ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ২৪ এপ্রিল ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

যে পিঁপড়ার কামড়ের চেয়ে গুলি লাগা আরামদায়ক (ভিডিও)

সার্জিন শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১২-৩১ ১২:৪৮:১৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-২০ ১০:৫২:১৬ পিএম

সার্জিন শরীফ : জীবনে দু-একবার বোলতা কিংবা ভিমরুলের কামড় খাননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া হয়তো মুশকিল। ছোট্ট আকৃতির এই প্রাণীর বিষচুম্বন যার শরীরে লাগে তিনিই অনুধাবন করতে পারেন- কি যাতনা বিষে...।

 

এ তো গেল আমাদের দেশীয় বোলতা বা ভিমরুলের কথা। কিন্তু মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে দেখা মেলে ‘বুলেট অ্যান্ট’ নামক এক প্রকার বিষধর পিঁপড়ার, যা পৃথিবীর ‘সবচেয়ে বিষধর পিঁপড়া’ বলে অভিহিত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বুলেট অ্যান্টের দংশনে অনুভূত ব্যথা শরীরে একটি বুলেট বিদ্ধ হওয়ার অনুভূতির থেকেও তীক্ষ্ন। বলা হয়ে থাকে যে, বুলেট অ্যান্টের দংশনে আপনার মনে হবে আপনি যেন পায়ের তালুতে তিন ইঞ্চি পেরেক বিদ্ধ অবস্থায় জ্বলন্ত কাঠকয়লার ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন।

 

বুলেট অ্যান্টের কামড়ের ভয়াবহতা বুঝতে চাইলে আপনাকে এই ভিডিওটা দেখতে হবে। এখানে বর্ণনাকারী কয়োটে পিটারসন বলছেন একটা কামড় খাওয়ার পরে মনে হচ্ছে, ‘যেন চব্বিশ ঘণ্টা ধরে শরীরে একটা শটগানের বুলেট বিদ্ধ হয়ে আছে।’

 

 

ভিডিওটির ১৩ মিনিটের মাথায় দেখা যাবে নিজের হাতে স্বেচ্ছায় বুলেট অ্যান্টের কামড় খেয়ে পিটারসনের গোঙানি আর মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়ার দৃশ্য কিন্তু তার আগের দৃশ্যগুলোতে বুলেট অ্যান্টের আবাসস্থল, আচরণ সহ বিস্তারিত তথ্য দেখা যাবে এখানে।

 

আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, বুলেট অ্যান্ট আসলেই কতটা বিষাক্ত সেটা বোঝার জন্য পিটারসন আগেই একবার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাস করা ‘হার্ভেস্টার অ্যান্ট’ এর বাসায় হাত ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। কামড় খাওয়ার পর প্রথমদিকে ব্যথার তীব্রতা খুব মনে না হলেও কিছু সময় যেতে না যেতেই দুই হাতের কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত ভরে গিয়েছিল সাদা রঙের ব্রণের মতো ক্ষত। ভিডিওটির ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে দেখা যাবে সেই ভয়ংকর দৃশ্য।

 

আমেরিকান পতঙ্গবিজ্ঞানী জাস্টিন স্মিড্‌ট জীবনে ১০০০ এর ও বেশি বার দংশিত হয়েছেন ৮৩টি বিভিন্ন প্রজাতির পতঙ্গ দ্বারা। তার রয়েছে বিভিন্ন প্রাণীর দংশনে অনুভূত ব্যথারস্বীয় প্রস্তুতকৃত একটি সূচক। যেমন: ‘ফায়ার অ্যান্ট’ নামক পিঁপড়ার কামড়ের অনুভূতিকে তিনি ব্যাখা করেন, ‘হঠাৎ, তীক্ষ্ম কিন্তু হালকা একটা ব্যথা। মনে হবে আপনি যেন অন্ধকারে একটি কোঁচকান কার্পেটের ওপর দিয়ে লাইটের সুইচ খোঁজার জন্য হেঁটে বেড়াচ্ছেন।’ স্মিড্‌ট ফায়ার অ্যান্টের দংশনে অনুভূত ব্যথাকে তার সূচক অনুযায়ী ‘১’ ধরেছেন।

 

পিটারসন একবার ভয়ংকর কিন্তু অবিশ্বাস্য সুন্দর দর্শন বোলতা ‘ভেলভেট অ্যান্ট’ এর কামড় খেয়েছিলেন। যার জন্য তাকে আধঘণ্টা ধরে ভয়ানক ব্যথা সহ্য করতে হয়েছিল। পতঙ্গবিজ্ঞানী স্মিডট এর ভাষায়, ‘বিস্ফোরক এবং দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা। আপনি উন্মাদের মতো চিৎকার করতে থাকবেন। মনে হবে যেন তপ্ত কড়াই থেকে গরম তেল ছিটকে আপনার সারা হাত জুড়ে লেগে গেছে।’

 

আরেকটা যন্ত্রণাদায়ক পতঙ্গ হল ‘টারান্টুলা হক’। এটি যেন একটি জীবন্ত দুঃস্বপ্ন। এটি সাধারণত ৫ সে.মি পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। এর কামড় এতই বিষাক্ত যে, সবচেয়ে উৎসাহী পতঙ্গপ্রেমীরাও এর থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন। বড় আকারের এবং শক্তিশালী একটা ‘জায়ান্ট স্পাইডার’-কে বধ করতে এর একটা কামড়ই যথেষ্ট।

 

এখন ফিরে আসা যাক অন্য সব যন্ত্রণাদায়ক পতঙ্গের চেয়ে বেশি এবং দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণাদায়ক পতঙ্গ ‘বুলেট অ্যান্ট’ (Paraponeraclavata) এর কথায়। যদিও স্মিড্‌ট তার সূচকে অন্য একটি বিষধর বোলতা ‘ওয়ারিয়র’-কে সবচেয়ে ওপরে স্থান দিয়েছেন। কিন্তু ওয়ারিয়র এর দংশনে অনুভূত ব্যথা প্রাথমিকভাবে বুলেট অ্যান্টের চেয়ে বেশি মনে হলেও বুলেট অ্যান্টের দংশনের ব্যথার স্থায়ীত্ব অনেক বেশি।

 

বুলেট অ্যান্টের ভেনোমে থাকে ‘পনেরাটক্সিন’ নামক একটি চেতনানাশক নিউরোটক্সিক যৌগ যা সরাসরি সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রের মূলে আঘাত করে। এর প্রভাবে মাংসপেশীতে ধীর গতিতে ভয়ানক রকমের সংকোচন শুরু হয়।

 

পতঙ্গগুলো এবং এদের বিষ কৌতুহলোদ্দীপক হলেও এদের দংশিত হতে যাওয়া কখনোই সুখকর নয়। অযথা যন্ত্রণা পাওয়ার কোনো মানে আছে কি? আর তাছাড়া এই পোকাগুলোও ব্যাপারটা ঠিক পছন্দ করে না।

 

আরো একটি মজার ব্যাপার হল, প্রত্যেকবার কামড়ের যন্ত্রণায় গড়াগড়ি করার আগেই পিটারসন পতঙ্গগুলোকে নিরাপদ একটি জায়গায় সরিয়ে রাখেন যাতে করে তিনি পরে সেগুলোকে যেখান থেকে এনেছেন সেখানে রেখে আসতে পারেন।

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Walton Laptop
 
   
Walton AC