ঢাকা, শুক্রবার, ৬ শ্রাবণ ১৪২৪, ২১ জুলাই ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

ফিরিয়ে দিতে হবে শিশুদের অধিকার

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-০৪ ৮:৩৫:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-২৯ ১:৫৯:০৪ পিএম

আমাদের দেশে অনেক শিশুই শৈশবে ঠিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে না। শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে অহরহ। তারা মোটেও সুরক্ষিত নয়। সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই আমরা শিশু নির্যাতন কিংবা শিশু অধিকার লংঘনের খবর পাই। দেখা গেছে শিশুরা পরিবার ও সমাজে নানা  নিগ্রহ ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

একটি শিশুর সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠা এবং তার মধ্যে মানবিক গুণাবলি পরিপূর্ণভাবে বিকাশে যে ধরনের পরিবেশ প্রয়োজন অনেক শিশুই তা পাচ্ছে না। সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের শিশুরা তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শৈশব থেকেই আমরা শিশুদের ঠেলে দিচ্ছি অসুস্থ প্রতিযোগিতায়, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নেয়। অনেকে আবার শৈশব হারিয়ে পরিণত হচ্ছে শিশু শ্রমিকে। পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুরা শিকার হচ্ছে নানা অপমানজনক আর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের।

সেভ দ্য চিলড্রেনের একটি প্রতিবেদনেও বাংলাদেশে শিশুদের অবস্থা সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। শিশুদের শৈশবকালীন অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশের যে অবস্থান আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে, তা হতাশাজনক। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুর শৈশব রক্ষায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৪তম। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলংকাও আমাদের চেয়ে এগিয়ে। বিশ্বে প্রায় ৭০ কোটি বা তারও বেশি শিশুর শৈশব নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

বস্তুত একজন মর্যাদাপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ আমরা খুব কমই দিতে পারছি শিশুকে। আমাদের শিশুরা এখন জানালার গ্রিল দিয়ে বাইরের খোলা আকাশ দেখে। খেলার মাঠ কমে যাওয়ায় তাদের বিকেল কাটে স্মার্টফোনের গেমস বা ইউটিউবে। শিক্ষা প্রাতষ্ঠানে যেভাবে পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয় তাতে শৈশবেই তারা অনেক চাপের মধ্যে থাকে।

এই শিশু বয়সেই বিদ্যালয়ে যাচ্ছে তারা বইয়ের ভারি ব্যাগ বহন করে। আবার দেখা গেছে প্রথম শ্রেণি থেকেই কিছু অভিভাবক শিশুদের অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেন। এতে করে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে তাদের হাসি-খুশি উচ্ছল সময়।  গ্রামাঞ্চলে অনেক শিশুর মূল সমস্যা দারিদ্র্য যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশ কিংবা পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে শারীরিক-মানসিক বিকাশ হচ্ছে না তাদের।

দেশে শিশুদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় যেসব ব্যবস্থা আছে, সেসব পর্যাপ্ত নয়। এক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা যথাযথভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন। শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে। এটি তাদের মৌলিক অধিকার। আর তাদের এ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। এক্ষেত্রে পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ ও রাষ্ট্র সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ জুন ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop