ঢাকা, শনিবার, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:
পবিত্র ঈদুল আজহা

মূল বিষয় অন্তরের পশুত্বকে কোরবানি

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-০১ ৭:৪১:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-২২ ১১:০৫:১৭ এএম

বছর ঘুরে আবার এসেছে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই উৎসব। কোরবানির অর্থ ত্যাগ বা উৎসর্গ। আল্লাহতায়ালা প্রিয় বস্তুকে উৎসর্গ করতে বলেছেন। ঈদুল আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিজের অহমিকা ও উচ্চাভিলাষ উৎসর্গ করা। পশু কোরবানির ভেতর দিয়ে মানুষের ভেতরে থাকা পশুশক্তি, কাম-ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি রিপুকে পরিত্যাগ করতে হয়। এর ভেতর দিয়ে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের দিকে অগ্রসর হয় মুসলমান সম্প্রদায়।

পবিত্র এই দিনের সূচনা হয়েছিল হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সময়। প্রায় চার হাজার বছর আগে হজরত ইবরাহিম (আ.) স্বপ্নে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানির জন্য মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পেয়েছিলেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইবরাহিম (আ.) তার ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। এরই সূত্র ধরে সমগ্র মুসলিম জাহানে আজও চলে আসছে কোরবানির এই ধারা। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে সারা বিশ্বের মুসলমানরা ১০ জিলহজ কোরবানি দিয়ে থাকেন।

মহান আল্লাহর প্রেমে সর্বোচ্চ ত্যাগের শিক্ষাই হচ্ছে ঈদুল আজহার শিক্ষা। কিন্তু দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই ত্যাগের চেয়ে লৌকিকতা, দাম্ভিকতা ও ভোগ-বিলাসের দিকটিই প্রধান হয়ে ওঠে, যা সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়। সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দিয়ে দরিদ্র প্রতিবেশীদের মধ্যে এর মাংস বিতরণ করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। পরিতাপের বিষয়, আমাদের অনেকের কাছে ইদানীং প্রতিযোগিতা করে মাংস খাওয়া এবং মাসের পর মাস ফ্রিজে জমিয়ে রাখা কালচারে পরিণত হয়েছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে- আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে কোরবানি করা পশুর রক্ত বা মাংস কিছুই পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় বান্দার তাকওয়া। কাজেই কোরবানি কোনো লোক দেখানো বা প্রতিযোগিতার বিষয় নয়। কোরবানির অর্থ ত্যাগ বা উৎসর্গ। আল্লাহতায়ালা প্রিয় বস্তুকে উৎসর্গ করতে বলেছেন। আমরা তার আদেশ পালন করব অন্তরের তাগিদে, মানুষকে দেখানোর জন্য নয়।

কোরবানির মাধ্যমে আমরা ভেতরের পশুশক্তিকে যেমন হত্যা করব, তেমনি সুদৃঢ় করব মানুষে মানুষে ভালোবাসা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অভুক্ত শীর্ণ মানুষের জন্য দু’এক বেলা উন্নতমানের আহারের ব্যবস্থা করা যায়। হতদরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর ভেতর দিয়ে আমরা সার্থক করে তুলতে পারি ঈদের আনন্দ। বঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার ভেতর দিয়ে আমরা স্থাপন করতে পারি সহমর্মিতার নতুন দৃষ্টান্ত।
 

পশু কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। রাস্তার ওপর বা যত্রতত্র কোরবানি দেওয়া অনুচিত। এতে পরিবেশ দূষিত হয়, দুর্গন্ধ ছড়ায়। দেশের সর্বত্র একই সময়ে বিপুলসংখ্যক পশু কোরবানি করার ফলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দেখা দেয়। এ জন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য তৎপর থাকতে হবে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মানুষ নিজ নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে উদ্যোগী হলে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার কাজ অনেকটা সহজ হবে।

ত্যাগের মহিমায় ক্ষুদ্রতা ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দেয় ঈদুল আজহা। আমাদের সবার উচিত ঈদুল আজহার ত্যাগের আদর্শ অনুসরণ করা। বন্যায় বিভিন্ন এলাকার মানুষ নিদারুণ কষ্টে আছেন। আনন্দের এই সময়ে আমাদের প্রয়োজন সেসব বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সাহায্য করা। পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা, সহযোগিতা, বন্ধুত্ব, মমতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে ঈদুল আজহার আদর্শকে আমরা সমুন্নত রাখতে পারি। রাব্বুল আলামিন আমাদের সেই তাওফিক দান করুন।

ঈদুল আজহার এই আনন্দময় উৎসবে আমাদের অগণিত পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি রইল শুভেচ্ছা। সবাইকে ঈদ মোবারক।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ সেপ্টেম্বর ২০১৭/আলী নওশের

Walton
 
   
Marcel