ঢাকা, শুক্রবার, ১২ শ্রাবণ ১৪২৪, ২৮ জুলাই ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-২০ ৭:২৭:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-২৯ ১:৫৫:২০ পিএম

রাজধানীবাসীকে বর্তমানে ভোগাচ্ছে চিকুনগুনিয়া নামে একটি রোগ । এটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রমণ। মারাত্মক বা খুব জটিল রোগ না হলেও সাময়িক বেশ যন্ত্রণার মধ্যে কাটাতে হয় আক্রান্তকে। আর এ রোগের বাহক বা এর জন্য দায়ী হচ্ছে এডিস নামের মশা। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশা সুস্থ কাউকে কামড়ালে তার শরীরেও চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ ঘটে।

তাই চিকুনগুনিয়া নিয়ে এখন রাজধানীতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নগরীর অধিকাংশ এলাকায়  চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমনও পরিবার আছে, যেখানে প্রায় সবাই আক্রান্ত হয়েছেন । বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য এটি খুবই অসহনীয় একটি ব্যাপার।

চিকুনগুনিয়া যেহেতু মশার মাধ্যমে ছড়ায় তাই এ রোগের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মশা যাতে কামড়াতে না পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মশার বাসস্থান ধ্বংস করতে হবে। এ জন্য ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বা সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আর এ কাজটিই করেছেন সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের ১০ হাজার শিক্ষার্থী।

সাধারণত স্বচ্ছ কিংবা আধা-অস্বচ্ছ পানিতে চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশা বংশবিস্তার করে। আর এটি রোধে মশার বাসস্থান ধ্বংস করা প্রয়োজন। তাই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গত ১৭ জুন মশক নিধনে বা মশার বাসস্থান ধ্বংস করতে নেমেছিলেন তারা। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে মহানগরীর ৯২টি ওয়ার্ডে ঘুরে তারা এ কাজ করেছেন।

এক্ষেত্রে যেখানে-সেখানে পড়ে থাকা ডাবের খোসা, মাটির হাঁড়ি, পুরনো টায়ার-টিউব, ড্রাম, ক্যান, বোতল, ইত্যাদিতে জমে থাকা পানি অপসারণ করেছেন।  তারা ঘরে ঘরে গিয়ে বুঝিয়েছেন, এ সব পাত্রে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সপ্তাহে অন্তত একদিন জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে। বাসায় বাসায় গিয়ে চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীদের পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। এধরনের জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। আগে আমরা দেখেছি বড় রকমের ঝড়, বন্যাসহ নানা দুর্যোগে শিক্ষার্থীরা দুর্গত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে অর্থ ও পুরনো কাপড় সংগ্রহ করতেন, রাত জেগে স্যালাইন বানাতেন এবং সেসব নিয়ে দুর্গত এলাকায় ছুটে যেতেন।

ইদানীং এমন উদ্যোগ খুব কমই চোখে পড়ে। রাজধানীতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ আমাদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ জাগায়। এর মধ্য দিয়ে তরুণদের সামাজিক অঙ্গীকারের বিষয়টি সামনে চলে আসে। মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী এ কার্যক্রমে সেদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও অংশ নিয়েছিলেন। আমরা তাদের সবাইকে প্রশংসনীয় এ উদ্যোগের জন্য স্বাগত জানাই।

গত ১ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫৭টি এলাকায় জরিপ চালিয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি এলাকায়  চিকুনগুনিয়াবাহী ব্যাপক এডিস মশা দেখা গেছে। বোতল, টায়ার, ডাবের খোসা, মাটির হাঁড়ি ইত্যাদির মধ্যে শতকরা ৫২টির মধ্যেই জীবাণু পাওয়া গেছে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কারও পক্ষে বিচ্ছিন্নভাবে এ রোগ থেকে দূরে থাকার সুযোগ নেই। তাই এটি প্রতিরোধে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ।

এ ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন এবং মেডিকেল কলেজের ছাত্র-শিক্ষকরা যে প্রতিরোধ কর্মসূচির সূচনা করেছেন, আমরা আশা করব তা অব্যাহত থাকবে। আমরা প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি, তাহলে চিকুনগুনিয়াসহ নানা রোগ উৎস মূলেই নির্মূল করা সম্ভব হবে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২০ জুন ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop