ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ আষাঢ় ১৪২৪, ২২ জুন ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

পরিকল্পিত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-২৮ ১২:১৯:২১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২৮ ১২:১৯:২১ পিএম

সড়কে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না কিছুতেই। গত শুক্রবার ময়মনসিংহের ভালুকায় ট্রাক উল্টে এক পরিবারের পাঁচজনসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই দিন আরো কয়েক স্থানে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাতজন। এরপর রোববার প্রাণহানি হয়েছে আরো ২০ জনের। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ট্রাক-ভটভটি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ১৩ শ্রমিকের।

দেশের কোনো না কোনো স্থানে প্রতিদিনই ঘটছে এই দুর্ঘটনা। হতাহত হচ্ছে অনেক মানুষ। গত দেড়মাসে নিহত হয়েছে চার শতাধিক। কিন্তু সব তথ্য সংবাদমাধ্যমে আসে না। তাই প্রকৃতপক্ষে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি। মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে সুস্থভাবে যে ফিরবে বলতে গেলে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি কেড়ে নিচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গু হয়ে সারা জীবনের জন্য কর্মক্ষমতা হারিয়ে নিজের কাছে, পরিবারে, সমাজে এবং সর্বোপরি দেশের বোঝায় পরিণত হন।

আমাদের সড়ক-মহাসড়কগুলো যেন একেকটি মৃত্যুপুরী। এখানে কোনো কর্তৃপক্ষের কর্তৃত্ব আছে বলে মনে হয় না। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনার কারণ বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সবিহীন চালক ও সড়ক-মহাসড়কের বিপজ্জনক বাঁক। ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কগুলোতে দেদার চলছে। মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটিপূর্ণ ও শ্লথগতির যানবাহন।

দেশের যানবাহন চালকদের সিংহভাগই প্রশিক্ষণ ছাড়া গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেয়েছেন। প্রতিনিয়ত বাস-ট্রাক-নছিমন-করিমন-ভটভটি দুর্ঘটনায় সাধারণ দরিদ্র শ্রেণির মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। একেকটি মৃত্যু বিধ্বস্ত করে দিচ্ছে একাধিক পরিবারকে। প্রায়ই দেখা যায় দুর্ঘটনার পর চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কিছুদিন পর আবারও তাদের হাতে তুলে নিচ্ছে কোনো যানবাহন। তারপর আবার তারা দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে।

প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় হাজারো প্রাণহানির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শত কোটি টাকার সম্পদ। যান-মালের যে ক্ষতি হচ্ছে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সোমবার মন্ত্রিসভায় একটি নতুন সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া গৃহীত হয়েছে। সেখানে চালকদের অষ্টম শ্রেণি পাস হওয়ার শর্তসহ আরও কিছু বিধান করা হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যমান অনেক আইনই সঠিকভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে নতুন আইন করলেই হবে না প্রয়োজন সর্বাত্মক উদ্যোগ।

এই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সব শ্রেণিপেশার মানুষের একত্রিত হয়ে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি  পরিকল্পিত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। দুর্ঘটনা রোধে সড়কের ত্রুটি দূর করতে হবে, ট্রাফিক আইন মেনে চালকদের সঠিকভাবে গাড়ি চালাতে হবে। সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদেরও সচেতনভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে, চালকদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্ঘটনা কোনো এক পক্ষের দ্বারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সমস্যার মূলে সবাইকে সচেতনভাবে কাজ করতে হবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ মার্চ ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop