ঢাকা, সোমবার, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৮ জুন ২০১৮
Risingbd
ঈদ মোরারক
সর্বশেষ:
কোরবানির পশুর হাট

সরবরাহ যাতে নির্বিঘ্ন-নিরাপদ থাকে

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-১৬ ১২:১৫:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-১৬ ১২:১৫:০০ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। কোরবানির পশু হাট বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে।  রাজধানীতে আগে যেখানে-সেখানে গরু-ছাগলের হাট বসানো হতো। এ প্রবণতা অনেকটা বন্ধ হয়েছে। এ বছর পশু কেনা-বেচার জন্য রাজধানীতে ২২টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১৩টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ৯টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। হাট বরাদ্দের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে।

এদিকে রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যত্র পশুর হাট বসানোরও প্রক্রিয়া চলছে। কয়েক বছর ধরে নির্ধারিতসংখ্যক হাট বসলেও হাটের স্থান নিয়ে সমস্যা যায়নি। স্কুল-কলেজের মাঠ, খেলার মাঠ, পার্ক কিংবা সড়ক ও রেললাইনের পাশে হাট বসে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। এবার অবশ্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এসব স্থানে  পশুর হাট না বসানোর জন্য বলেছে। মন্ত্রণালয় থেকে সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চিঠি দিয়ে এব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশনা কতটা পালিত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে  কড়া নজরদারী এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তবে শঙ্কার বিষয় হলো দেশের উত্তর, মধ্য ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার কারণে এবার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। কেননা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর বড় অংশের জোগান আসে উত্তরাঞ্চল থেকে। কিন্তু বন্যার কারণে তা ব্যাহত হতে পারে। আকস্মিক বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক নেই। বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সড়কগুলোর অবস্থা যাচ্ছেতাই। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে যাতে স্বল্প সময়ের মধ্যে তা যান চলাচল উপযোগী করা যায়। এক্ষেত্রে পানি সরে গেলে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পশুর সরবরাহ যাতে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেষ্ট থাকতে হবে।

কোরবানির পশু ক্রেতাদের জন্য শঙ্কার বিষয় হলো কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু। দেখা গেছে প্রতিবছর একটি চক্র কম দামে গরু কিনে বেশি দামে বিক্রি করার জন্য স্টেরয়েড জাতীয় বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য গরুকে খাওয়ায় কিংবা ইনজেকশনের মাধ্যমে গরুর দেহে প্রবেশ করায়। এর ফলে গরুর কিডনি, লিভার নষ্ট হয়ে যায়। গরুর শরীরে পানি জমে ও দ্রুত ফুলে যায়। এতে গরুকে বেশ নাদুসনুদুস দেখায়। এসব গরু দেখে বিভ্রান্ত হন ক্রেতারা। এসব গরুর মাংস খেলে মানুষের শরীরেও বিষ ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এধরনের মোটাতাজা গরু যাতে হাটে ঢুকতে না পারে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

কোরবানির পশু পরিবহন ও পশুর হাটকে কেন্দ্র করে তৎপর থাকে অপরাধী চক্র। এরা অস্ত্রের মুখে পশুবাহী ট্রাক বা ট্রলার-নৌকায় চাঁদবাজী করে। অনেক সময় পশু লুট করে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। দেখা গেছে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে একটি চক্র জাল টাকা ছড়িয়ে দেয় হাট-বাজারে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ যন্ত্র রাখা হয় তারপরেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে জালচক্র যেন হাটে ঢুকতে না পারে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পশুর হাটে পকেটমারের দৌরাত্ম্যও দেখা যায়। এদের ব্যাপারেও সাবধান থাকতে হবে সবাইকে।

 

 

রাইজিংবিডি/১৬ আগস্ট ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop
 
   
Walton AC