ঢাকা, সোমবার, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

চির অবসান হোক জঙ্গিবাদের

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-১৩ ১২:৪৩:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-২৪ ৪:০৫:২৮ পিএম

১৯৯৯ সালে যশোরে উদীচীর সমাবেশে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের শুরু করেছিল হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী-বাংলাদেশ (হুজি-বি)। পরবর্তী ছয় বছরে ১৬টি বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালায় এই জঙ্গি সংগঠন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। আর সেসব হামলায় ১০১ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক আহত হয়। এসব হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন মুফতি আবদুল হান্নান।

এসব ঘটনায় মুফতি হান্নানের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা হয়। এর মধ্যে গোপালগঞ্জে বোমা পুঁতে রাখার মামলায় তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। রমনা বটমূলে বোমা হামলা ও সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর হামলার মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়। গতকাল বুধবার মুফতি হান্নান ও তাঁর দুই সহযোগীর ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। রাত ১০টায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল এবং সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে হরকাতুল জিহাদের  তৎপরতা এবং জঙ্গিবাদের একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে।

আফগানফেরত যেসব মুজাহিদ বাংলাদেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ড শুরু করেছিল, তাদের একজন এই মুফতি হান্নান। শুরুতে পাকিস্তানভিত্তিক হরকাতুল মুজাহিদিনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশে (হুজি-বি) যোগ দিয়ে সংগঠনটির শীর্ষ নেতা বনে যান হান্নান।

১৯৯৯ সালে যশোরে উদীচীর সমাবেশে বোমা হামলা, ২০০১ সালে পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা এবং ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলায়ও হান্নানের জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। এছাড়া ২০০৫ সালে মৌলভীবাজারে সমাবেশে বোমা হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়াসহ পাঁচজনকে হত্যা এবং তার আগের বছর সিলেটের তৎকালীন মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের ওপর গ্রেনেড হামলার পিছনেও তার হাত ছিল।

হান্নান নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য। সিআইডি কর্মকর্তাদের মতে, সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হান্নান দেশে বিভিন্ন জঙ্গি হামলার প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। বোমা বানানোয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন তিনি।

তবে মুফতি হান্নান ও তার দুই সহযোগির ফাঁসি হওয়ার পর জঙ্গি নির্মূল হয়ে গেছে এমনটি ভাবার কারণ নেই। দেশে জঙ্গি তৎপরতা যে অব্যাহত আছে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযান থেকেই বোঝা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সূত্রে বলা হচ্ছে, ‘নব্য জেএমবি’ নামের জঙ্গি সংগঠনটি নতুন নেতৃত্বে আবারও সংগঠিত হচ্ছে। গত বছরের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল এই সংগঠনটিই। ওই হামলার পর জঙ্গিবাদের ব্যাপারে সরকারের কঠোর অবস্থান গ্রহণ ও দেশব্যাপী ব্যাপক জঙ্গি দমন অভিযান শুরু হলে সংগঠনের বেশ কিছু সদস্য নিহত হয়।

আমরা আশা করব, জঙ্গি-কর্মকাণ্ড রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার স্থায়ী অবসান ঘটাতে প্রশাসন আন্তরিক তৎপর হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা চিরতরে অবসান হোক জঙ্গিবাদের।
 



রাইজিংবিডি/১৩ এপ্রিল ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop