ঢাকা, শুক্রবার, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৪ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-২২ ৪:২২:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২৮ ১২:২১:০৪ পিএম

দেশে শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে ভুমির ব্যবহার হচ্ছে যথেচ্ছভাবে। বাড়ি-ঘর নির্মাণ কিংবা উন্নয়ন কাজে কোন নিয়ম মানা হচ্ছে না। যে কারণে কৃষিজমির পরিমাণ কমছে আশঙ্কাজনক হারে। আর এর প্রভাব পড়ছে ফসল উৎপাদনে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন করতে যাচ্ছে। ‘নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন, ২০১৭’-এর খসড়া সোমবার নীতিগত অনুমোদন দিয়াছে মন্ত্রিসভা।

এতে বাড়িঘর বা স্থাপনা তৈরির জন্য আগাম ছাড়পত্র নেয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদ এ ছাড়পত্র দেবে। আইন অমান্য করলে পাঁচ বছরের জেল ও ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইন কার্যকর হওয়ার পর ভূমির ওপর ঘরবাড়ি বা স্থায়ী কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে চাইলে সরকার মনোনীত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।

বাস্তবিক অর্থেই অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বাড়িঘর নির্মাণ- জলাভূমি ভরাট ও বনভূমি ধ্বংস করার আত্মবিনাশী প্রক্রিয়া। এভাবে চলতে থাকলে বসবাস উপযোগী পরিবেশই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, অদূর-ভবিষ্যতে এক বিপর্যয়কর অবস্থায় পড়তে হবে আমাদের। ১৬ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে মাথাপিছু আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ সামান্য। তার ওপর কৃষিজমি যদি দ্রুত হারে কমতে থাকে, তাহলে এই বিপূল জনসংখ্যার খাদ্যের জোগান দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এমনিতে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে মরুকরণের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। ভূগর্ভের পানির স্তর অত্যধিক নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক স্থানে গভীর নলকূপেও পানি ওঠে না। খাল-বিল, নদী-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ভূগর্ভে যেতে পারছে না। এ অবস্থায় উত্তরাঞ্চলেও ফসল উৎপাদন ব্যাপক হারে কমে যেতে পারে। সুতরাং দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে ভূমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ হওয়া প্রয়োজন।

দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে ভূমির পরিমাণ যেহেতু যথেষ্ট কম, সেক্ষেত্রে যতটুকু ভূমি রয়েছে, তার মাস্টারপ্ল্যান করে এর পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিজমিতে ঘরবাড়ি করা হলে কৃষিজমি হ্রাস পায়, নালা বা জলাশয় ভরাট করলে বিপর্যয় ঘটে পরিবেশের। সুতরাং ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহারের কোনো বিকল্প নাই।

আমরা মনে করি, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিকল্পিত জনবসতি নির্মাণের লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উদ্যোগ। যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইন পাস হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জমির শ্রেণিবিভাজন করবেন। দুই ফসলি বা তিন ফসলি জমিতে বাড়ি না করার বিধান থাকবে। বাড়ি করার অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ঢাকা বা কোনো বিভাগীয় শহরে যেতে হবে না। তারা বাড়ির পাশের ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই অনুমোদন নিতে পারবেন।

আশা করা যায়, নূতন এই আইন প্রণীত হওয়ার পর ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আসবে। তবে আইন যেন যথাযথভাবে পালিত হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। পাশাপাশি ছাড়পত্রের নামে মানুষ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ মার্চ ২০১৭/আলী নওশের/শাহনেওয়াজ

Walton
 
   
Marcel