয়ে ব্যাংকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আর তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য সুকুকের প্রবর্তন জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, প্রচলিত ব্যাংকের সঙ্গে ইসলামি ব্যাংকিংকে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হবে। এজন্য সেবায় বৈচিত্র্য আনতে হবে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, প্রচলিত ব্যাংকগুলোর চেয়ে ইসলামি ব্যাংকের প্রোডাক্ট অনেক বেশি। এগুলো আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব প্রোডাক্ট বৈচিত্র্যের মাধ্যমে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি কমবে।

এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. হায়দার আলী মিঞা বলেন, মালয়েশিয়ার চেয়ে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়ার কথা বলা হলেও তা বাস্তবসম্মত না। কারণ, মালেয়েশিয়ার ইসলামিক ব্যাংকিং খাত বাংলাদেশের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশের অনেক ইসলামি ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে মালয়েশিয়ার ভিন্নতা আছে। বাংলাদেশের ইসলামিক ব্যাংকিং কর্তৃক প্রদানকৃত সেবাসমূহ সাধারণ গ্রাহকের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

সমাপনী বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, ইসলামি ব্যাকিং খাতে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন নতুন ইসলামি পণ্য তৈরি করতে হবে। যা গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় করতে পারলে ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি কমে যাবে। তিনি সাধারণ ব্যাংকিং এবং ইসলামি ব্যাংকিংকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শও দেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ জুলাই ২০১৮/নাসির/রফিক/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
     
Walton