ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৩ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

যুদ্ধ ও খুনের চেয়ে প্রাণ ঝরছে বেশি স্বেচ্ছায়

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১০ ৩:৩২:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-১০ ৪:৩৬:৪৭ পিএম

হাসান মাহামুদ: চলতি বছরের জানুয়ারির কথা। ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারাণপুরের ২৪ বছরের এক তরুণী গিয়েছিলেন নদীতে ঝাঁপ দিতে। শেষ মুহূর্তে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে তার মনে হয় এর থেকে কোনো সহজ উপায়ে আত্মহত্যা করা যায় কি না, সেটা জেনে নিলে কেমন হয়। এই ভাবনায় আত্মহত্যার সহজ উপায় জানতে মোবাইলে গুগল সার্চ করেন তিনি।

গুগল ফলাফল দেখায় বেশ কিছু সহায়তা কেন্দ্রের নাম ও ফোন নম্বর। যার মধ্যে একটি ছিল সাহারাণপুর পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল জিতেন্দ্র কুমার শাহি’র। কি ভেবে ওই তরুণী ফোনও করেন। শেষে পুলিশ অফিসার এই কথা-সেই কথায় সময় কাটিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। পরে মেয়েটিকে কাউন্সেলিং করা হয়। আত্মহণনের সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরেও আসেন। এখনো সেই মেয়েটি দিব্যি বেঁচে আছেন।

আত্মহত্যা থেকে উদ্ধার হওয়া এমন কিছু ঘটনার বর্ণনা থেকে মোটামুটি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় যে, আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষ আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যদি কারো সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান, তবে সেই পথ থেকে তার ফিরে আসার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলতে বলতেই কেউ আত্মহত্যা করছে। কেউ ঘোষণা দিয়ে আত্মহত্যা করছে। একে অনেকটাই অস্থির সময়ের অস্থির মানসিকতা আর অস্থির জীবনযাত্রার প্রভাব বলা যায়।

পুলিশের কাছে মেয়েটি তার আত্মহত্যার জন্য মনস্থির করার কারণ হিসেবে জানিয়েছিল, হতাশা। বেশ কয়েক বছরের প্রেমের সম্পর্ক নষ্ট হওয়ায় হতাশা থেকে মেয়েটি আত্মহণনের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

সারা বিশ্বে আত্মহত্যা-প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এক সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে আত্মহত্যা করে প্রায় ১০ লাখ মানুষ। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রতিবছর যুদ্ধ এবং খুনের শিকার হয়েও বিশ্বে এত মানুষের মৃত্যু ঘটে না।

সংস্থাটি ২০১২ সালের পর এই সংক্রান্ত নতুন কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। অন্য এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৪ শতাংশ মানুষ আত্মহত্যার কথা চিন্তা করে ঐকান্তিকভাবেই। আর পাঁচ শতাংশ কখনো না কখনো আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। তবে, আত্মহত্যা বা আত্মহত্যা প্রবণতার প্রকৃত হার এর চেয়েও বেশী হতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা। কারণ, কুসংস্কার, ধর্মীয় বা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেক আত্মহত্যা বা আত্মহত্যা চেষ্টার খবর চেপে যায় পরিবার।

আত্মহত্যার পর অনেক সময় এর পেছনের কারণটিকে অতি সরল বা সহজভাবে দেখা হয়। এমনকি আমরা যারা মিডিয়ায় আছি, আমরাও কয়েকটি সাধারণ (কমন) বিষয় উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করে থাকি। এতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রকৃত কারণ আমাদের জানার বাইরে থেকে যায়। যেমন, বলা হয়, পারিবারিক কলহের জের ধরে, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে বা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে বা চাকরি চলে যাওয়ায়, প্রভৃতি কারণে অমুক আত্মহত্যা করেছেন। দু-একটি ব্যতিক্রম ক্ষেত্র বাদে আত্মহত্যার খবরের ‘ফলো-আপ নিউজ’ হয় না বলে প্রকৃত কারণটি হয়তো আড়ালেই থেকে যায়। গবেষকরা বলেন, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আত্মহত্যার পেছনে শুধু একটি কারণকে দায়ী করা যায় না। অনেক কারণ মিলে ব্যক্তিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে নিয়ে যায়।

আগে থেকেই যথাযথ ব্যবস্থা বা প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিলে তা রোধ করাও সম্ভব। ব্যক্তির আত্মহত্যার পর পর তার আত্মীয়স্বজনের প্রতিক্রিয়া তীব্র হতে পারে, তারা সেই মুহূর্তে আত্মহত্যার ঘটনাটিকে মেনে নিতে পারেন না এবং ওরকম মানসিক অবস্থায় সাংবাদিকদের কাছে হয়তো বিস্তারিতভাবে তারা পেছনের কারণগুলো তুলে ধরতে পারেন না। অথবা কিছু বিষয় হয়তো তারা স্বেচ্ছায় চেপেও যান। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে প্রায় সময়ই যেটি উপেক্ষিত থেকে যায়, তা হচ্ছে ব্যক্তির মানসিক অসুস্থতা।

অধিকাংশ ব্যক্তিই আত্মহত্যার সময় কোন না কোন গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত থাকেন। হয়তো সেটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না বা মানসিক রোগ নিশ্চিত হলেও যথাযথ চিকিৎসা করা হয় না। অন্যভাবে বলতে গেলে, মানসিক রোগাক্রান্তদের ভেতর আত্মহত্যার হার সাধারণ, সুস্থ মানুষের তুলনায় বেশী।

আত্মহত্যার জন্য অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ মানসিক রোগটি হচ্ছে বিষন্নতা। গুরুতর বিষন্নতা বা মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের ১৫ শতাংশই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বিষন্নতা রোগে আক্রান্তরা দিনের পর দিন অধিকাংশ সময়ই মন খারাপ করে থাকেন, কোন কাজে উৎসাহ-মনোযোগ পান না, ঘুম-খাওয়ার রুচি-উদ্যম-গতি কমে যায়। পরবর্তী সময়ে তা তীব্র আকার ধারণ করলে আক্রান্তরা নিজেদের জীবনকে নিরর্থক ও বোঝা মনে করতে থাকেন, সমাজ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখেন। এদের প্রতিনিয়ত আত্মঘাতী চিন্তায় মন আচ্ছন্ন হতে থাকে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না করালে এদের অনেকেই নির্মম সিদ্ধান্তের পরিণতি ঘটান।

আরেক ধরণের বিষন্নতা বা ডিপ্রেসন- যাকে ম্যানিক ডিপ্রেসন বা বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার বলা হয়- এতে আক্রান্তদের ১০-১৫ শতাংশও আত্মহত্যা করেন। এই রোগে বিষন্নতা ও উত্তেজিত-উৎফুল্ল অবস্থা পর্যায়ক্রমে থাকে এবং অধিকাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে যখন বিষন্নতার উপসর্গ বেশী থাকে।

আরেকটি জটিল মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তরাও অন্যদের তুলনায় অনেক বেশী আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে থাকেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ শতাংশ সিজোফ্রেনিক রোগী আত্মহত্যা করেন। সিজোফ্রেনিক রোগীদের মধ্যে যাদের বিষন্নতার উপসর্গ থাকে, তারা আত্মহত্যাপ্রবণ হতে পারেন। অনেক সিজোফ্রেনিক রোগীর মধ্যে অস্বাভাবিক সন্দেহ ও ভয় থাকে যা তাকে পর্যায়ক্রমে সমাজ থেকে দূরে ঠেলে দেয়, একাকী করে রাখে, যাতে রোগী এক সময় অসহ্য হয়ে আত্মহত্যা করেন।

এছাড়া মাদকাসক্তদেরও আত্মহত্যার ঝুঁকি বেশী। গবেষকদের মতে, অ্যালকোহলে আসক্তদের ১৫ শতাংশ আত্মহত্যা করেন, হেরোইনে আসক্তদের আত্মহত্যার ঝুঁকি মাদকমুক্ত ব্যক্তিদের তুলনায় ২০ গুণ বেশী। অন্যান্য মানসিক রোগ যেমন, বিপর্যয়-পরবর্তী মানসিক চাপ বা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার, অহেতুক ভীতি বা ফোবিয়া, জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার বা অত্যধিক দুশ্চিন্তাজনিত রোগ এবং কিছু ব্যক্তিত্ব-বৈকল্য বা পারসোনালিটি ডিসঅর্ডারে আক্রান্তদের মধ্যেও আত্মহত্যার হার সাধারণের চেয়ে বেশী।

হঠাৎ কোন মানসিক চাপে পড়লে বা জীবনে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে অনেকে এর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন না। দৃশ্যমান গুরুতর কোন মানসিক রোগ না থাকা সত্ত্বেও কোন পরিকল্পনা বা দীর্ঘমেয়াদী আত্মহত্যা প্রবণতা ছাড়াই হুট করে অনেকে আত্মহত্যা করে বসতে পারেন এমন কোনো চাপের মধ্যে পড়লে। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার ফলে, প্রেমে ব্যর্থতায়, অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে, বাবা-মায়ের উপর অভিমান করে এমন হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। প্রিয় কারো মৃত্যু শোকও আত্মহত্যা প্রবণ করে তুলতে পারে ব্যক্তিকে। শারীরিক-মানসিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরাও আত্মহত্যা প্রবণ হয়ে থাকেন বেশী।

অনেকেই মনে করেন, যারা একবার আত্মহত্যা করে ব্যর্থ হয়, তারা আর ও পথে এগোয় না- মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ঘুরে আসায় জীবনের প্রতি তাদের মায়া বেড়ে যায়। কিন্তু গবেষকরা বলছেন ঠিক এর উল্টোটা। যারা অতীতে আত্মহননের চেষ্টা চালিয়েছে তাদের মধ্যে পুণরায় চেষ্টা চালানো বা আত্মহত্যার হার, যারা কখনোই আত্মহত্যা চেষ্টা চালায়নি তাদের চেয়ে বেশী। কোনো কোনো গবেষণা মতে, এই হার প্রায় ৩০-৪০ গুণ বেশী। মানসিক রোগের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরের কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহে আত্মহত্যার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী।

এই সব আত্মহত্যার ঘটনার অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। এ জন্য দরকার সচেতনতা, কুসংস্কার কাটিয়ে ওঠা এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। দীর্ঘমেয়াদে আত্মহত্যা-প্রবণ ব্যক্তি প্রকাশ্যে বা ইঙ্গিতে কোনো না কোনোভাবে তার অন্তর্গত ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করে কারো কাছে - মা, বাবা, বন্ধু বা চিকিৎসকের কাছে। কেউ যদি আত্মহত্যার কথা ব্যক্ত করে, তবে তা গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিত। তার সমস্যার জায়গাটা চিহ্নিত করে তাকে সেভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা যেতে পারে। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত মনে হলে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর প্রতি নারী-পুরুষ উভয়েরই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। ধর্মীয় ও সামাজিক সুস্থ রীতিনীতির চর্চা করতে হবে। সামাজিক সুস্থ, সুন্দর সম্পর্ক লালন করতে হবে, পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে। এই বিষয়গুলো আত্মহত্যা প্রতিরোধে ‘প্রটেক্টিভ ফ্যাক্টর’ হিসেবে গণ্য। জীবনের খারাপ সময়গুলোতে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, নিজের প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মবিশ্বাস, সমস্যা সমাধানের কার্যকর দক্ষতা এবং প্রয়োজনে অন্যের কাছ থেকে ইতিবাচক সহায়তা লাভের চেষ্টা - এগুলোকেও আত্মহত্যার ক্ষেত্রে রক্ষাকারী বা প্রতিরোধী বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত নিদ্রা, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকা তথা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং শারীরিক-মানসিক যে কোন অসুস্থতায় যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা লাভের সুযোগ আত্মহত্যা প্রবণতা কমায়।

আত্মহত্যা প্রবণতা রোধে সরকারেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। এই তো কয়েক মাস আগের ঘটনা। একজন মডেল আত্মহত্যার তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে ফেসবুকে ঘোষণা দেন, তিনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেও তাকে আত্মহত্যার হাত থেকে বাঁচানো যায়নি। অন্তত তার পরিচিত কেউ এই সংবাদ না জানলেও, সরকারি একটি হটলাইন থাকলে তাতে জানানো যেতো। প্রতিবেশি ভারত-শ্রীলঙ্কাতেও এ ধরনের হটলাইন চালু রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে ২০১২ সালে বাংলাদেশে আত্মহত্যার অনুমিত সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ১৬৭টি। পুলিশ সদর দপ্তর এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট যে তথ্য দেয় তাতেও দেখা যায় এ সংখ্যা বেশ কাছাকাছি। অর্থাৎ, আমাদের দেশেও আত্মহত্যার বিষয়টি উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে রয়েছে। আত্মহত্যা রোধে আমাদের দেশেও এমন হটলাইন থাকা দরকার।

হতাশার বিষয় হচ্ছে, আত্মহত্যা নিয়ে বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে রেফারেন্স হিসেবে গণ্য তেমন কোনো গবেষণা নেই। সরকারের যেসব সংস্থা গবেষণার কাজে নিয়োজিত, তারা বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক গবেষণা করে। কিন্তু আত্মহত্যাজনিত গবেষণা বা এ নিয়ে কাজ করার মতো আলাদা সংস্থা না থাকায়, বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি কাজ হয় না। তবে, ক্ষুদ্র পরিসরে কিছু গবেষণা হয় বেসরকারি পর্যায়ে।

এরকম কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের অন্য অনেক দেশে পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যায় মৃত্যুর হার বেশী হলেও বাংলাদেশে নারীরাই বেশী আত্মহত্যা করে। এরকম আরো কিছু গবেষণার ফল অনুযায়ী, যৌতুক এবং ছাত্রী উত্যক্তকরণ বাংলাদেশে মেয়েদের আত্মহত্যার পেছনে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। সম্প্রতি পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী, কম বয়সী, স্কুল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আত্মহত্যা এবং সন্তান বা পরিবার-ভুক্ত কাউকে হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। এর পেছনের সামাজিক-মানসিক কারণ খতিয়ে দেখতে এবং সমাজে এ ধরণের মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তার প্রতিরোধে যথাযথ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মহত্যা প্রবণতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দশম। বাংলাদেশে গত সাত বছরে ৭৩ হাজার ৩৮৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যাকারীদের বেশিরভাগেরই বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জরিপ অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি।

আত্মহত্যা প্রতিরোধকল্পে জনসচেতনতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালন করে থাকে। আমাদের দেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে।

একটি খুব জরুরি বিষয় হচ্ছে, আত্মহত্যা মানে কেবল ওই ব্যক্তির জীবনাবসানই নয়। পরিবার ও সমাজে এর সুদূরপ্রসারী বিরূপ মানসিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া রয়ে যায়। এছাড়া আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যা চেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ক্ষতির ব্যাপারটিও সামান্য নয়।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭/হাসান/শাহনেওয়াজ

Walton
 
   
Marcel