ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২০ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

আইয়ুব বাচ্চু একজনই ছিল, একজনই থাকবে

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৮ ২:০২:০৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-১৮ ৬:৪৭:৫২ পিএম
আইয়ুব বাচ্চু, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

||আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল||

আইয়ুব বাচ্চুর বয়স যখন ১৬-১৭ বছর, তখন ও প্রতিনিয়ত আমার বাসায় আসত। আমি প্রথম দিকে গিটার বাজাতাম। বাচ্চুও গিটার বাজাত। তখন ওকে গিটার বাজানো শিখাতাম। একটা সময় আমি ওর গিটারের শিক্ষক ছিলাম। যদিও বাচ্চু ভালো গিটার বাজাত তবু আমার কাছে শিখত। ওই দিনগুলোর কথা ভীষণ মনে পড়ছে। ও ছোট মানুষ তো খুব কষ্ট হয়! ভাবতে গেলেই আবেগে জড়িয়ে পড়ছি। আইয়ুবকে একেবারে ছোটবেলায় আমি কাছে পেয়েছি। ওর মতো একটি ছেলেকে বকা দিয়েছি আবার শিখিয়েছি। সেসব কথা বার বার মনে পড়ছে।

আইয়ুব যখন ব্যান্ড দল করল। তখন আমার সঙ্গে ওর একটি গ্যাপ তৈরি হয়ে যায়। আমি যখন সিনেমা জগতে বাচ্চুকে নিয়ে আসলাম তখন আবার ওর সঙ্গে দেখা হলো। ওকে আমি প্রথম ফিল্মে গান গাওয়াই। তার আগে ও কখনো ফিল্মে গান গায়নি। কাজী হায়াৎ ভাই, ডিপজল ভাই ও আমার অনুরোধে বাচ্চু ফিল্মে গান গায়।

বাচ্চু বড় হওয়ার পর ওর সঙ্গে কাজ করেছি কিন্তু সেসব স্মৃতির চেয়ে ছোটবেলার স্মৃতিগুলো বার বার  আমাকে নাড়িয়ে যাচ্ছে। ছোটবেলার সময়গুলোর গভীরতা অনেক বেশি। যা আমি ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারব না। বাচ্চু বড় হওয়ার পরও যদি বলতাম-একটা গান করতে হবে চলে আয়। বাচ্চু বলত, ‘বস বা স্যার আমি আসতেছি।’ ও আমার গানের সঙ্গে গিটার বাজাত। একসঙ্গে বসে আড্ডা, গল্প চলত। এসবই এখন স্মৃতি। এসবের অনুভূতি অন্যরকম।

আজকে ফেসবুকে যখন বাচ্চুর মৃত্যু খবর দেখলাম-তারপর আমি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে লিখি-‘মিথ্যা কথা বলার জায়গা পাও না।’ তারপর আমার সহোদর বোন ফোন করে বলল, ‘জানিস বাচ্চু তো মারা গেছে।’ তখন আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। এটা কী হয়ে গেল? কারণ বাচ্চুর হার্টে ব্লক বা কিছু সমস্যা আছে তা শুনেছিলাম। কিন্তু তার তো চিকিৎসা চলছিল। তারপরও হঠাৎ এভাবে বাচ্চুর তো চলে যাওয়ার কথা না। এমন যদি হতো-হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করেছে তারপর মারা গেছে। তা তো নয়! বাচ্চু কেন এত সহজে চলে যাবে? ওর তো চিকিৎসা চলছিল। বাচ্চুর মৃত্যুটা আমি একেবারেই মেনে নিতে পারছি না।

বাচ্চুর চলে যাওয়া কত বড় ক্ষতি সেটা কীভাবে বলব। শুধু একটা কথা বলব-আইয়ুব বাচ্চু একটাই। আইয়ুব বাচ্চু একজনই ছিল, একজনই থাকবে দ্বিতীয়জন আর আসবে না। আইয়ুব বাচ্চু পথ নির্দেশক ছিল। হয়তো নতুন কেউ গান গাইবে, নিজের জায়গা তৈরি করবে কিন্তু আর কেউ আইয়ুব বাচ্চু হতে পারবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে একাত্তরের পর থেকে যে ছেলেগুলো ব্যান্ডসংগীতে সংগ্রাম করেছে তার মধ্যে আইয়ুব বাচ্চু অন্যতম। সংগীতে ওর অনেক অবদান।

বর্তমানে নতুনরা গান গাইতে আসে। দুই বছর তিন বছর গান গাওয়ার পর হারিয়ে যায়। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু আইয়ুব বাচ্চু, নগর বাউল জেমস এরা যেভাবে ২০-২৫ বছর ধরে রাজত্ব করে যাচ্ছে এটা কি কারো পক্ষে করা সম্ভব? একজন আইয়ুব বাচ্চু শুধু একজন শিল্পী নয় একজন সংগঠকও। একটি ব্যান্ড দল গড়ে তোলা এবং সেটার সব সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে পথচলা, তাদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করা অর্থাৎ দল টিকিয়ে রাখা অনেক কঠিন একটি কাজ। আইয়ুব বাচ্চু সফলভাবে এ কাজগুলো করেছে। বাচ্চুর চলে যাওয়া এই ব্যান্ড দলের জন্য অপরিমেয় ক্ষতি। বাচ্চুবিহীন এলআরবি মেনে নেওয়া কষ্টকর।

শ্রুতিলিখন : আমিনুল ইসলাম শান্ত




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ অক্টোবর ২০১৮/শান্ত/মারুফ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC