ঢাকা, শুক্রবার, ১২ শ্রাবণ ১৪২৪, ২৮ জুলাই ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

মাশরাফি বাহিনীর ধ্রুপদি জয়

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-১০ ৮:৪৪:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-২৯ ১:৫৪:১২ পিএম

ইংল্যান্ডের কার্ডিফে আবারো এক ইতিহাস রচনা করলো বাংলাদেশ। খাদের কিনারা থেকে উঠে মহাকাব্যিক জয় ছিনিয়ে আনলো মাশরাফি বাহিনী। অনন্য অসাধারণ ধ্রুপদি খেলা উপহার দিয়েছে বাংলাদেশি টাইগাররা। তাদের এই জয়কে আসলে কোন বিশেষণ দিয়ে তুলনা করা যায় না।

সেমিফাইনালে খেলার আশা জিইয়ে রাখতে শুক্রবারের ম্যাচে সাকিব-মাহমুদুল্লাহদের জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। আগে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ডকে ২৬৫ রানে আটকে রেখে সে আশাকে আরো উজ্জীবিত করলো বাংলাদেশ দল। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৩ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বসে টাইগার বাহিনী। ফলে আশা ছেড়ে দেন সমর্থকরা। আশাহত হয়ে অনেকে খেলা দেখাও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।  পরে তাদের অনেকই আফসোস করেছেন।

তবে যারা ধৈর্য ধরে শেষ পর্যন্ত খেলা দেখেছেন তারা কী ভাবতে পেছিলেন এমন অসাধারণ খেলা খেলবে বাংলাদেশ?  ১৬ বল হাতে রেখে যে ভাবে পাঁচ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নিয়েছে টাইগাররা তা এককথায় তুলনাহীন। সাকিব-রিয়াদ সেঞ্চুরি করে ২২৪ রানের রেকর্ডভাঙা জুটি গড়েন। অনেকেই পরাজয়ের ব্যবধান কমানো কিংবা সম্মানজনক পরাজয়ের কথা ভাবছিলেন। ক্রিকইনফোতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর নিয়ে গবেষণাও চলছিল। অথচ ঠিক তার উল্টো করে দেখালেন সাকিব-রিয়াদ।

বস্তুতঃ বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এভাবে ফিরে আসার গল্প বিরল। ২৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দলের সেরা চার ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরলেন মাত্র ৩৩ রানে। এমন কঠিন চাপের মুখে দাঁড়িয়ে সাকিব-রিয়াদ যা করে দেখালেন তা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। দুই জনই সেঞ্চুরি করলেন। তারা বুঝিয়ে দিলেন অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। ক্ল্যাসিক্যাল ব্যাট করেছেন দুজনেই। দীর্ঘ ব্যাটিংয়ে তারা কোনো বাজে শট খেলেননি। যে বলে যে রকম মার দেওয়া প্রয়োজন সেরকমটিই তারা খেলেছেন।

প্রয়োজনের সময় পরিমিত ব্যাটিংয়ের অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন দুজনে। তবে তার আগে ফিল্ডিংয়ে টাইগার বাহিনীর নৈপুণ্যকেও অস্বীকার করা যাবে না। কিউইরা যেভাবে খেলছিল তাতে মনে হচ্ছিল তাদের রান ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু মাশরাফি বাহিনী তাদের এমনভাবে চেপে ধরল যে তারা পূর্ণভাবে ডানা মেলে উড়তে পারেনি। এখানে মোসাদ্দেকের দুই ওভারে তিন উইকেট তুলে নেওয়াটা ছিল টার্নিং পয়েন্ট।

নিউজিল্যান্ডকে এর আগেও হারিয়েছি আমরা। তাদের হোয়াইট ওয়াশও করেছে মাশরাফি-মুশফিকরা। তা সত্ত্বেও শুক্রবারের ওই জয়ের মাহাত্ম্যই অন্যরকম। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মত বড় আসরে এমন জয়, বাংলাদেশ সম্পর্কে অন্যদের নতুন করে ভাবাচ্ছে।

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে এর আগে বাংলাদেশ অনন্য এক বিজয় লাভ করেছিল ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে। ২০০৫ সালে সে ম্যাচের নায়ক ছিলেন আশরাফুল। ১০১ বলে সেঞ্চুরি করে একাই হারিয়ে দিয়েছিলেন মহাপরাক্রমশালী অসিদের। এবার কার্ডিফে খেলতে নামার আগে বারবার ফিরে আসছিল সেই ম্যাচের স্মৃতি। সেই ম্যাচের একজনই খেলেছেন এবারের ম্যাচে। তিনি বর্তমান বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি। তাইতো জয়ের পর মাশরাফির উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধভাঙ্গা। আর আশরাফুলের মতো আরো দুটি ফুল ফুটিয়েছেন সোফিয়াতে সাকিব-রিয়াদ।

তাই অনন্য অসাধারণ এই জয়ের পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলাদেশ  খেলবে এমন প্রত্যাশা সবার। যদিও এটি নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়া-ইংলান্ড খেলার ফলাফলের ওপর। শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে যেতে না পারলে আফসোস হয়তো থাকবে। তবে তাতে হতাশা প্রকাশ করবে না কেউ। কেননা মাশরাফিরা যা দেখানোর তা দেখিয়ে দিয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটে তা উজ্জ্বল হয়ে থাকবে যুগের পর যুগ।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ জুন ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop