ঢাকা, শনিবার, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

‘আমাদের মহাসাগর, আমাদের ভবিষ্যৎ’

শাহ মতিন টিপু : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-০৮ ২:২৮:৫৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-০৮ ৩:০৮:৩১ পিএম

শাহ মতিন টিপু : এই পৃথিবীতে বাস করার জন্য আমাদের অক্সিজেন, বৃষ্টিপাত, খাদ্য এসব সমুদ্রের স্বাস্থ্যের উপর নির্ভরশীল। উদ্বেগের বিষয় এই যে, মানুষের নানাবিধ কর্মকান্ডের পাশাপাশি জলবায়ুর বৈরী থাবায় মহাসাগরগুলোর প্রতিবেশব্যবস্থা প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে।

বিশ্ব মহাসাগর দিবস আজ। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ধরিত্রী সম্মেলনে প্রতি ৮ জুন এই দিবসটি পালনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২০০৯ সালের এ দিনটিকে জাতিসংঘ বিশ্ব মহাসাগর দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘আমাদের মহাসাগর, আমাদের ভবিষ্যত’ । এ বছর প্লাস্টিকের বর্জ্য থেকে সমুদ্র রক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে নানা রকমের কর্মসূচীও গ্রহণ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন পরিবেশবাদি সংগঠন।

পৃথিবীতে মানব জাতির টিকে থাকার খাদ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে  বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের একটি বড় অংশ আসে মহাসাগর থেকে। তাছাড়া মহাসাগরগুলো বায়ুমণ্ডলর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে। ধ্বংস হচ্ছে এর জীববৈচিত্র্য।

এদিকে সতর্কতার পরিবর্তে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অনিয়ম। অসচেতন মানুষের কাজে বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। গলছে হিমাঞ্চলের বরফ; আর এতে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। বিলুপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণি।

প্লাস্টিক দূষণ থেকে সমুদ্র রক্ষার একটি উদ্যোগ


প্রসঙ্গত, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ হচ্ছে পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল রিফ। যা ২,৯০০ এর বেশি একক রিফের সমন্বয়ে গঠিত। রিফটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের উপকূল ঘেঁষা কোরাল সাগরে অবস্থিত। মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর যে কয়েকটি বস্তু দৃশ্যমান তার মধ্যে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অন্যতম। প্রবাল, পলিপস ইত্যাদি কোটি কোটি ক্ষুদ্র অর্গানিজমস দ্বারা এই রিফ কাঠামো গঠিত। এখানে রয়েছে অনেক প্রাণের অস্তিত্ব। ১৯৮১ সালে এটাকে বিশ্ব হেরিটেজ সাইটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সিএনএন এই প্রবাল প্রাচীরকে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চার্য্যের একটি বলে ঘোষণা করে।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত সম্মেলনে গ্রিন ইকোনমি রিপোর্টে বলা হয়েছে, গোটা বিশ্বের মৎস্যভাণ্ডারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৩০ ভাগ। সেইসঙ্গে প্রায় ৫০ ভাগের পূর্ণ ব্যবহার হয়ে চলেছে। উপকূলবর্তী ম্যানগ্রোভ অরণ্যের প্রায় ২০ ভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সমুদ্রের বুকে যে রিফ রয়েছে, তার ভবিষ্যতও হয়ে পড়েছে বিপন্ন। উপকূলবর্তী অঞ্চলের ১০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বসবাসরত মানুষের প্রায় ৪০ শতাংশ সমুদ্রের ওপর খাদ্যসহ বিভিন্নভাবে নির্ভরশীল।

এই নেতিবাচক পরিবর্তনের ফলে তাদের জীবনযাত্রারও অবনতি ঘটবে বলে রিপোর্টে আশঙ্কা করা হয়েছে। এ প্রবণতার মোকাবিলা করতে চাষবাস ও মাছ ধরার প্রক্রিয়াকে পরিবেশবান্ধব করে তুলতে হবে। এ কাজে সফল হলে বিশ্ব অর্থনীতিরও লাভ হবে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী এর মাধ্যমে বাড়তি ৫ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত মুনাফা হতে পারে।

আসলে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষা করাই বিশ্ব মহাসাগর দিবস উদযাপনের মূল লক্ষ্য। বিশ্বের নামকরা চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, সরকারি-বেসরকারি পরিবেশবাদী সংস্থা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এ দিনটিতে নানা ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে যাতে বিশ্ববাসী সামুদ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে এবং মহাসাগরকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ জুন ২০১৫/টিপু

Walton
 
   
Marcel