ঢাকা, শুক্রবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

বক পাখিদের গ্রাম ‘আলাপুর’

মামুন চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৫-২৭ ৩:৩৮:১০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-০৩ ৯:৪৭:২৮ এএম

মো. মামুন চৌধুরী,  হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার ‘আলাপুর’ বক পাখিদের গ্রাম।এ গ্রামের গাছে গাছে বাসা বেঁধেছে বক পাখি। এ সময় তারা বাচ্চা ফুটানোতে ব্যস্ত সময় পার করছে। তাই গাছের নিচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বক পাখির ডিমের খোসা ।

বকদের পাশাপাশি অন্যান্য পাখিরাও নিরাপদ আবাসস্থল মনে করে এখানে এসে বাসা বেঁধেছে। সকাল হলে দল বেঁধে বের হয় বক পাখিরা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে ফিরে আসে। এটাই যেন বকদের দৈনন্দিন রুটিন।

বাহুবল শহর থেকে মাত্র ৫ টাকা টেম্পু ভাড়ায় আলাপুর গ্রাম। এ গ্রামটির অবস্থান উপজেলা সদর ইউনিয়নেই । ছোট এ গ্রামের চারদিকে হাওর। রয়েছে ফসলী জমি। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খাল। এসব জলাশয়ে পাওয়া যায় দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ। বক মাছ খেতে পছন্দ করে।মূলত এসব জলাশয়ের কারণেই এখানে বকদের আবাস গড়ে উঠেছে।

পাখির সমারোহ দেখে একশ্রেণির লোকেরা বক শিকারে উঠেপড়ে লেগেছেন। এ বিষয়টি জানার পর থেকে এ গ্রামের লোকেরা সবাই মিলে পাহারা দিচ্ছেন। কাউকে সন্দেহ হলেই তাকে জিজ্ঞাসা করছেন, কি কাজে এখানে এসেছেন। এনিয়ে অনেকের সাথে বিবাদেরও উপক্রম হচ্ছে।

 



পাখিদের  গ্রামে গিয়ে এ প্রতিবেদককেও তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। বকের ছবি তুলতে গিয়ে এক বৃদ্ধার তাড়া খেতে হয়। ওই বৃদ্ধা লাঠি নিয়ে তেড়ে আসেন। তিনি মনে করছিলেন শিকারি। পরে ভুল বুঝতে পারেন তিনি।

এ সময় বৃদ্ধা বলেন, পাখি  আসাটা এ গ্রামের জন্য শুভ লক্ষণ। তাই এ পাখি কাউকে মারতে দেওয়া হচ্ছে না। তারপরও দুস্কৃতিকারীরা রাতের বেলায় লুকিয়ে এসে  পাখি শিকার করছে।

দেখা হয়, গ্রামের একদল লোকজনের সাথে। তারা মিলিত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের  হাতে হাতে লাঠি। তারা পাখির পাহারাদার।

আলাপকালে ফয়জুর রহমান চৌধুরী, এনামুল হক, বশির চৌধুরী, আরিফ মিয়া, আছাদ মিয়া, জাবেদ মিয়া জানান, বক পাখির কল কাকলিতে সকালে তারা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন।  পাখির সাথে তাদের নিবিড় সম্পর্ক হয়ে গেছে। এ কারণে তারা পাখি রক্ষায় স্বেচ্ছায় পাহারা দেন।

 



তারা আরও জানান, গ্রামের প্রায় বাড়িরই গাছে গাছে বকদের আবাস। পাখিগুলো নিরাপদেই বাস করে আসছে। তবে ইদানিং একটি চক্র পাখি নিধনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গ্রামের বাসিন্দা জেলা শহরের ব্যবসায়ী শাহ আহমেদ মামুন বলেন, ‘পাখিদের কলকাকলি আমাদের প্রিয়। আমরা কেউকে এ পাখি মারতে দেব না। গ্রামবাসী পাহারা দেওয়ার পরও দুস্কৃতিকারীরা রাতে লুকিয়ে বক পাখি মেরে ফেলছে।  বিষয়টি বাহুবল-নবীগঞ্জ সার্কেলের এএসপি রাসেলুর রহমানকে জানানোর পর তিনি ঘটনাস্থলে এসেছিলেন।’ বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বলেন, ‘আলাপুরের লোকজন প্রকৃতিপ্রেমিক। এর প্রমাণ তারা বক রক্ষায় স্বেচ্ছায় পাহারা দিচ্ছেন। এ পাখিগুলো রক্ষায় আমাদেরও সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।’  

এএসপি রাসেলুর রহমান বলেন, ‘পাখি পরিবেশের উপকার করছে। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বক পাখি রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানাচ্ছি।’



রাইজিংবিডি/হবিগঞ্জ/২৭ মে ২০১৭/মামুন চৌধুরী/টিপু

Walton Laptop