ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ চৈত্র ১৪২৩, ৩০ মার্চ ২০১৭
Risingbd
মার্চ
সর্বশেষ:

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০২-২৩ ৯:৫৬:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২১ ৩:২২:০৩ পিএম

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।এতে অনেকে আহত হয়ে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যান। মর্মান্তিক একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না হয়ে হয়ে দেখা দেয় সংশ্লিষ্টদের জন্য। কিছু কিছু দুর্ঘটনা সারা দেশকেই শোকে স্তব্ধ করে দেয়। যেমন ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। বেপরোয়া গতির একটি বাস তাঁদের বহনকারী মাইক্রোবাসকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিল।

আমাদের দেশে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পার পেয়ে যান। আইনের ফাঁক ফোকর গলে বেরিয়ে যান তারা। তারেক-মিশুকের মাইক্রোকে চাপা দেওয়া সেই বাসচালকও পার পেয়ে যাবে, এমন শঙ্কা ছিল প্রায় সবার মনে। তবে দীর্ঘ ছয় বছর পর সেই মামলার রায় হয়েছে বুধবার । বাসচালক জামির হোসেনকে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ও কর্তব্যে অবহেলার দায়ে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে রায়ের পর তার প্রতি সম্মান দেখাচ্ছে না বেপরোয়া ওই চালকের সহযোগিরা। আদালত রায় ঘোষনার পর চুয়াডাঙ্গায় বাস-ট্রাক শ্রমিকরা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ফলে ওই জেলার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ চালকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে দেশব্যাপী প্রতিনিয়ত কত জীবন অকালে ঝরে পড়ছে তাতে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই।

দেশে সড়ক ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে দুই লেনের মহাসড়কে নেই ডিভাইডার। আবার একইসঙ্গে মহাসড়কে দ্রুতগতি ও ধীরগতির যানবাহন চলছে। অভিযোগ আছে, অনেক বাস-ট্রাক অতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্য পরিবহনের জন্য নির্ধারিত মাপের চেয়ে বড় করে বডি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে গাড়ির ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং দুর্ঘটনায় পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফিটনেসবিহীন অনেক গাড়ি দেদারছে চলছে। অনেক গাড়ির ব্রেক থাকে ত্রুটিপূর্ণ। সে সঙ্গে চালকের লাইসেন্স প্রদানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে অযোগ্য ও অদক্ষ চালকরা লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, কেবল গত দুই সপ্তাহে ১৪০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ গেছে সড়কে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে ৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে। আর চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে ৩৭ শতাংশ। অপর এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশে দুই-তৃতীয়াংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাস-ট্রাক।

প্রশ্ন হচ্ছে, কতদিন এভাবে সড়কে প্রাণ দিতে থাকবে মানুষ। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি। না হলে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই বাড়তে থাকবে। সড়কে শৃঙ্খলা মেনে চলাচলে প্রথমেই চালকদের নির্দিষ্ট গতিসীমায় গাড়ি চালানোর বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ আনা প্রয়োজন। মহাসড়কে গাড়ির গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্পিডগান ও চালক লাইসেন্স পরীক্ষার যন্ত্র থাকা প্রয়োজন।

এছাড়া নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর বিশেষ ক্যামেরা স্থাপন করা প্রয়োজন যাতে ক্যামেরার তথ্য বিশ্লেষণ করে চালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনেক সড়কে বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। এসব বাঁক সোজা করা, সব মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা এবং ডিভাইডার বসানো হলে দুর্ঘটনার হার অনেক কমে আসত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার নজর দেওয়া এবং জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/আলী নওশের/তৈয়বুর

Walton Laptop