ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৪ মে ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:
বেসরকারি চিকিৎসাসেবা

সহজলভ্য ও মানসম্পন্ন করতে হবে

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০২-১০ ৫:২০:৩৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৩-১৭ ৭:০৯:০০ পিএম

দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট। এ খাতে গড়ে উঠেছে কমিশনভিত্তিক বিপণন ব্যবস্থা। বেসরকারি চিকিৎসাসেবায় সরকারের যথাযথ মনোযোগের ঘাটতি রয়েছে। এতে একদিকে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদনে টিআইবি বলছে, দেশে সরকারি খাতের চিকিৎসাসেবা অপ্রতুল হওয়ায় সাধারণ মানুষ বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যান চিকিৎসার জন্য। বেসরকারি খাতের চিকিৎসাসেবা ব্যয়বহুল। কিন্তু ব্যয়বহুল এ চিকিৎসার ক্ষেত্রেও মানুষ যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রতারিতও হন। সেবাগ্রহীতাদের দুর্দশা অতিমাত্রায় হওয়ায় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি।

গবেষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত ১১৬টি (হাসপাতাল ৬৬টি এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র ৫০টি) বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।  এতে দেখা যায় ৯৭টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেয়নি। শুধু তা-ই নয়, বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আইন ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স ১৯৮২’ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ (আপডেট) করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও করা হয়নি। অথচ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী জনসংখ্যার প্রায় ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেবার অতিরিক্ত মূল্য আদায়সহ বিধি-বহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। অবকাঠামো, জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতিসহ সার্বিক সক্ষমতায় ঘাটতি থাকায় সঠিক ও মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ও স্বাস্থ্যগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দেশের চিকিৎসাসেবার প্রতি আস্থা হারিয়ে সেবাগ্রহিতাদের বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বস্তুতঃ বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাত গড়ে উঠেছে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ব্যবসায়িক মনোবৃত্তিতে। এসব প্রতিষ্ঠান চলছে প্রায় তাদের নিজেদের ইচ্ছামতো। এর ফলে উচ্চ মুনাফাভিত্তিক একটি ব্যবসা খাতে পরিণত হয়েছে এটি। শুধু তাই নয়, বড় বড় অনেক বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে রোগী বা রোগীর স্বজনদের জিম্মি করে অনৈতিক পন্থায় অর্থ আদায়ের জোরালো অভিযোগ আছে। এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

চিকিৎসা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। তাই এ খাতের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য ও মানসম্পন্ন করতে হবে। সরকারের উচিত অবিলম্বে এদিকে দৃষ্টি দেয়া। বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তথা এ খাতের প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনসহ ১৬টি সুপারিশ করেছে টিআইবি।

গঠিত কমিশন এ খাতের চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানের উপায় অনুসন্ধান করবে এবং সে অনুয়ায়ী কাজ করার সুযোগও সৃষ্টি করতে হবে বলে সুপারিশে উল্লেখ করা হয়। আমরা মনে করি এসব সুপারিশ আমলে নিয়ে বাস্তবায়ন করা হলে চিকিৎসাসেবা খাত সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং এ চিকিৎসাসেবার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/আলী নওশের

Walton Laptop
 
   
Walton AC