ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:
উপকূলে নারী-৩

যৌতুক-তালাকের বলি নারী

রফিকুল ইসলাম মন্টু : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১৮ ১:৫৭:৩৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-১৮ ১:৫৯:৫৬ পিএম

উপকূলে নারী- অবহেলা, বৈষম্য আর নির্যাতনের শিকার ভাগ্য বিড়ম্বিত এক জীবন। যে জীবনে সংকট নিত্যদিনের, নেই সমাধান। দুর্যোগ-দুর্বিপাকে স্বামীর অনুপস্থিতিতে সংসারের বোঝা চাপে নারীর ওপর। পুরুষবিহীন সংসারে নারী হয়ে ওঠেন পরিবারের প্রধান। অথচ কোথাও নেই এতটুকু স্বীকৃতি। উপরন্তু আছে যৌতুকের চাপ, তালাকের ভয়। স্বামীর একাধিক বিয়ে শেষ জীবনেও নারীকে দেয় না স্বস্তি। ওদিকে জীবনের রঙিন দিনগুলোর শুরুতেই বাল্যবিয়ের ভোগান্তি চাপে নারীর কাঁধেই। তবুও নারীকে সইতে হয় নানাবিধ গঞ্জনা। দুর্যোগ এলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি বাড়ে নারীর। লঙ্ঘিত হয় অধিকার। তবুও টিকে থাকার লড়াইয়ে সে শামিল হয়। ভয়াল নদীতে মাছ ধরার মতো পেশায় দেখা মেলে উপকূলের নারীর। জীবিকার তাগিদে বনে গিয়ে স্বামী বাঘের পেটে গেলেও নারীকে নামতে হয় জীবন সংগ্রামে। উপকূলে নারীর সংগ্রামের ইতিবৃত্ত নিয়ে প্রকাশিত হলো ‘উপকূলে নারী’ শীর্ষক ধারাবাহিকের তৃতীয় পর্ব। উপকূল অঞ্চল ঘুরে এসে লিখেছেন রফিকুল ইসলাম মন্টু

রিতা বেগমের ওপর স্বামীর নির্যাতন শুরু হয় বিয়ের মাত্র সাত মাস পর থেকেই। বিয়েতে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবির ৭০ হাজার শোধ হয়েছে। ছেলেপক্ষের ১৬ জনের কাপড়চোপর কিনে দিয়েছেন মেয়ের বাবা। যৌতুকের বাকি কুড়ি হাজার টাকা থেকেই গণ্ডগোলের সূত্রপাত। রিতার বাবা জসিম উদ্দিন ছেলেপক্ষের কাছে ধর্না দিয়ে সালিশেও বসাতে পারছেন না, মেয়েকেও আনতে পারছেন না। চরফ্যাসনের দ্বীপ ইউনিয়ন ঢালচরে নিজ বাড়িতে বসে মেয়ের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরছিলেন রিতার মা জয়তুন বেগম। নির্যাতন থেকে বাঁচাতে মেয়েকে ফেরত চান তারা। ঢালচরের মৎস্যজীবী আমানউল্লাহ’র দ্বিতীয় স্ত্রী রেখা বেগমের জীবনেও ঘটেছে নির্যাতনের ঘটনা। ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ায় রেখার বিয়ে হয়ে যায় অল্প বয়সেই। সেলিম হোসেন নামে একজনের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই নির্যাতন শুরু হয় তার ওপর। যৌতুকের ৫০ হাজার টাকা দাবি করে তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন। তিন বছর বিয়ে টিকলেও অধিকাংশ সময় রেখা থাকতেন মায়ের কাছে। একবার গলায় ফাঁস লাগিয়ে রেখাকে মেরে ফেলতে উদ্যত হয় স্বামী। নির্যাতন চলতো প্রতিরাতে। খাবার দিত না। সালিশি বৈঠক হয়েছে অন্তত দশবার। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রেখা এখন দ্বিতীয় স্বামী আমানউল্লাহ’র ঘরে।

রিতা এবং রেখার মতো উপকূলের হাজারো নারী এভাবেই যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে এদের জীবন। অশিক্ষা, অসচেতনতা আর আইন প্রয়োগ না হওয়ায় নারী নির্যাতন বাড়ছে। সালিশি বৈঠকে এর কোনো সমাধান মেলে না। উপকূলের নারীদের ওপর পৃথক জরিপ না থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত জরিপে নারী নির্যাতন বৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট। ইউএনডিপি’র ‘সিষ্টেম অফ ডাওরি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে শতকরা ৫০ শতাংশ বিবাহিতা নারী যৌতুকের কারণে শারীরিক অথবা মানসিক নির্যাতনের শিকার। অন্যদিকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যসূত্র বলছে, এক বছরে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে ২৩৬ জন নারীকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৯৫ জন নারী। এইসব জরিপের সঙ্গে একমত পোষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌতুকের কারণে নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে অসংখ্য নারী। যার সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের কারো জানা নেই।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপ আর বিশেষজ্ঞ অভিমত উপকূলের নারীদের ক্ষেত্রে পুরোপুরি মিলে যায়। এই নির্যাতনের মাত্রা উপকূলের প্রান্তিক জনপদে আরও বেশি বলে সংশ্লিষ্টদের অনুমান। উপকূলের পথে কান পেতে শুনি হাজারো গল্প। এক একটি মানুষের জীবন মানেই এক একটি বিরাট গল্প; কখনো কখনো উপন্যাস। কিন্তু একই পরিবারের এত দুঃসংবাদের ঘটনা ততটা পাওয়া যায় না। ভোলার চরফ্যাসনের কুকরি মুকরি ইউনিয়নের চর পাতিলার ছকিনা বিবি, তার বোন এবং কন্যার এই গল্পগুলো এলাকার প্রায় সকলেই জানেন। চর পাতিলার পথে কষ্টে থাকা মানুষদের খুঁজি। সন্ধান পাই ছকিনার। দ্বীপ জেলা ভোলার চরফ্যাসনের চর কুকরী মুকরীর চর পাতিলার বাসিন্দা বিধবা নারী সকিনা বিবি মেয়ের ওপর জামাইয়ের নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে বার বার চোখ মুছছিলেন। জোড়া গাভির দাবি নিয়ে জামাই নির্যাতন চালাচ্ছে তার মেয়ের ওপর। জানালেন, এর ওর কাছে চেয়ে-চিন্তে, একটা গরু বিক্রি করে টাকা জমিয়ে মেয়ের বিয়ে দেন কুকরির ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের শাহজাহান মিয়ার ছেলে মনির হোসেনের কাছে। বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর গড়িয়ে গেলেও যৌতুকের দাবি জামাই মনির হোসেন কখনোই ভুলছে না। জোড়া গাভি চেয়েছে মনির। এরইমধ্যে রেশমার কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে এক মেয়ে সন্তান। এরপরও মনিরের চাই জোড়া গাভি। রেশমাকে সে বিতাড়িত করেনি; তবে যৌতুকের দাবি নিয়ে প্রতিনিয়ত মারধর করছে বলে অভিযোগ করেন ছকিনা বিবি। ছকিনা বিবি বলেন, ‘গরিব মানুষ। কোথা থেকে জামাই’র দাবি পূরণ করমু। এলাকায় তো মেয়েদের বিয়েতে গরু, নৌকা দেওয়ার প্রচলন আছে। যাগো আছে, হেরা দেয়। আমরা কোথা থেকে দিমু। তারপরও কইছি, পারলে আস্তে আস্তে দিমু। জামাই তো শোনে না।’ এই কথাগুলো বলতে বলতে মেয়ের কথা মনে করে কাঁদতে থাকেন ছকিনা বিবি। আমি প্রসঙ্গ পাল্টাই। জানতে চাই তার বোনদের কথা।
 


শুধু মেয়ের নয়, ছকিনা বিবির কপাল ভাঙলো বিনা কারণেই। অন্যদিকে ছকিনার মেজ বোন ছবুরা বিবিকে ৪ মেয়েসহ ফেলে যায় তার স্বামী আবদুস সাত্তার। ছোট বোন হাজেরা বিবি দ্বিতীয় বউ হয়ে বয়সী এক স্বামীর ঘরে গিয়ে বিপাকে। তার প্রথম স্ত্রীর ৫ সন্তান আর নিজের ২ সন্তান সামলাতে তারও গঞ্জনার শেষ নেই। ছকিনা বিবির সঙ্গে কথা বলতে চাই। ‘কেমন আছেন?’- প্রশ্ন করতেই ঘর এবং সামনের বারান্দার মাঝখানে পাতার বেড়ার ফাঁক দিয়ে জবাব দেন- ‘ভালো আছি।’ স্বামীর নাম জিজ্ঞেস করতেই বলেন- ‘মারা গেছে’। যেসব নারীদের স্বামী ফেলে চলে যায়, তারা সাধারণত এমন জবাবই দেন। মানে ওই নামটি তারা আর কখনোই মুখে আনতে চান না। জবাব শুনে আমি ছকিনা বিবির মুখের দিকে তাকাই। আবার প্রশ্ন করি- ‘না, মারা যায়নি! কী হয়েছে বলুন?’ ছকিনার দীর্ঘশ্বাস পড়ে। বলেন- ‘কথার কী শেষ আছে? কত কথা কমু?’ ছকিনা জানালেন, তার স্বামী শফিউল্লাহ’র প্রথম স্ত্রী ছিলেন তিনি। দিনমজুর স্বামীকে নিয়ে চলছিল সংসার টানাটানির ভেতর দিয়ে। একে একে দুটো সন্তান আসে ছকিনা বিবির ঘরে। একজন আনোয়ার হোসেন, আরেকজন রেশমা বেগম। হঠাৎ ছেলেমেয়ে দু’টো বড় হওয়ার আগেই শফিউল্লাহ’র মনে পরিবর্তন আসে। বিয়ে করে আরেকটি। এ নিয়ে সালিশি বৈঠক বেশ কয়েকবার হয়েছে; কিন্তু ছকিনার ভাঙা কপালে জোড়া লাগাতে পারেনি কেউ। একদিন শফিউল্লাহ চলে যায়; ছকিনা বিষয়টিকে নিয়তি বলেই ধরে নিয়েছেন। স্বামী চলে যাওয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে ছকিনার আরেক সংগ্রাম শুরু হয়। নিজে বিভিন্ন ধরণের কাজ করেছেন। ছেলেমেয়েরা একটু বড় হওয়ার পর তাদেরও কাজে পাঠিয়েছে।

নিজের জীবনের গল্পটা বলতে গিয়ে বেশ কয়েকবার চোখ মুছলেন ছকিনা। নিজের জীবনের মতই তার বোন আর মেয়ের জীবনও যেন একই সুতোয় গাঁথা। এই জীবনগুলো কীভাবে একই ছন্দে মিলে গেল; ছকিনা নিজেও ভাবতে পারেন না। একা একা বলতে থাকেন- ‘সব অভাগীরা এক জায়গায় জন্মাইছি। আমাগো সবাইর কপাল মন্দ।’ আমি ভাবি, এটা কপালের দোষ নয়, এর সঙ্গে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা জড়িত, আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের সঙ্গে এর নিবিড় যোগসূত্র আছে। এই সমাজে শক্তিমানেরা দাপটের সঙ্গে চলে। আর যারা দরিদ্র, একটু দুর্বল; তারা বারবার ঠকে। অবশেষে নিয়তিকে দোষারোপ করে একটু স্বস্তি ফেলে।       

ছকিনা বিবির ঘর থেকে খানিক দূরে তার মেঝো বোন ছবুরা বিবির ঘর; ঠিক ছকিনার মতই যার অবস্থা। তর্জনী উঁচিয়ে ছবুরার ঘরটি দেখিয়ে দেন ছকিনা। ঘরের দরোজা বন্ধ। ছকিনা ডাকাডাকি করলেন; কোন আওয়াজ এলো না। ফলে ছবুরার গল্পটাও শোনাচ্ছিলেন ছকিনা। ছবুরা বিবির বিয়ে হয়েছিল চর পাতিলার আবদুস সাত্তার নামের একজনের সঙ্গে। ছবুরার কোলজুড়ে আসে দুটো মেয়ে। কিন্তু ছবুরাকে বিয়ের বেশ কয়েক বছর পর মাথায় ‘চক্কর দেয়’ আবদুস সাত্তারের। আরেকটা বিয়ে করতে হবে তাকে। যে ভাবনা, সেই কাজ। চর পাতিলার অন্যপ্রান্তে নূরজাহান নামের বিধবা এক নারীকে বিয়ে করেন তিনি। এক পর্যায়ে ছবুরার সংসার ছেড়ে উধাও। ঠিক ছকিনার মতোই ছবুরা বিবিও বিপাকে পড়েন স্বামী চলে যাওয়ার পর। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগ দিয়ে, দেন দরবার করে লাভ হয়নি। ছবুরার সঙ্গে সাত্তারের ছিঁড়ে যাওয়া বন্ধন আর জোড়া লাগেনি। সেই থেকে সন্তানদের কোলেপিঠে করে বড় করার চেষ্টা করেন ছবুরা। কিন্তু নিয়তি এখানেও আরেক ধাক্কা দিল ছবুরাকে। বিয়ের পর বড় মেয়ে চম্পা বেগমের জীবনে নেমে আসে চরম অশান্তি। চরফ্যাসনের দক্ষিণ আইচার করিম পাড়ার জামাল হোসেন নামের এক ছেলের সঙ্গে চম্পার বিয়ে হয়েছিল। ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবি ছেলের। কিন্তু মাত্র ১৮ হাজার টাকা দিতে পেরেছেন ছবুরা। ফলে যা হবার তা-ই হচ্ছে; বিরোধ চলছে; চম্পা বেগমও সইছে নির্যাতন।
 


ভোলার দৌলখানের দ্বীপ মদনপুরার মজুর আজাদের কন্যা শারমিনের অবস্থা দেখে অবাক হতে হয়। দরিদ্র বাবা নিজের ঘরের ভেতরে মেয়ে জামাইয়ের জন্য সুন্দর কক্ষ বানিয়ে দিয়েছিলেন। শারমিনের বিয়ে হয়েছিল মো. হাসানের সঙ্গে। অল্প দিনের মাথায় শারমিনের কোলজুড়ে আসে শিশু সন্তান। কিন্তু হঠাৎ করেই হাসান উধাও। পাশের বাড়ির আছিয়া বেগমকেও দুই ছেলেসহ ফেলে যায় স্বামী দুলাল মিয়া। পাটোয়ারী বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবদুল মজিদের কন্যা বিবি মারজানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। দুই সন্তানসহ মারজানকে বাবার বাড়িতে ফেলে রাখে স্বামী মাইনুদ্দিন। এদের সকলের সমস্যার সূত্রপাত একই- যৌতুক। যৌতুকের দাবি থেকে নির্যাতন, নির্যাতনের এক পর্যায়ে তালাক। অবশেষে নারীদের বিপর্যস্ত জীবন, অনিশ্চয়তার পথে গমন। এই হচ্ছে উপকূলের নারীদের জীবন। এর সঙ্গে পুরুষের বহু বিবাহের প্রবণতাও দায়ী বলে অনেকে মনে করেন। যৌতুক দেয়া-নেয়ার শাস্তি হিসেবে যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০-এ বলা হয়েছে, যৌতুক নেয়া ও দেয়া দুটোই অপরাধ। ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রণয়ন করা হয়। ২০০৩ সালে তা সংশোধিত হয়। এই আইনের ১১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য ওই নারীর মৃত্যু ঘটায় বা ঘটানোর চেষ্টা করে, অথবা ওই নারীকে আহত বা আহত করার চেষ্টা করে তাহলে স্বামী বা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ১১ (ক) ধারায় মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ড হত্যাচেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১১ (খ) ধারায় মারাত্মক জখম করার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড (ন্যূনতম পাঁচ বছর), ১১ (গ) ধারায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধরের অপরাধে তিন বছর বা সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু উপকূলের নারীদের এসব অজানা। আইনের কোন প্রয়োগ সেখানে নেই।

এদিকে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘যৌতুক নিরোধ বিল-২০১৮’-এ বলা হয়েছে, কাউকে ক্ষতি করার জন্য যৌতুকের মামলা বা অভিযোগ করলে ৫ বছরের জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। আবার বিয়েতে যদি একপক্ষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য পক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করে, তবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং সর্বনিম্ন এক বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকার জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য হবে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রেও এ সংক্রান্ত মামলা আপসযোগ্য হবে। ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদার বলেন, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুক ও তালাকের বিষয়গুলো আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করি। গ্রাম আদালতে এ বিষয়ে অনেক মামলা নিষ্পত্তি হয়। তবে অনেকগুলো ঘটনা আবার আমাদের অগোচরেই থেকে যায়। যৌতুকের বিষয়ে গ্রামের মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।   স্থানীয় নাগরিক সমাজের দাবি, যৌতুক প্রতিরোধের জন্য এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারে। আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে যৌতুকের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচার করতে পারে।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮/তারা

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC