ঢাকা, সোমবার, ১৮ বৈশাখ ১৪২৪, ০১ মে ২০১৭
Risingbd
মে দিবস
সর্বশেষ:

জাতীয় গণহত্যা দিবস

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-২৫ ৮:০৩:৫৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২৫ ৯:৪১:৩৫ এএম

বাঙালির রক্তাক্ত ইতিহাসের কালো অধ্যায় ২৫ মার্চ, ১৯৭১। এদিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায় ঘুমন্ত ঢাকাবাসীর ওপর। শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বাঙালি হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নে মাঠে নামান পাকিস্তান বাহিনীকে।

২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ঘুমন্ত নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তারা। উন্মত্ত পাক বাহিনী মধ্যযুগীয় কায়দায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা  ইপিআর সদর দফতর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা ঢাকা শহরে চালায় হত্যাযজ্ঞ।

‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে এ অভিযানকালে এদিন মধ্য রাতের পর পাকিস্তানি হানাদাররা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের পূর্ব মুহূর্তে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। মুক্তিপাগল জনতা বঙ্গবন্ধুর ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতার সংগ্রামে। নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষকে নির্বিচারে পাখির মত গুলি করে হত্যা করে সেদিন মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যায়নি। ভয়াবহ সেই কালো রাতের হত্যাযজ্ঞ বাঙালিকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রণোদনা যোগায়।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং এর ধারাবাহিকতায় আসে ’৭০ সালের নির্বাচন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্বপাকিস্তানে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। শুধু তাই নয় সমগ্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু জনতার সেই রায় মেনে নেয়নি পাকিস্তানের স্বৈর-সামরিক চক্র। আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ এবং চক্রান্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী বাহিনী হায়েনার মতো ঝাপিয়ে পড়ে গণহত্যা শুরু করে।

২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা এলেও স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল মূলত ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দি) ময়দানে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার ডাক দিয়েছিলেন। তার বজ্রকণ্ঠের সেই ডাক 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম' বাঙালির জীবনে আজো অমলিন । বীর বাঙালি স্বাধীন বাংলার পতাকা অর্জনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযোদ্ধারা লড়াই করেছেন দৃঢ় হাতে। রক্তক্ষয়ী এ যুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ চলে। অত:পর আসে সেই কাঙ্খিত দিন। ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় বিজয়। বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নেয় স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ।

এবারের ২৫ মার্চ এসেছে অন্যরকম এক বার্তা নিয়ে। ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পালনের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা।  মুক্তিযুদ্ধের ৪৬ বছর পর দেশে এবার প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’। দিনটিকে আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যা দিবস পালনের স্বীকৃতির জন্য জাতিসংঘে এ মাসেই আবেদন পাঠানো হচ্ছে।  জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই প্রস্তাবে বিদেশিদের সমর্থন আদায়ের জন্য সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবে। ২৫ মার্চের ভয়াল সেই রাতে যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন আমাদের গভীর শ্রদ্ধা তাদের সবার প্রতি।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ মার্চ ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop