ঢাকা, বুধবার, ৯ ফাল্গুন ১৪২৪, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

‘মেলায় রম্য এবং বিজ্ঞান চত্বর থাকা উচিত’

অহ নওরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০২-১৫ ৯:৩৪:১৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-১৫ ২:৫৫:০২ পিএম
রাইজিংবিডির স্টলে আহসান হাবীব (ছবি : সাইফ রাজু)

দিনে দিনে ভিড় বাড়ছে বইমেলায়। পাঠকদের সঙ্গে লেখকদের আনাগোনাও বাড়ছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি  ভালোবাসা দিবসের দিন মেলায় এসেছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট এবং রম্যলেখক আহসান হাবীব। রাইজিংবিডির স্টলে বসে তিনি কথা বলেছেন বাংলাদেশের রম্য রচনার সম্ভাবনা এবং বইমেলার বিভিন্ন দিক নিয়ে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহ নওরোজ

রাইজিংবিডি : বইমেলা কেমন লাগছে?

আহসান হাবীব : বইমেলা তো সব সময়ই ভালো লাগে। এবারও খুব ভালো লাগছে।

রাইজিংবিডি : মূলত কোন কারণে ভালো লাগে?

আহসান হাবীব : ভালো লাগার কারণ হলো আমি যখন স্কুলে ছিলাম, সেই অনেক আগ থেকে ‘উন্মাদ’ স্টল দিয়ে আসছে। সে কারণে বেশি ভালো লাগে।

রাইজিংবিডি : বেশ অনেক আগে থেকেই ‘উন্মাদ’ জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারছে, এই রহস্যটা আসলে কী?

আহসান হাবীব : না, রহস্য তেমন কিছু না। একচুয়ালি মানুষ তো হিউমার পছন্দ করে, মানুষ তো হাসতে পছন্দ করে। রসিকতা পছন্দ করে। আর বাঙালি জাতি রসিকতাপ্রিয়, আর উন্মাদ হচ্ছে আমাদের দেশের একমাত্র কার্টুন পত্রিকা। শুধু আমাদের দেশে না, আশপাশের দেশেও এখন এমন কার্টুন পত্রিকা নেই। যেমন ভারতে তিনটা কার্টুন পত্রিকা ছিল, নেপালে একটি কার্টুন পত্রিকা ছিল, সেগুলো বন্ধ হয়েছে গেছে। সেই অর্থে এই উপমহাদেশের একমাত্র কার্টুন পত্রিকা হিসেবে আমরা টিকে আছি। ফানটান করার চেষ্টা করি। কার্টুন তো সবাই পছন্দ করে। আর কার্টুন হলো একটি ইউনিভার্সাল ল্যাঙ্গুয়েজ, সুতরাং যারা লেখাপড়া জানে না আবার আমাদের ভাষার না, তারা কিন্তু কার্টুনের ল্যাঙ্গুয়েজটা ধরতে পারে। সো ইজি কমিউনিকেটিভ। মূলত এসব কারণে উন্মাদের জনপ্রিয়তা টিকে আছে বলে আমি মনে করি।

রাইজিংবিডি : বইমেলায় কোনো রম্য চত্বর থাকলে কেমন হতো?

আহসান হাবীব : করা তো যায়, বইমেলায় যেমন শিশু চত্বর আছে, তেমন কার্টুন-কমিক কিংবা রম্য চত্বর থাকলেও মন্দ হয় না। আমার মনে হয় এটা করলে বৈচিত্র্য আসবে। এবং এর মাধ্যমে রম্য রচনাকে আলাদাভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি ব্যাপার তৈরি হবে। এ ছাড়া আমি মনে করি একটি বইমেলায় একটি বিজ্ঞান চত্বরও থাকা উচিত। বিজ্ঞান চত্বরের সাজগোজ একটু সায়েন্স বেজড হবে, আবার রম্য চত্বরে একটু কার্টুন, মুখোশ ইত্যাদি থাকবে। তাহলে পাঠক যেমন আগ্রহী হবে তেমনি মেলায় একধরনের বৈচিত্র্য আসবে, দূর হবে একঘেয়েমি।

রাইজিংবিডি : আপনারা এর জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা কী ভেবেছেন?

আহসান হাবীব : আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ব্যাপারে বাংলা একাডেমিকে বলতে চাই না। তবে একাডেমি যদি মনে করে এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবে করবে। আর আমরা বললেই যে হয়ে যাবে তাও না।

রাইজিংবিডি : অনেকে বইমেলার ধুলাবালি নিয়ে আক্ষেপের কথা শোনাচ্ছেন।

আহসান হাবীব : এটা তো থাকবেই। এটা না হলে কীভাবে হবে। (হাসি) তবে যত দিন যাচ্ছে মেলা কিন্তু আধুনিক হচ্ছে, সেই শুধু বাঁশ-খুঁটির দিন বদলেছে। এবার দেখলাম নতুন করে টিন দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দিন যত যাবে তত মেলা আরো উন্নত হবে, তবে সময় দিতে হবে। আস্তে আস্তে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

রাইজিংবিডি : আমাদের বই প্রকাশ বর্তমানে মেলাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। আপনিও কি বই লেখার সময় মেলার কথা মাথায় নিয়ে লেখেন?

আহসান হাবীব : লিখি তো সারা বছরই। তবে আমাদের সবকিছুই কিন্তু এখন উৎসবকেন্দ্রিক। একজন গার্মেন্টস কর্মীও পোশাক বানান কিন্তু ঈদ কিংবা বৈশাখী মেলার সময়। বইয়ের ব্যাপারটাও কিন্তু ঠিক তেমন। এটা একুশে ফেব্রুয়ারিকেন্দ্রিক, যদিও এটা ঠিক না, সারা বছরই বই কেনা উচিত, প্রকাশ হওয়া উচিত। তবে এটা ঠিক বইমেলা উপলক্ষে সারা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় একটু বেশি লেখা হয়।

রাইজিংবিডি : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আহসান হাবীব : তোমাকেও ধন্যবাদ। 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/অহ/সাইফ/এএন

Walton
 
   

সংশ্লিষ্ট খবর:

Marcel