ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৩ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-০৭ ৬:৩২:৪৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৭-৩০ ৭:৪৮:৪২ পিএম

এখন রমজান মাস চলছে। আর এ মাসে বড় উদ্বেগের কারণ ইফতারি পণ্যসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের মানের বিষয়টি। ব্যবসায়িক লাভের উদ্দেশে প্রায় প্রতিটি খাদ্যে ভেজাল দেওয়া হচ্ছে। অতি মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ভেজাল, বিষাক্ত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যে সয়লাব থাকে বাজার। এর ফলে রমজান জুড়ে অধিক ঝুঁকির মুখে থাকে জনস্বাস্থ্য।

রমজান মাসে সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বিষাক্ত রং। ইফতারির বেশির ভাগ আইটেমেই নানা ধরনের রং মিলিয়ে মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়। মিষ্টি ও তৈলাক্ত আইটেমেও ভেজালের প্রবণতা দেখা যায় রুটিন পরীক্ষা নিরীক্ষায়। ভাজা আইটেমেও রাসায়নিক মেশানো হয়। রোজার সময় বিভিন্ন ধরনের খাদ্য বেচাকেনা বেড়ে যায়। এ সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল ও বিষাক্ত উপাদান মিলিয়ে কম মূলধনে বেশি মুনাফার চেষ্টা করে। আর এসব ভেজাল ও বিষাক্ত উপাদান থেকে মানুষ নানা রোগের ঝুঁকিতে পড়ে।

ভেজাল খাদ্য তৈরিতে এমন অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যেগুলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অনেক সময় তা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাছে ও দুধে ফরমালিন, ফল পাকাতে কার্বাইড, মুড়িতে মেশানো হচ্ছে ইউরিয়া। অন্য দিকে গুঁড়া মসলা, চানাচুর ও রঙিন খাবারে ব্যবহার করা হয় শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কাপড়ের রং। মুরগির খাবার বা পোলট্রি ফিড তৈরি হয় ট্যানারিশিল্পের বর্জ্য দিয়ে। অথচ এই বর্জ্যে ক্রোমিয়ামসহ এমন সব বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য থাকে, যেগুলো মাংসের মাধ্যমে মানবদেহে চলে আসে।

কথায় বলে স্বাস্থ্যই সম্পদ। আর এই মূল্যবান সম্পদের জন্য দরকার নিরাপদ খাদ্য। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, দেশে নিরাপদ খাবার পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক এক গবেষণার তথ্য মতে,  এদেশের ৪০ শতাংশেরও বেশি খাবারে ভয়ংকর সব রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়। আরি এসব খাবার খেয়ে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের দূরারোগ্য ব্যাধিতে।

আসলে আমাদের দৈনন্দিক জীবনের প্রয়োজনীয় খাবারের অধিকাংশই ভেজালযুক্ত। এমনকি জীবন রক্ষার জন্য আমরা যে ওষুধ সেবন করি সেখানেও ভেজাল। অথচ দেশে খাদ্য নিরাপত্তা আইন থাকলেও এর সঠিক বাস্তবায়ন নেই। উপযুক্ত নজরদারি, কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতার অভাবে ভেজালকারীদের দৌরাত্ম কমছে না। শহরাঞ্চলে বিশেষ করে ঢাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানসহ কিছু কিছু পদক্ষেপ মাঝেমধ্যে নেওয়া হয়। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। আর সারাদেশ, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারে অবস্থা তথৈবচ।

নিরাপদ খাদ্য অধ্যাদেশ ২০০৫ অনুযায়ী খাদ্যে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ফরমালিন, ইটোফেন, কীটনাশক বা বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার নিষিদ্ধ। উন্নত দেশগুলোতে প্রিজারভেটিভ হিসেবে ফরমালিনের ব্যবহার অনেক আগেই নিষিদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশেও আইন আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। দেশে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকরা এর জন্য প্রধানত ভেজাল খাদ্যকেই দায়ী করছেন।

শুধু খাবার নয়, অসুস্থ হলে যে ওষুধ খেয়ে আমরা বাঁচার চেষ্টা করি, সেই ওষুধেও ভেজাল। এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি  নাগরিক সমাজেরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে । গড়ে তুলতে হবে জনসচেনতা ও সামাজিক আন্দোলন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ জুন ২০১৭/আলী নওশের

Walton
 
   
Marcel