ঢাকা, শুক্রবার, ৫ শ্রাবণ ১৪২৪, ২১ জুলাই ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য ডাকসু নির্বাচন

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-০৫ ২:২১:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২১ ৩:১৭:৪২ পিএম

রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন প্রয়োজন বলে মনে করেন । তিনি বলেন, আগে ছাত্ররাজনীতি ছিল দেশের কল্যাণের জন্য। কিন্তু এখন ছাত্ররাজনীতি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দেয়। কিছু ক্ষেত্রে অছাত্ররাই রয়েছে ছাত্ররাজনীতির নেতৃত্বে। এর ফলে ছাত্ররাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা, সম্মান ও সমর্থন ক্রমান্বয়ে কমছে।

রাষ্ট্রপতি শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি বর্তমান ছাত্রনেতাদের ধরন সম্পর্কে বলেন, বর্তমানে বেশির ভাগ ছাত্রনেতার বয়স ৪৫ থেকে ৫০ বছর। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ছাত্রদের সঙ্গে মিশতে পারে না,। তাই ডাকসুর মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করতে হবে। ছাত্ররাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। আর তা না হলে ভবিষ্যতে দেশ নেতৃত্বশূন্য হয়ে যাবে।

রাষ্ট্রপতির এই আহ্বান অত্যন্ত সময়োপযোগী। তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ছাত্ররাজনীতির বাস্তব চিত্রই উঠে এসেছে। বাংলাদেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থী। আর এসব আন্দোলনে লড়াকু সৈনিকদের নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ তথা ডাকসু।

অথচ দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের ধারক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন হচ্ছে না দুই যুগ ধরে। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রসংগঠনগুলোর সদিচ্ছার অভাবে এই দীর্ঘ সময় নির্বাচন না হওয়ায় অকার্যকর হয়ে আছে ডাকসু। কালের আবর্তে আজ তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। ডাকসু নির্বাচন না হওয়ার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। এ ছাড়া ক্যাম্পাস ও হলগুলোয় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংঘর্ষিক ছাত্ররাজনীতির কারণে অস্থিরতা লেগেই আছে। জাতীয় স্বার্থ ত্যাগ করে দলীয় ও সংকীর্ণ স্বার্থে আত্মকলহে লিপ্ত থাকছে অধিকাংশ ছাত্রসংগঠন। ছাত্ররাজনীতি এখন আর ছাত্রদের কল্যাণের জন্য নয়। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারের মাধ্যমে রাতারাতি সম্পদশালী হওয়া, সম্মান, খ্যাতির দিকে ঝুঁকছে অনেকেই। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও নানা অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চার মধ্য দিয়েই যোগ্য হয়ে উঠতে হবে ছাত্রদের। এ জন্য শুধু ডাকসু নয়, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া জরুরি। ডাকসুর প্রাক্তন নেতারা মনে করেন, ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে আবার সুস্থ ধারা ফিরে এলে তার ছোঁয়া জাতীয় রাজনীতিতে লাগবে। ফলে বড় রাজনৈতিক দলগুলো সৎ, যোগ্য ও মেধাবীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ মার্চ ২০১৭/আলী নওশের/শাহনেওয়াজ/এএন

Walton Laptop