ঢাকা, সোমবার, ১৮ বৈশাখ ১৪২৪, ০১ মে ২০১৭
Risingbd
মে দিবস
সর্বশেষ:

জাতি হিসেবে অত্যন্ত সম্মান ও গৌরবের

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-০৮ ৯:৪৩:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-২৪ ৪:০৮:১৭ পিএম

ঢাকায় আইপিইউ (ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন) সম্মেলন শেষ হলো পাঁচ দফা ঘোষণার মধ্য দিয়ে। ঘোষণায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়। এছাড়া বৈষম্য হ্রাস, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ, পার্লামেন্টকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল করা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে প্রায় ১৭১ দেশের প্রতিনিধিরা এসেছেন। এর মধ্যে ৯৫টি দেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ছিলেন সম্মেলনে।

জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে একটি কৌশলপত্র নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে আইপিইউ। এছাড়া বিশ্বনেতাদের ১৩৬তম এই সম্মেলনে সিরিয়ায় রাসায়নিক আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইনে রাসায়নিক অস্ত্র যে নিষিদ্ধ তা বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দেয়ার বিষয়টি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। আর বর্ণাঢ্য ও সফল সম্মেলন আয়োজনের জন্য বিশ্বনেতারা বাংলাদেশকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন।

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বৈষম্যের প্রতিকার : সবার জন্য মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ’। এ লক্ষ্যে সদস্য দেশগুলো কাজ করে যাবে বলে অঙ্গীকার করেছে। কিভাবে বৈষম্য নিরসন করা যায় সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উঠে এসেছে; নেওয়া হয়েছে লক্ষ্য পূরণের পরিকল্পনাও।

বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পার্লামেন্টকে আরো কার্যকর করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছিল আইপিইউ’র আগের সম্মেলনে। ঢাকায় এবারের সম্মেলনে ব্যক্ত হয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সুবিধা সর্বজনীন করার অঙ্গীকার। বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তাহীনতা এবং দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগের মধ্যেই বাংলাদেশে এ সফলভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একটি দেশের সাধারণ মানুষকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করেন সংসদ সদস্যরা। আর বর্তমানে বিশ্ব বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় পরিসর পেরিয়ে সংসদ সদস্যরা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার প্রতিনিধিত্ব বিস্তার করার সুযোগ পাচ্ছেন। আইপিইউ এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। ঢাকা ঘোষণায় আরো বলা হয়েছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৈষম্য কমাতে মানবাধিকার সুরক্ষায় আইনী কাঠামো শক্তিশালী এবং বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। সবার সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্থান হিসেবে আইনসভাকে শক্তিশালী করতে হবে।

বস্তুতপক্ষে ঢাকায় প্রথমবারের মতো আইপিইউ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের সংসদীয় রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ সংগঠনের সম্মেলন বাংলাদেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে একটি ইতিবাচক পরিচিতি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার সুযোগ কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের বেশির ভাগ সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশের কাছে আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোর কার্যকারিতার দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে।

সম্মেলনের সমাপনী ঘোষণা শেষে আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং আইপিইউ সম্মেলনের সভাপতি ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ যে সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা বিশ্বের জনপ্রতিনিধিরা প্রত্যক্ষ করলেন। সফলতম এ আয়োজন বাংলাদেশের জন্য এবং জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও গৌরবের বিষয়। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বের গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের পরিপূর্ণ আস্থা রয়েছে এই সম্মেলন তার বড় প্রমাণ।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ এপ্রিল ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop