ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

দায়িত্ব পেয়ে অতীতে ফিরে গেলেন ওয়ালশ

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০২-২৭ ১:২৩:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০২-২৭ ৭:০১:৫৭ পিএম

ক্রীড়া ডেস্ক : ছিলেন বোলিং কোচ। পেয়েছেন হেড কোচের দায়িত্ব। সেটাও একটি মাত্র সিরিজের জন্য। বলছিলাম কোর্টনি ওয়ালশের কথা।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব নেন ওয়ালশ। মেয়াদ ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। প্রধান কোচ না থাকায় তার কাঁধে এখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের দায়িত্ব। অন্তবর্তীকালীন এ দায়িত্ব ওয়ালশকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল পুরোনো স্মৃতিতে।

১৯৯৪ সালের কথা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক তখন রিচি রিচার্ডসন। ভারত সফরের আগে হঠাৎ ‘তীব্র ক্লান্তি’ ভর করে ক্যারিবীয় অধিনায়কের। বিশ্রামে যান রিচি রিচার্ডসন। ভারত সফরে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল অভিজ্ঞ কাউকে। এগিয়ে আসলেন ওয়ালশ। দায়িত্ব নিলেন নিজ কাঁধে। তাতেই বাজিমাত। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করল ১-১ ব্যবধানে। আর পরের সিরিজে ওয়ালশের নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজ জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

রিচার্ডসন ফিরে এলে অধিনায়কত্ব হারালেও, ওয়ালশ যে পরবর্তী অধিনায়ক হবেন তা মোটামুটি নিশ্চিতই ছিল। বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। এক সিরিজের ব্যবধানে পূর্ণ অধিনায়ক হন ওয়ালশ। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দেন ২২ টেস্ট ও ৪৩ ওয়ানডেতে।



লড়াকু ওয়ালশের অসাধারণ নেতৃত্বগুণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওই সময়টায় ভয়ংকর দলে পরিণত হয়। ওয়ালশ ও অ্যামব্রোজের বোলিং জুটি তো ছিল বিশ্বখ্যাত। ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে ওয়ালশ এখন কোচিং ক্যারিয়ারে। ক্যারিয়ারের এই সময়টায় যেন পুরোনো চ্যালেঞ্জ নতুন করে পেলেন ওয়ালশ। ডুবতে থাকা জাহাজের নাবিক এখন তিনি। স্রোতের বিপরীতে চলতে থাকা বাংলাদেশকে ফেরাতে হবে সঠিক পথে। 

প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়ে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ল ওয়ালশের,‘অন্তবর্তীকালীন অধিনায়ক হিসেবে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল। আমি সেটা উপভোগ করেছিলাম এবং আমরা দলগত সাফল্যও পেয়েছিলাম। হ্যাঁ আমাকে এই মুহূর্তে ওই স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে এবং আমার দায়িত্বও সচেতন করছে। আশা করছি ওই জিনিসটা এখানে নিয়ে আসতে পারবো এবং দলকে এগিয়ে নিতে পারবো। তাহলেই আমি খুশি হবো। এটা চ্যালেঞ্জিং হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’

তবে নিজের চ্যালেঞ্জ নিয়ে শিষ্যদের চাপ দিতে চান না ওয়ালশ। হঠাৎ দায়িত্ব পাওয়ায় বিচলিতও নন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতিতে ওয়ালশ রাখতে চান অবদান,‘আমি কোচিং স্টাফদের একজন হয়ে কাজটা করতে চাই। সুযোগটি এসেছে এবং সেটা লুফে নিয়ে আমি আমার কাজটা করতে চাই। এটা হঠাৎ করে আসলেও এর জন্য আলোচনায় বসা জরুরী ছিল না। কারণ আমরা শেষ সিরিজ প্রধান কোচ ছাড়া খেলেছি। আমার দায়িত্বটা অন্তবর্তীকালীন। আমি আমার সেরাটা দিয়ে অবদান রাখতে চাই বাংলাদেশ ক্রিকেটে। দলকে আমি পুরোনো ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে চাই।’



বকাঝকা দিয়ে নয়, পিতার মতো আদর আর ভালোবাসা দিয়ে শিষ্যদের থেকে সেরাটা বের করে আনার ইচ্ছা তার। ৫৫ বছর বয়সি ওয়ালশ বললেন সে কথাই,‘অনেকটা ‘‘বাবাদের’’ মতো করেই তাদের বোঝানো হবে। তাদেরকে সেভাবেই দেওয়া হবে আত্মবিশ্বাস। দলের প্রত্যেকেই বুঝতে হবে দলে তার ভূমিকা কতটুকু। তারা যেন দলের হয়ে খেলে এবং কোনটা জরুরী সেটা যেন সঠিক সময়ে করে। এটাই হবে দলের নীতি।’

অন্তবর্তীকালীন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পূর্ণ অধিনায়কত্ব পান ওয়ালশ।  এরপর নিজ দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সর্বোচ্চ সাফল্য দিয়েছিলেন । এবার বাংলাদেশের পালা। অসাধারণ নেতৃত্বগুণে ওয়ালশ বাংলাদেশকে জয়ের ধারায় নিয়ে আসতে পারেন কিনা সেটাই বড় এক প্রশ্ন।

 


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/ইয়াসিন

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC