ঢাকা, বুধবার, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী সেরা ১০ সংগঠন

ছাইফুল ইসলাম মাছুম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৯ ২:৩২:২৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-২৯ ২:৪১:১১ পিএম

ছাইফুল ইসলাম মাছুম : সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে রোববার, আয়োজন করা হয়েছে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮। তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ৫০টি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়। এবং সেরা ৩০ সংগঠনকে বাছাই করে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড। সেরা দশটি সংগঠন সরাসরি এই পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের হাত থেকে।

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ পাওয়া সেরা ১০ সংগঠন

আরো একবার তারুণ্যের আলোয় ঝলসে উঠলো জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চ। সারাদেশ থেকে বাছাই করে শীর্ষ ১০টি সংগঠনের নাম ঘোষণা করে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০১৮। কারা রয়েছে শীর্ষ দশের তালিকায়? এ বছর দেশের সেরা ১০টি সংগঠনকে এক নজরে দেখে নিন।

১. নারী শক্তি ফাউন্ডেশন
বয়স্ক শিক্ষা, দুর্যোগে জরুরি সহায়তা সরবরাহ, বৃক্ষরোপণ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানে পঞ্চগড়ের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছে নারী শক্তি ফাউন্ডেশন। ৮ বছর ধরে কাজ করে যাওয়া সংগঠনটির পরিচালক মোসাম্মৎ ফারজানা জেবুন জানান, ২০১০ সাল থেকে যাত্রা শুরু করা নারী শক্তি ফাউন্ডেশনের বর্তমানে ৩৬৭ জন সদস্য রয়েছে। এই সংগঠনের কাছ থেকে সরাসরি সেবা পেয়েছেন ৮৭ জন।

২. জীবন
রাঙামাটিতে রক্তদানকারী একমাত্র সংগঠন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে জীবন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাজিদ বিন জাহিদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিনামূল্যে আমরা রাঙামাটিতে জেলায় রক্ত সরবরাহের কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সদস্য সংখ্যা ৩০০ জন। সঙ্গে আছে ১৫০০ স্বেচ্ছাসেবক। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার মানুষকে রক্ত সরবরাহ করেছে জীবন।

৩. পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংগঠন
৫০ জন সেচ্ছাসেবী নিয়ে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছে পরিবেশন ও হাওর উন্নয়ন সংগঠন। প্রায় ৫ লাখ মানুষ তাদের সেবার আওতায় রয়েছে। হাওর অঞ্চলের কৃষক ও মৎসচাষীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লোন গ্রহণে সহায়তা করে আসছে এই সংগঠনটি। এর প্রতিষ্ঠাতা নাবিদ হাসান বলেন, এলাকার মানুষের আর্থিক সমস্যা লাঘবে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।

৪. শিক্ষার আলো পাঠশালা
ঢাকায় বঞ্চিত ও এতিম শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে ২০১৪ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে শিক্ষার আলো পাঠশালা। ২০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এই প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি শিক্ষা সহায়তা গ্রহণ করছে ৩০০ শিশু। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠাতা সানি রহমান বলেন, বঞ্চিত শিশুদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা। আশা করছি বড় পরিসরে এই সংগঠন নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাব আমরা।

৫. একতা উন্নয়ন সংগঠন
বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষা সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ঝিনাইদহের সংগঠন একতা উন্নয়ন। ২০১১ সালে সুমন পারভেজ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, আমার এলাকায় ৮৫ জন প্রতিবন্ধীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে একতা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন। সংগঠনে বর্তমানে ৩০০ সদস্যের পাশাপাশি ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন।


৬. ভোরের আলো
পথশিশুদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে ২০০৭ সালে ভোরের আলো সংগঠন গড়ে তোলেন শফিকুল ইসলাম খান। এখন পর্যন্ত তার এই সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করেছে ১ লাখ ৯ হাজার ১৭০ জন পথশিশু। এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ১৬৭০ জন। শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পথশিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা, নেতৃত্বের গুণাবলী সৃষ্টি এবং আরো নানান কার্যাবলীর মাধ্যমে এগিয়ে চলছে আমাদের কার্যক্রম।

৭. অল ফর ওয়ান ফাউন্ডেশন
স্বাস্থ্য সম্মত জীবন ব্যবস্থা পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে অল ফর ওয়ান ফাউন্ডেশন। ঢাকায় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কামরুন নেসা মিরা বলেন, বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসম্মত জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সংগঠনটির মূল লক্ষ্যে রয়েছে দরিদ্র নারী ও তাদের শিশুরা, যারা স্বাস্থ্যসম্মত জীবন ব্যবস্থার অভাবে ঝুঁকির মাঝে রয়েছে। সেই সঙ্গে সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছে অল ফর ওয়ান।

৮. সিলেট আর্ট অ্যান্ড অটিজম ফাউন্ডেশন
২০১৩ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ইতিহাস প্রচার এবং স্থানীয় প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চিত্রকর্ম চর্চার কাজ করে যাচ্ছে সিলেট আর্ট অ্যান্ড অটিজম ফাউন্ডেশন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করছেন ইসমাইল গণি হিমন। ২০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।

৯. লালমনিরহাট তাইকোয়ান্দো অ্যাসোসিয়েশন
নারী ও শিশুদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর জন্য ২০১৬ সাল থেকে  কার্যক্রম শুরু করে লালমনিরহাট তাইকোয়ান্দো অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা শান্তনা রানী রায় বলেন, ৩০ সদস্য নিয়ে আমার এই সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। লক্ষ্য আমার এলাকার নারী ও শিশুদের নিরাপদ রাখা। আর এই লক্ষ্য অর্জনে এখন পর্যন্ত ৩০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি আমরা।

১০. প্রথম সূর্য অ্যাগ্রো ফার্ম
নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে ফার্ম তৈরির জন্য আর্থিক সহায়তাও প্রদান করে প্রথম সূর্য অ্যাগ্রো ফার্ম। ২০১৬ সাল থেকে কাজ করে যাওয়া এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন কামরুন নাহার। তিনি জানান, ৪ সদস্য এবং ৮ কর্মচারী নিয়ে তার এই সংগঠন থেকে এখন পর্যন্ত ৮৫৫ জন সহায়তা গ্রহণ করেছে।

তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন’ (সিআরআই) ২০১৪ সালের নভেম্বরে দেশের তরুণদের সর্ববৃহৎ প্ল্যাটফর্ম ‘ইয়াং বাংলা’ প্রতিষ্ঠা করে। ২০১৫ সাল থেকে তাদের অনুপ্রাণিত করতে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রদান করে আসছে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’। এরই ধারাবাহিকতায় দেশ গঠনে তরুণদের সৃজনশীল উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে এবার তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করেছে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮’।

২০১৫ সালে ৩০টি সংগঠনকে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী এবং ১০টি সংগঠনকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। একইভাবে ২০১৭ সালেও ৩০টি সংগঠনকে বিজয়ী এবং ১০টি সংগঠনকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

২০১৮ সালেও ১০টি বিভাগে বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে দক্ষতার উন্নয়ন, সর্বব্যাপী শিক্ষা, বিশেষভাবে সক্ষমদের (প্রতিবন্ধী) জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক বিপ্লব, উদ্ভাবক, খেলাধুলা এবং ফিটনেস, জনসচেতনতা সৃষ্ট, লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসসহ আরো বেশ কিছু বিভাগ রয়েছে। পরিবেশ রক্ষার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন, তরুণদের জন্য খেলাধুলা ও স্বাস্থ্য চর্চার ব্যবস্থা করা সংগঠনগুলোকে আবেদনের আহ্বান জানানো হয়। ২১ আগস্ট ইয়াং বাংলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আবেদন ফর্ম প্রদানের মাধ্যমে শুরু হওয়া কার্যক্রম শেষ হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। দারুণ জনপ্রিয় এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য সারাদেশ থেকে আবেদন করে ২৫০০ এর বেশি সংগঠন।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ অক্টোবর ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Marcel