ঢাকা, বুধবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

লায়লার লাখ টাকার বনসাই

ছাইফুল ইসলাম মাছুম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২৫ ১২:৫৮:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-০১ ৭:৪৯:০১ পিএম

ছাইফুল ইসলাম মাছুম: শহরের কিছু নারী যখন টিভিতে ভিনদেশী সিরিয়াল দেখেন, বিপণীবিতানে কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকেন অথবা ভ্রমণের পরিকল্পনা করে অবসর সময় কাটানোর কথা ভাবেন তখন একমাত্র ব্যতিক্রম লায়লা আহমেদ। তিনি অবসরে সময় কাটানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন বনসাই চর্চা। অলঙ্কার, প্রসাধনী অথবা পার্লার নয়, তিনি ব্যস্ত থাকেন নার্সারিতে ঘুরে ঘুরে বনসাইয়ের জন্য গাছ সংগ্রহ করতে। এভাবেই শহরের অন্য দশজন গৃহিণী থেকে নিজেকে আলাদা করেছেন লায়লা আহমেদ। সংসারের সব কাজ সামলে বনসাই তৈরি করে ইতিমধ্যে জাতীয় পর্যায়ে বনসাই শিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। তার তৈরি বনসাই নিয়ে একাধিক একক প্রদর্শনীও হয়েছে।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের গ্যালারীতে সাত দিনব্যাপী চলছে লায়লা আহমেদের একক মায়াভী বনসাই প্রদর্শনী। ২৩ জুন প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য্য। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক প্রভাষ আমিন, মুস্তাফিজ শফি ও সাহিত্যিক বিপ্রদাশ বড়ুয়া। মায়াভী বনসাই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে চেরিফল, অশ্বত্থ, হিজল, তেঁতুল, কনকচাঁপা, কামিনি, অর্জুন, চায়না বটসহ অসংখ্য প্রজাতীর বনসাই। পাঁচশ টাকা থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা দামের বনসাই রয়েছে এখানে। বনসাই প্রদর্শনীতে ভিড় করছেন ছাত্র শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নারী পুরুষ। অধিকাংশ দর্শনার্থী বৃক্ষপ্রেমিক কিংবা সৌখিন মানুষ, বনসাই সুন্দরের পূজারী।

বনসাইপ্রেমিক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হাসান। চাকরির পাশাপাশি বাড্ডায় নিজ বাড়িতে তিনি বনসাই তৈরির চর্চা করেন। পত্রিকায় জেনে চারুকলায় এসেছেন প্রদর্শনী দেখতে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের বনসাই সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। তবে এই প্রদর্শনীর মাধম্যে সাধারণ মানুষ বনসাই সম্পর্কে জানতে পারছে। বনসাই সমাজে শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাগিব ফয়সাল। তিনি বলেন, ‘অনেক পরিচিত জনের বাড়িতে দুই একটি বনসাই গাছ দেখেছি। কিন্তু এককভাবে এত বেশি বনসাই গাছ একসাথে দেখিনি। না দেখলে বুঝতাম না,  এককভাবে এত বনসাই গাছ তৈরি করা সম্ভব। প্রদর্শনী অসাধারণ লেগেছে, ভাবছি নিজেও বনসাই করবো।’



প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন চারুকলার গ্যালারীতে কথা হয় লায়লা আহমেদের সাথে। তিনি জানান, দীর্ঘ ১৮ বছর আগে প্রদর্শনী দেখে প্রথম বনসাই তৈরিতে আগ্রহ বোধ করেন তিনি। পরে বনসাই সম্পর্কিত বই পড়ে, প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই শুরু করেন বনসাই তৈরি। মালিবাগ নিজ বাসার পাঁচ হাজার বর্গফুট ছাদে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন রকম ২০০ প্রজাতির বনসাই গাছের নার্সারি। প্রথম দিকে বনসাইয়ের কারণে পারিবারিক কলহ তৈরি হলে, পরে বনসাই তৈরিতে লায়লা আহমেদ পরিবারের সমর্থন পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি। এ পর্যন্ত ১৬ শ বনসাই গাছ তৈরি করেছেন তিনি। প্রতিবেশী অনেক গৃহিণী লায়লা আহমেদের দেখাদেখি বনসাই তৈরি শুরু করেছেন। তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে অসংখ্যবার বনসাই প্রদর্শনীতে অংশ নিলেও, দুই বার এককভাবে মায়াভী বনসাই প্রদর্শনী করেছেন। প্রথম বার ২০১৬ সাথে ঢাবির চারুকলা গ্যালারীতে করেন। সেবার বনসাই বিক্রি হয়েছিল আড়াই লাখ টাকার। দ্বিতীয় বারের মতো একক প্রদর্শনী বর্তমানে চলছে। এবার প্রদর্শনীর প্রথম দিনে বিক্রি হয়েছে ৪০ হাজার টাকার মায়াভী বনসাই।

বনসাই সম্পর্কে লায়লা আহমেদ বলেন, ‘বনসাই হচ্ছে অগভীর পাত্রে গাছের চাষ। গাছটা হবে প্রকৃতির বুকে বেড়ে ওঠা কোন মহীরুহ গাছের ক্ষুদ্র সংস্করণ। দীর্ঘ সময় ধরে শিকড় কেটে কেটে, ডাল পালা ছাটাই করে, বিশেষ পরিচর্যায় বনসাই তৈরি করা হয়। এই জন্য অনেকে বনসাইকে জীবন্ত শিল্প বলেন।’

বনসাই বিদেশেও প্রদর্শনী করতে চান লায়লা আহমেদ। বনসাইকে শিল্প হিসেবে রূপ দিতে বনসাইয়ের জন্য তিনি লড়াই জারি রাখতে চান আজীবন।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ জুন ২০১৮/তারা

Walton Laptop
 
     
Walton