ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ শ্রাবণ ১৪২৪, ২৫ জুলাই ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০২-১৪ ৭:১৭:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-০৮ ১:১০:২৯ পিএম

দেশে এখন পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র ফাঁস যেন হাত ধরাধরি করে চলছে। ফাঁস হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ সত্ত্বেও কিছুই কাজে আসছে না। এবারও এসএসসি পরীক্ষায় গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে প্রকাশ, ফাঁস হওয়া ঢাকা বোর্ডের গণিতের প্রশ্নপত্র মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।

প্রকাশিত খবর থেকে আরো জানা যায়, কেউ কেউ আগের রাতেই প্রশ্নপত্র পেয়েছে এবং পর দিন পরীক্ষার হলে দেওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তা হুবহু মিলে যায়। কেবল ঢাকা বোর্ড নয়, রাজশাহী ও কুমিল্লা বোর্ডেরও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তা মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে গেছে। এর ফলে বেশির ভাগ পরিক্ষার্থী, যারা প্রশ্নপত্র পায়নি, তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দেখা যাচ্ছে, দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী একটি শক্তিশালী চক্র দাঁড়িয়ে গেছে। কয়েক বছর ধরেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি এবং মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠছে।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এরপর গত রোববার অনুষ্ঠিত গণিতের প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগে সকালে বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া গিয়েছিল, তার সঙ্গে মূল প্রশ্নের মিল পাওয়া যায়। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে বলা হয়েছে, দু-একটি পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্রের যে সেট ফাঁস হয়েছিল, তার সঙ্গে মিল থাকায় পরে সেট পরিবর্তন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুর্বল তাদের কেউ কেউ ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সন্ধানে থাকে। এরা আবার উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি ও চাকরির ক্ষেত্রে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য সুযোগের সন্ধানে থাকে। অবৈধ উপায় অবলম্বন করে ফাঁসের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। এজন্য প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি এসব সুযোগসন্ধানী শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি কঠিন বিষয়গুলো ছাত্ররা যাতে সহজে বুঝতে পারে, শিক্ষকদের সেভাবে প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে। সঠিকভাবে পাঠদান করা না হলে শিক্ষার ঘাটতি থেকে যায়। তখন কেউ কেউ বিকল্প পথের সন্ধান করে। সুতরাং শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা ছাড় দেওয়া হলে তার ফল ভাল হতে পারে না। এ ধরনের শিথিলতা‍ জাতি হিসেবে আমাদের পেছনে ফেলে দেবে।

এবার প্রশ্নফাঁসে অসৎ শিক্ষক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। আশুগঞ্জে একজন কেন্দ্রসচিব হাতেনাতে ধরাও পড়েছেন। তার পকেটে প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আশুগঞ্জের ওই কেন্দ্রসচিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দেখা যাচ্ছে সর্ষেতেই ভূত রয়েছে। আর এ ভূত তাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। কোনো পরীক্ষায়ই যেন প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয় সে ব্যাপারে জোর পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতির বৃহৎ স্বার্থে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন। । প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/আলী নওশের/টিআর

Walton Laptop