ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ মে ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আমরাই সন্তানদের প্রতিযোগিতায় ফেলেছি : আসিফ

রাহাত সাইফুল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-১২-০৫ ৫:০৪:১৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১২-০৭ ২:৪২:১৩ পিএম
Walton AC

বিনোদন প্রতিবেদক : গত ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর শান্তিনগরে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারী। ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, অরিত্রীর বিরুদ্ধে বার্ষিক পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ তুলে তার বাবাকে ডেকে পাঠান স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে অরিত্রীর বাবাকে জানানো হয়, তার মেয়েকে টিসি দেওয়া হবে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল অরিত্রীর সামনে তার বাবাকে অপমান করে বলে সে আত্মহত্যা করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত গড়িয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি আমলে নিয়েছেন।

এমন ঘটনা নিয়ে গত দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমবেদনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। এ থেকে বাদ পড়েননি তারকারাও। বাংলা গানের যুবরাজ খ্যাত সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ নিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

আসিফ আকবর তার ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। ‘আমাদের শৈশব কৈশোর কখনই জীবন থেকে আলাদা ছিল না, এখনো নেই। মিশনারি স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং শৃঙ্খলা শিখেছি, ক্লাস থ্রিতে মারামারির অভিযোগে টিসি পেয়ে সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে হয়েছে। বাঁচার প্রবল আগ্রহ আর শিক্ষাসনদ প্রাপ্তির মরিয়া চেষ্টা ছিল, আছে এখনো। শিক্ষক শিক্ষয়ীত্রিদের শাস্তিকে হাসিমুখে বরণ করতাম আশীর্বাদ কিংবা দোয়া ভেবে, কখনো মরে যেতে ইচ্ছে হয়নি। এখনকার অস্থির সমাজ আর ভুলে যাওয়া জাতির বৈশিষ্ট্যমন্ডিত চরিত্র আমাদের সন্তানদের সকল চলার পথকে দিনে দিনে পঙ্কিল আর বন্ধুর করে ফেলছে।

আমার দুই সন্তান এক্স ক্যাডেট, রুদ্র আদমজী ক্যান্ট কলেজে ইন্টার পড়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল এবং আছে-বাচ্চারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না স্কুল চলাকালীন। আমাদের পুরোনো আর বর্তমানের বিভাজন সুস্পষ্ট, অবক্ষয় আর না বোঝার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। আমি আর আমার বেগম রুদ্রকে কখনই অ্যালাউ করিনি কলেজ চলাকালীন মোবাইল ব্যবহারের পক্ষে। ভুল করেছে ধরাও পড়েছে শাস্তিও পেয়েছে। আত্মহত্যায় কেন প্ররোচিত হবে শিশুরা! রুলস মানতেই হবে।

সন্তানদের প্রতিযোগিতায় ফেলেছি আমরাই, ভুল আমার কিংবা আমাদের। একটা সময় ছিল যখন অনেক সন্তানের বাবা মায়েরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল রোগে অসুখে সন্তানের মৃত্যুতে। অরিত্রী এ প্রজন্মের বাচ্চা, শিক্ষক আর ম্যানেজমেন্ট এক জিনিস হতে পারে না, এটা বাচ্চাদের বোধগম্য হওয়ার কথাও নয়, এখানে প্রশ্ন তোলার ন্যূনতম সুযোগ নেই। তবুও প্রশ্ন এসেই যায়-অরিত্রী কেন নেই আমাদের মাঝে! মা আমার, এটা আমার এবং আমাদের ব্যর্থতা, একটা মোবাইল ফোন অপমৃত্যুর কারণ হতে পারে না। আমিই দায়ি, একটু শাসনে থাকলে হয় তো তুমি মোবাইল ফোনটা সঙ্গে নিতো না। আমরা শাসনের সাথে স্নেহের সম্পর্ক ভুলে যাচ্ছি। জাতিগত অভ্যাস অনুযায়ী অরিত্রী আবারো হবে একটা ভুলে যাওয়া ইতিহাস। আমরা মা-বাবারা আর কাঁদতে চাই না সন্তানদের অকাল প্রয়াণে। অরিত্রী মা আমার, একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে তোমার প্রতি অবহেলার জন্য ক্ষমা চাই। আসুন আমরা অরিত্রীদের সুন্দর ধরণী দেয়ার চেষ্টা করি। কোনো লাভ নেই তবুও সমবেদনা তোমার পরিবারের জন্য।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ ডিসেম্বর ২০১৮/রাহাত/শান্ত

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge