ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৯ জুলাই ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

একটা ফুল নিবেন স্যার, একটা ফুল

মামুনুর রশিদ রাজিব : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-১৮ ৮:৩০:৪৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-১৮ ২:৩৭:৪১ পিএম

মামুনুর রশিদ রাজিব : যে বয়সে শিশুরা ব্যাগভর্তি বইখাতা পিঠে চেপে স্কুলে যায় আপন মনে, বিভিন্ন দিবসে মা-বাবার হাত ধরে ঘুরে বেড়ায় পার্ক, জাদুঘরসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। ঠিক সেই বয়সি আরেকদল শিশু ঘুরতে আসা ওই শিশুদেরই বাবা-মা কিংবা অন্য অনেকের পেছনে পেছনে হাতে ‘ফুলরূপী’ সংসারের ঘানি নিয়ে ঘুরে বেড়ায় আর বলতে থাকে, ‘স্যার একটা ফুল নিবেন, একটা ফুল।’

কেউ হয়তো নেয়, কেউবা এড়িয়ে যায়। তবুও তাদের অনুনয়-বিনয় চলতে থাকে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এমনই দুজন ভাগ্যহত শিশু জয় এবং সুমাইয়ার সঙ্গে কথা হয় রাইজিংবিডির।

 

জয়
 

৮ বছর বয়সি জয়ের স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার কামরাঙ্গীরচর হলেও বাবা-মার সঙ্গে থাকে টিএসসি, শাহবাগের পথে পথে। বাবা-মা বেঁচে থাকলেও সংসারের কঠিন বোঝা কেন তাকেও বইতে হচ্ছে এত অল্প বয়সে, সেই উত্তর তার জানা নেই। শুধু জানা আছে বাঁচতে হলে খাওন লাগে আর খাওনের জন্য কাজ করতে হবে। পড়াশোনা করে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখা ছেলেটার বেশ কষ্ট লাগে যখন দেখে, তার বয়সি ছেলেমেয়েরা সামনে দিয়ে স্কুলে যায় আর সে হাতে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে পার্কের কোনো এক কোণে। যে আদৌ জানে না কখনো সে স্কুলে যেতে পারবে কিনা।


সুমাইয়া


জয়ের মতো ৭ বছরের সুমাইয়াও এক হতভাগ্য শিশু। ময়মনসিংহে জন্ম নেওয়া সুমাইয়া বর্তমানে বাবা-মা আর নানীর সঙ্গে ঢাকায় থাকে পার্কে কিংবা রাস্তায়। দিনের শুরু থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কাজের সময়সীমা এবং এ বয়সেই তার মাথাতেও একই ভাবনা- বাঁচতে হলে খাওন চাই আর খাওনের জন্য কাজ করতে হবে। বাবার অসুস্থতায় সংসারের দায়ভার কাঁধে নিতে বাধ্য হওয়া মেয়েটা পড়ালেখা করে অনেক বড় হতে চাইলেও জানে না, সে কি হতে চায়। হয়তো না জানা কথাটা না জানাই থেকে যাবে, শুধু জীবনটা ছুটে চলে যাবে গন্তব্যহীন নিশানায়। হয়তো পার্কে পার্কে ঘুরে বছরের পর বছর বলে যাবে, ‘একটা ফুল নিবেন স্যার, একটা ফুল।’

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ ডিসেম্বর ২০১৭/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Walton