ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ : প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৭-০২ ৯:২৮:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-০৫ ৭:২৫:৫৭ পিএম

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে এক বছর আগে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা। মাহে রমজানে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ যখন তারাবির নামাজ আদায়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে জঙ্গি হামলার শিকার হয় গুলশানের এই অভিজাত রেস্তোরাঁ। জঙ্গিদের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় দেশি-বিদেশি ২২ নাগরিক।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথে হঠাৎ করেই যেন কাঁটা বিছিয়ে দেয় এ হামলার ঘটনা। হত্যাকাণ্ডের টার্গেট ছিল মূলত সেইসব বিদেশি যারা বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে এ দেশে এসেছিলেন। সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি, দুজন বাংলাদেশি, একজন যুক্তরাষ্ট্রের এবং একজন ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া, ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে প্রাণ দেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা।

ইতালীয় যারা নিহত হন তাদের প্রায় সবাই পোশাক শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ইউরোপীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করাই হয়তো উদ্দেশ্য ছিল চক্রান্তকারীদের। আর উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু জাপানের যে সাত নাগরিক এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পদক্ষেপ মেট্রোরেলের উপদেষ্টা হিসেবে । তবে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং দেশকে জঙ্গিবাদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলার চক্রান্ত যারা করেছিল তাদের সে উদ্দেশ্য সফল হতে দেয়নি বাংলার মানুষ। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। তাদের তৎপরতা ও প্রতিরোধে জঙ্গিরা এদেশে তাদের থাবা বিস্তার করতে পারেনি। তবে আমাদেরকে দেশ ও জাতির শত্রুদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

হলি আর্টিজান ঘটনার পর সরকার সন্ত্রাস মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ফলে ‘নব্য জেএমবি’ হিসেবে যারা দেশে জঙ্গিবাদ বিস্তারের চেষ্টা করছে তা নস্যাৎ করে দিচ্ছে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভয়াল ওই ঘটনার পর এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর কল্যাণপুর এবং নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থানে সফল অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দেশে সন্ত্রাসবিরোধী জনসচেতনতাও বেড়েছে অনেক।

অবশ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যে ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে তাতে মানুষের মনে স্বস্তি এলেও এখনও অনেকের মনকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে ভয়াবহ সেই ঘটনা। আরেকটি আশঙ্কার বিষয় হলো, সন্ত্রাসের সঙ্গে পরিবারের নারী ও শিশুদের যুক্ত করার এবং আত্মঘাতী হয়ে ওঠার প্রবণতা। এক্ষেত্রে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই নয়, এ প্রবণতা ঠেকাতে সমাজের সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। 

তাই জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও নির্মূলে সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে হবে আমাদের। দেশের আপামর জনগণ সন্ত্রাস সমর্থন করে না। সুতরাং জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে পরিকল্পিতভাবে সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিবিরোধী প্রচারণায় তরুণদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যত বেশি তরুণদের সম্পৃক্ত করা যাবে, তত ফলপ্রসু হবে এ উদ্যোগ। সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে অভিভাবকদের মধ্যে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নও করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ জুলাই ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop