ঢাকা, শনিবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ জুন ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

এগিয়ে আসতে হবে নিরাপত্তা পরিষদকেও

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১২-২৮ ২:৪১:৩৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-২৮ ৩:০৯:০১ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সম্মানজনকভাবে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ওই প্রস্তাবে। এছাড়া রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন বন্ধ এবং সেখানে ত্রাণকর্মীদের প্রবেশাধিকার দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) উত্থাপিত ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ১২২টি, বিপক্ষে ১০টি। ভোটদানে বিরত ছিল ২৪টি দেশ। এর আগে গত ১৬ নভেম্বর সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার বিষয়ক থার্ড কমিটিতে একই আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগ করে সেখানে অভিযানের নামে অমানবিক নির্যাতন করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তারা রোহিঙ্গাদের গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। নির্বিচারে নারীদের ধর্ষণ করেছে, হত্যা করা হয়েছে হাজার হাজার পুরুষকে। জীবন বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বিশ্ব জনমতকে থোড়াই কেয়ার করে এখনো ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার গত চার মাসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে।

এর আগে জাতিগত দাঙ্গার ঘটনায় ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে দুদফায় কয়েক লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তখন আলোচনার মাধ্যমে কিছু রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হলেও তাদের বেশিরভাগ বাংলাদেশে রয়ে গেছে। আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গার কারণে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাসমূহে আর্থ-সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর । তাই যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

মিয়ানমার সরকারের মানবতাবিরোধী ভূমিকার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। রোহিঙ্গা বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এ ভোটাভুটিতে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, বিশ্ব জনমত  মানবতার পক্ষে। তবে সাধারণ পরিষদের কোনো সিদ্ধান্ত সদস্যভুক্ত কোনো দেশের জন্য মানার বাধ্যবাধকতা না থাকায় মিয়ানমার এতে সায় দেবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাধারণ পরিষদে দেড় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দুবার প্রস্তাব পাস হলেও এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব পাস হয়নি। এর কারণ স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে দুই সদস্য চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতা।

এ অবস্থায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে। ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের কারণে চীন, রাশিয়া এবং এমনকি ভারতও মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রভাবশালী এ তিন দেশকে পক্ষে আনার প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে আমাদের। আর রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদকেও এগিয়ে আসতে হবে। এ পরিষদ সক্রিয় ভূমিকা রাখলে দ্রুত সংকটের অবসান হতে পারে।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ ডিসেম্বর ২০১৭/আলী নওশের

Walton Laptop
 
   
Walton AC