ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

দেশে দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য

ছাইফুল ইসলাম মাছুম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-১৫ ৮:১৫:৩২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-১৫ ১১:৩০:২২ এএম

ছাইফুল ইসলাম মাছুম : তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণীয় করে রাখতে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও নির্মিত হয়েছে তাঁর ভাস্কর্য। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, হাজার হাজার মাইল দূরে অস্ট্রেলিয়া কিংবা লন্ডনে তাঁর আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন নিঃসন্দেহে আমাদের গর্বিত করে। চলুন জেনে নেই বিস্তারিত।

অস্ট্রেলিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য : অস্ট্রেলিয়ায় স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনির আইন অনুষদের সামনে এই ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক জামাল আহমেদের তত্ত্বাবধানে তরুণ ভাস্কর চঞ্চল কর্মকার ও লিটন পাল এই ভাস্কর্য তৈরি করেন। ভাস্কর্যটির কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে প্রায় দেড় মাস। ২.৫ মিটার উচ্চতার এই ভাস্কর্য তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে ব্রোঞ্জ।

ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপনের গল্পটা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। এর শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক দাউদ হাসানের হাত ধরে। তিনি ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের আন্তর্জাতিক সমুদ্রশাসন কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। মূলত তিনি সমুদ্রশাসন আইন নিয়ে কাজ করেন। বঙ্গোপসাগর ও সামুদ্রিক অঞ্চল ভারত-শ্রীলঙ্কা-মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা ও সম্পদ বণ্টনের ওপর তার প্রচুর গবেষণা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আন্তর্জাতিক সমুদ্রশাসন কেন্দ্রের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ও আমাদের বঙ্গোপসাগর।

তার মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের আলোকিত অধ্যায় বিস্মিত করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের। তারা স্বীকৃতি দিতে চান সেই মানুষকে, যিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম সমুদ্র আইন প্রতিষ্ঠা করেন। যে আইনে সমুদ্রসীমানা নির্ধারণ ও সমুদ্রের সম্পদ আইন অনুযায়ী আহরণ ও বণ্টিত হয়। সেই স্বীকৃতি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক বার্নি গ্লোভার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ মূর্তি স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেন।

ভাস্কর্য নির্মাণের পেছনে গত দুই বছর ধরে সহায়তা করেছেন, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওমেন গভর্নেন্সের পরিচালক ড. দাউদ হাসান, বাংলাদেশের হাই কমিশনার কাজী ইমতিয়াজ হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি সিরাজুল হক ও সাধারণ সম্পাদক পিএম চুন্নু।



লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য : লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফসার খান সাদেকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য তৈরি করা হয়। পূর্ব লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা টাওয়ার হ্যামলেটসের সিডনি স্ট্রিটে আফসার খান সাদেকের বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয় এই ভাস্কর্য। ২০১৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভাস্কর্যটি উন্মোচন করেন তৎকালীন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

ব্রিটেনের মাটিতে বঙ্গবন্ধুর এটিই একমাত্র ভাস্কর্য। ২০০৯ সালে আফসার খান সৈয়দ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের অনুমতি চাইলে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালে ভাস্কর্য নির্মাণের অনুমতি দেয়। সম্প্রতি জনসাধারণের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।


কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য : বঙ্গবন্ধু কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় বেকার হোস্টেলে ছিলেন ১৯৪৫-৪৬ সালে। ১৯৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে বেকার হোস্টেলের ২৩ ও ২৪ নম্বর কক্ষ নিয়ে গড়া হয় বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকক্ষ। ওই স্মৃতি কক্ষে বঙ্গবন্ধু ছাত্র থাকাকালীন যে চেয়ার, চৌকি ও টেবিলে পড়াশোনা করতেন সেসব সংরক্ষিত রয়েছে। বঙ্গবন্ধু পড়তেন এমন কিছু পাঠ্য পুস্তকও সেখানে রাখা হয়েছে। সেখানেই স্থাপন করা হয় বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য। ২০১১ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারি ৮ নম্বর স্মিথ রোডে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবাসিক হল বেকার হোস্টেলে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য  উন্মোচন করেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণি।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ আগস্ট ২০১৭/তারা

Walton
 
   
Marcel