ঢাকা, সোমবার, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৭ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:
বাণিজ্যযুদ্ধে বাংলাদেশের সুযোগ

দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-২২ ৯:৫৩:৩১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-২২ ১০:১৫:২২ পিএম
Walton AC 10% Discount

বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে। দুদেশের পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা বিশ্ববাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে এ যুদ্ধ। যদি সর্ববৃহৎ অর্থনীতির এই দুটি দেশ কোনো সমঝোতায় না পৌঁছে তা হলে এর ফল হতে পারে সুদূরপ্রসারী। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বাণিজ্যযুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাণিজ্যের বিদ্যমান শৃঙ্খলা ভেঙে যাবে এবং পণ্যের অবাধ প্রবাহের বর্তমান যে পদ্ধতি চালু রয়েছে তা বাধাগ্রস্ত হবে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও।

চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর। ভোটের আগে নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন প্রতারণা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার দখল করেছে চীনারা। এ জন্য চীনা বাণিজ্যের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করবেন তিনি। নির্বাচিত হওয়ার পর কথা অনুযায়ী কাজও শুরু করেন ট্রাম্প। প্রথমে তিনি গত জানুয়ারিতে আমদানিকৃত সৌর প্যানেল ও ওয়াশিং মেশিনের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেন। মার্চের শেষ দিকে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যে ২৫ শতাংশ ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সে সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদানিকৃত মদ, শূকরের মাংস, ফলসহ তিনশ’ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করে চীন। ১৫ শতাংশ থেকে শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেয়। মূলতঃ এর পরই দুদেশের মধ্যে শুরু হয় বাণিজ্যযুদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের যেসব দেশ থেকে আমদানি করে থাকে তার মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম  হচ্ছে চীন। তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের মোট রপ্তানির মাত্র সাড়ে আট শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৭ সালে চীন থেকে প্রায় ৫২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। আর তাই চীনে এই বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে কী ধরনের প্রভাব পড়বে- এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের আমদানি মাত্র ১৮৭ বিলিয়ন ডলারের অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৩৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের।

তবে দুদেশের চলমান এ যুদ্ধ থেকে বাংলাদেশ লাভবানও হতে পারে যদি পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য রেখে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ৫২৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাণিজ্য রয়েছে চীনের। এই বাণিজ্য ক্ষেত্রে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য চীন এর একটা অংশের সরবরাহের নতুন উৎসের সন্ধান করতে পারে। চীনের কোম্পানিগুলো তৃতীয় কোনো দেশে পণ্য উৎপাদন করে তা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করার পরিকল্পনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। সম্প্রতি সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট  এক প্রতিবেদনে বলেছে, চীন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি অব্যাহত রাখার জন্য তাদের শিল্পগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। আমাদের মতে এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি ঢাকা শিল্প ও বণিক সমিতি এবং বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট যৌথভাবে 'বাংলাদেশে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব' শীর্ষক যে সেমিনারের আয়োজন করেছিল, সেখানেও এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে। সেমিনারে আলোচকরা বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দু'পক্ষে যে টানাপোড়েন চলছে তাতে চীনে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব বিনিয়োগকারী রয়েছেন, তাদের কেউ কেউ এখন অন্য দেশে বিনিয়োগ স্থানান্তর করতে আগ্রহী।

বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অন্যতম গন্তব্য হতে পারে। তবে এ জন্য বাংলাদেশের প্রতি তাদের আগ্রহ জাগাতে উদ্যোগ নিতে হবে। বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসুসহ আলোচকরা বলেছেন- বাংলাদেশ যে উপযুক্ত স্থান সেটা তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে উন্নত করে যেতে হবে অবকাঠামো সুবিধা। পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদও গড়ে তোলা প্রয়োজন। বাণিজ্যযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। সেক্ষত্রে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে দ্রুত। তা না হলে, অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের কাছে চলে যেতে পরে সে সুযোগ।

দেশে বর্তমান সরকার অনেকগুলো অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছে। সরকার এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য চীনা উদ্যোক্তাদের আগ্রহী করতে প্রচার চালাতে পারে। বাংলাদেশের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চীনা উদ্যোক্তাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আর চীন এখন বাংলাদেশিদের জন্য সে দেশে অন অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছে।  সুতরাং বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের এ সুযোগ গ্রহণ করে দ্রুত এগিয়ে আসা প্রয়োজন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ নভেম্বর ২০১৮/আলী নওশের/শাহনেওয়াজ

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge