ঢাকা, বুধবার, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:
নিরাপদ সড়ক

শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ প্রয়োজন দেশব্যাপী

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-১৭ ৭:২৭:৩১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-১৭ ৮:৫৪:৪৭ পিএম

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তথা সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফের অভিযান শুরু করেছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। ডিএমপির উদ্যোগে ১৫ দিনের ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষ-২০১৯’ শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার থেকে। চলমান ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, যানবাহনে সচেতনতামূলক স্টিকার লাগানো, রাস্তা পারাপারে জনসাধারণকে পদচারী সেতু ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা, নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যত্রতত্র বাস থামালে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ট্রাফিক পুলিশের চেকপয়েন্ট বসিয়ে নানা রকমের নজরদারিমূলক কার্যক্রম চালানো।

সড়কে শৃঙ্খলা মেনে চলা কঠিন কিছু নয়। যানবাহন চালক, যাত্রী এবং পথচলা সাধারণ মানুষ প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে নিয়ম মেনে চললে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এখানেই হচ্ছে সমস্যা। নিয়ম ভঙ্গ করাই যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। রাজধানীতে যানবাহন চলাচলে বিশেষ করে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই । বাসচালকরা বেপরোয়া। নির্দিষ্ট স্টপেজে বাস থামে না। যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা ও নামানো হয়।

রাজধানী ঢাকায় একসময় গণপরিবহনে টিকিট কেটে বাসে ওঠার নিয়ম চালু করা হয়েছিল। নির্দিষ্টসংখ্যক সিটের বাইরে কোনো যাত্রী নেওয়া হতো না। বাস থামত নির্দিষ্ট স্টপেজে। কিন্তু কয়েক বছর আগে টিকিট কেটে বাসে ওঠার সেই নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। এখন বিভিন্ন রুটের বাস নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর নিয়ম করা হলেও তা  সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে না। দেখা গেছে, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরেও যাত্রী ওঠানো ও নামানো হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো যাত্রী প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে বাস শ্রমিকরা হেনস্তা করে। আর সিটিং বাসের নামে প্রতারণা নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকায় আগে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির অনেক বাস চলাচল করত। ভাড়া ছিল সাধারণের আয়ত্ত্বে। কিন্তু এখন স্বল্পসংখ্যক বিআরটিসির বাস চলাচল করে। আর এ সুযোগে বাস কোম্পানিগুলো ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে। সড়কে ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালক রয়েছে অনেক। অদক্ষ চালকের হাতে যানবাহন তুলে দেওয়ার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে। এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হলেও অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হচ্ছে না।

এদিকে পথচারীদেরও শৃঙ্খলা মেনে চলতে দেখা যায় না। যত্রতত্র রাস্তা পার হতে দেখা যায়। রাস্তা পারাপারের নিয়ম মেনে চলতে পথচারীদের বেশির ভাগেরই আগ্রহ নেই। যেকোনো জায়গা দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।  এমনকি কাঁটাতারের বেড়া দিয়েও এ প্রবণতা রোধ করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলছে দেদারছে। অবস্থা এমন যে, শৃঙ্খলা নামের কিছু কারো অভিধানে আছে বলে মনে হয় না। দেখা যায় যেসব স্পটে ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে সেসব স্থানে কিছুটা নিয়ম মেনে চলছে। অন্যত্র অবস্থা তথৈবচ।

গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীতে দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর আগস্টে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে। তখন ডিএমপি সেপ্টেম্বর মাসকে ‘বিশেষ ট্রাফিক সচেতনতা মাস’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নানা উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এক মাস ধরে চলা সে অভিযানে কাঙ্খিত সাফল্য আসেনি। প্রকৃতপক্ষে ট্রাফিক শৃঙ্খলার বিষয়টি দুই সপ্তাহ বা এক মাস ধরে চালানোর বিষয় নয়, সব সময়ের অনুশীলনের বিষয়। ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষ যে কদিন চলবে, সেই কদিন হয়তো নিয়ম মেনে চলবে। কিন্তু ট্রাফিক পক্ষ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও যেই-সেই।

এভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না। প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে আর আইন মেনে চলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। আইনভঙ্গের দায়ে সে যে-ই হোক না কেন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আর ডিমএমপির ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষ শুধু রাজধানীতে পালন করলে হবে না। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। অকালে ঝরছে প্রাণ। এটি গুরুতর জাতীয় সমস্যা।

সুতরাং সড়কে শৃঙ্খলা মেনে চলার বিষয়ে উদ্যোগ প্রয়োজন দেশব্যাপী। সড়কে চলাচল নিরাপদ করার জন্য সারা দেশেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জিরো টলারেন্স নীতি নিতে হবে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে ট্রাফিক আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ জানুয়ারি ২০১৯/আলী নওশের/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC