ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৬ আগস্ট ২০১৮
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:
মহান মে দিবস

শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০১ ৭:৪৬:৪৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-০১ ১২:০৯:১৩ পিএম

পয়লা মে, মহান মে দিবস। সারা বিশ্বে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাদের নির্দিষ্ট কোনো কর্মঘণ্টা ছিল না ওই সময়। মালিকপক্ষের ইচ্ছানুযায়ী নামমাত্র মজুরিতে তারা কাজ করতে বাধ্য হতেন। সে দিন হে মার্কেটে শ্রমিকদের সমাবেশে পুলিশ গুলি চালিয়ে আন্দোলন স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। গুলিতে মারা গিয়েছিলেন ছয় শ্রমিক। এর প্রতিবাদে ৪ মে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন হাজার হাজার শ্রমিক  । সেদিনও পুলিশের গুলিতে পাঁচ শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তাতে শ্রমিকদের আন্দোলন থেমে যায়নি, বরং তা আরো শক্তিশালী হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত আট ঘণ্টা শ্রমসময়ের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক ঐক্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই থেকে সারা দুনিয়ার শ্রমিক সমাজ আজকের দিনটিকে পরম শ্রদ্ধাভরে পালন করে আসছে। নির্দিষ্ট শ্রমঘণ্টার সঙ্গে পরে বেতন বৈষম্য দূর করা, ন্যূনতম মজুরি, নিয়োগপত্র প্রদানের মতো বিষয়ও শ্রমিকদের জোরালো দাবিতে পরিণত হয়।

বস্তুত এই মে দিবসের পথ ধরেই শ্রমিকদের নানা অধিকার অর্জিত হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের নিজেদের ও তাদের শ্রমের মর্যাদা পেয়েছে গুরুত্ব। উন্নত দেশে এখন শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি কাজের পরিবেশও হয়েছে উন্নত। তবে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর শ্রমিক শ্রেণীর দুর্দশা ঘোচেনি। বর্তমানে বাংলাদেশে শ্রমবাজারের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শ্রমিকরা তাদের ন্যায়সংগত অধিকার পুরোপুরি পাচ্ছে না।

অনেক বেসরকারি শিল্প-কারখানায় আইএলও নির্ধারিত শ্রমঘণ্টা মানা হয় না। সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে শিশু শ্রমিক নিয়োগ এখনও অব্যাহত আছে। এছাড়া নানা ধরনের বৈষম্য রয়েছে  শ্রমবাজারে।  নারী শ্রমিকরা শিকার হচ্ছেন মজুরি বৈষম্যের। অনেক কারখানায় নিয়োগ বা চাকরিচ্যুতির কোনো নিয়মকানুন মানা হয় না। কথায় কথায় শ্রমিক ছাঁটাই, বকেয়া পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ করে দেওয়া, এমনকি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে। শ্রমিক শ্রেণি সামাজিকভাবে মর্যাদা অর্জন করতে পারেনি এখনও।

এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে আমাদেরকে শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।   কাজ কাজই, তা যে প্রকৃতিরই হোক না কেন। মর্যাদা ও অধিকারের প্রশ্নে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ ও দৈহিক কাজের মধ্যে পার্থক্য করা সভ্যতাপরিপন্থী। সমাজের অন্যান্য পেশার মানুষের মতো শ্রমিকদের একটি মর্যাদাসম্পন্ন শ্রেণি হিসেবেই দেখা উচিত আমাদের।  শ্রমিকরা শুধু উৎপাদনব্যবস্থার অংশ নয়, দেশের নাগরিক এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম কারিগরও। তাই মে দিবসে শ্রমিক শ্রেণির মানবেতর জীবনের অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার করতে হবে আমাদের সবাইকে। মহান মে দিবসে আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং শ্রমিক-মালিক-সরকারের মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

মহান মে দিবসে দেশের সব শ্রমজীবী মানুষের প্রতি রইল আমাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ মে ২০১৮/আলী নওশের

Walton Laptop
 
     
Walton