ঢাকা, সোমবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

রাজধানী হোক যানজটমুক্ত

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৮ ৯:২৮:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০২-১৫ ১২:৫২:৪৭ পিএম

দীর্ঘ প্রায় ছয় বছরের বিপুল কর্মযজ্ঞ শেষে অবশেষে পুরোপুরি চালু হয়েছে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ অক্টোবর এই ফ্লাইওভারের শান্তিনগর-মৌচাক-রাজারবাগ অংশ উদ্বোধন করেন। এরপর তা যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ ফ্লাইওভারের সাত রাস্তা, বাংলামোটর ও হলি ফ্যামিলি অংশের ওঠানামার পথ আগেই খুলে দেওয়া হয়েছিল। রাজধানীবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ফ্লাইওভার পুরোপুরি চালু হওয়ার ফলে মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগের যানজট কমার পাশাপাশি এসব এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘ দিনের ভোগান্তির অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ-শান্তিনগর-তেজগাঁওয়ের যানজট নিরসন ও এই এলাকায় অবাধ যান চলাচল নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। তিন ধাপে সম্পন্ন হওয়া আট দশমিক ৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ ফ্লাইওভারের নির্মাণ ব্যয় ১ হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে কয়েক বছর ধরে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের।

ঢাকা মহানগরীকে যানজটমুক্ত করার জন্য এটি অনেক বড় একটি পদক্ষেপ। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, যানজট কমিয়ে মানুষের সময় বাঁচানোর পাশাপাশি এ এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য বাড়াতে ফ্লাইওভারটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বস্তুতঃ নগরবাসী সবার প্রত্যাশা  দীর্ঘ ভোগান্তির পর চালু হওয়া এই ফ্লাইওভার মগবাজার-মৌচাক-শান্তিনগর-রাজারবাগ ও মালিবাগ এলাকার যানজট অনেকাংশে হ্রাস করবে। তবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে চালু হওয়ার পর ফ্লাইওভারের বিভিন্ন প্রান্তে যানজট তৈরি হতে দেখে। ফ্লাইওভারের ‘সিগন্যাল বাতি’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঘন ঘন ট্রাফিক সিগন্যাল মহানগরীর যানজটের একটি বড় কারণ। অথচ যানজট নিরসনে নির্মিত ফ্লাইওভারেই বসানো হয়েছে ট্রাফিক সিগন্যাল। এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলে মনে হয়। যানজট নিরসনে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ভুল নকশা প্রণয়ন, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাতে প্রকল্পের কাজ শেষ হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। আগামীতে যাতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকটি সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ সময়মতো কাজ সম্পন্ন না হলে জনদুর্ভোগ এবং অর্থব্যয় বেড়ে যায়।

বস্তুতঃ যানজটমুক্ত নগরী গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থা, ফুটপাত দখলদারমুক্ত, ট্রাফিক সিগন্যালের যথাযথ ব্যবহার, যত্রতত্র গাড়ি পাকিং এবং যাত্রী ওঠা-নামা না করা, পথচারীদের আইন মেনে রাস্তা পারাপার ইত্যাদি জরুরি। রাজধানীর সড়কগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে যান চলাচলের উপযোগী না হলে শুধু ফ্লাইওভারে সমস্যা দূর হবে না। বর্তমানে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যানজটের দুর্ভোগ থেকে নগরবাসীর মুক্তি মিলবে এমনটিই প্রত্যাশা।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ অক্টোবর ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop
 
     
Walton