ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:
বিমানবন্দরে আগুন

এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-১৩ ৯:১৯:৩১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-১৪ ১০:৫১:০৬ এএম

রাজধানীর হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে যা খুবই উদ্বেগের বিষয়। আগুনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এ সময় বিমানবন্দরের বহির্গমন কার্যক্রম প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক রুটের কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেভাবেই হোক না কেন, এ ধরনের ঘটনায় আবারও শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার প্রশ্নটি সামনে চলে আসে। এমনিতে হজ ফ্লাইট নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে আবার এই অগ্নিকাণ্ড। এতে বিমানবন্দরের ভাবমূর্তির সংকট তৈরি হবে। শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বারবার প্রশ্ন উঠছে। তাই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আবারও এ বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে  চলে আসতে পারে।

বিমানবন্দর নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর তা থেকে বেরিয়ে আসা আরো কঠিন হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বিমানবন্দর সম্পর্কে আরো নেতিবাচক বার্তা দেবে যা কখনোই আমাদের কাম্য নয়। এর আগে ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া অপর্যাপ্ত নিরাপত্তার কথা বলে এ বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এরপর জার্মানিও তাদের অনুসরণ করে। এখন নিরাপত্তার প্রশ্নে অন্য আরও দেশ যদি ফ্লাইট পরিচালনা থেকে বিরত থাকে, তাহলে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে অবশ্যই ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আরো সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তির প্রশ্নও জড়িত। এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে কোনো কারসাজি রয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কিন্তু দুর্ঘটনা হোক কিংবা নাশকতা হোক, বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় আগুন কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আগুনের ঘটনা তদন্তে আলাদাভাবে দুটি কমিটি করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস। আমরা চাই তদন্তে সঠিক বিষয়টি বেরিয়ে আসবে এবং কর্তৃপক্ষ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা চাই এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।

কেন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিমানবন্দরের বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কি না তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। আমাদের প্রত্যাশা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বিমানবন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। তা না হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে আরো বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে যা থেকে বেরিয়ে আসা খুব কঠিন হয়ে পড়বে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ আগস্ট ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop