ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

সবার দৃষ্টি লেবাননে : কী হবে?

তানজিনা আফরিন ইভা : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১১-২২ ১০:৫৪:৫২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-২২ ৩:২৭:৫৫ পিএম
মঙ্গলবার মধ্যরাতে বৈরুত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সাদ হারিরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মোড় সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কূটনীতির মাঠ গরম করে দুই সপ্তাহ বাদে নিজ দেশে ফিরেছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি।

সবার দৃষ্টি এখন লেবাননে। এরপর কী হবে? তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি। তাহলে তিনি কি প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকবেন?  হিজবুল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন হবে? দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবের প্রেসক্রিপশন মেনে চলবেন? ইরানের বিরুদ্ধে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেবেন না কি অন্য কিছু? অনেক প্রশ্ন। সব কিছুর উত্তর দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা তার পক্ষে সম্ভব হবে কি?

দুই সপ্তাহ আগে সরকারি সফরে সৌদি আরবে গিয়ে তার পরদিন দেশটির রাজধানী রিয়াদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন সুন্নিপন্থি লেবাননি প্রধাননন্ত্রী সাদ হারিরি। লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরানের চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলে ও আততায়ীর হাতে খুন হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি। লেবাননের নেতারা দাবি করেন, তাকে সৌদি আরবে আটকে রাখা হয়েছে। ইরানের নেতারাসহ একই দাবি করেন জার্মানির কূটনৈতিক কর্মকর্তা। আর এমন সময় সাদ হারিরি সৌদি আরব সফরে গিয়েছিলেন, যখন দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। প্রভাবশালী কয়েকজন সৌদি রাজপুত্র, প্রাক্তন ও বর্তমান মন্ত্রী এবং ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীনে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি। সৌদি আরবের এই রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে সাদ হারিরি পদত্যাগের সম্পর্ক আছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দাবি করেন। ইরানপন্থি শিয়া হিজবুল্লাহদের চাপে ফেলতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল আঞ্চলিক রাজনৈতিক মঞ্চে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রভাব বিস্তার করতেই নাটকীয় এসব পরিবর্তন পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে অনেকে দাবি করেছেন।

এদিকে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে বৈরুত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে হারিরিকে স্বাগত জানান নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা। আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে সৌদি আরব তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ করা হলেও সাদ হারিরি ও সৌদি আরব তা অস্বীকার করে আসছে।

সাদ হারিরি পদত্যাগ করলেও লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, সাদ হারিরি দেশে না ফেরা পর্যন্ত তিনি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবেন না।

এদিকে গত শনিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান তিনি। ইমানুয়েল ম্যাক্রো সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চালান। ফান্সে থাকা অবস্থায় হারিরি জানিয়েছিলেন, লেবাননের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বুধবার তিনি দেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই আমি আমার অবস্থান জানাতে পারব।

বিমানবন্দরে নামার পরই তার বাবা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রফিক আল-হারিরির সমাধিস্থলে যান তিনি। রফিক আল-হারিরি ২০০৫ সালে গুপ্ত হত্যার শিকার হন।

সৌদি আরব সফরকালে গত ৪ নভেম্বর তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগের ঘোষণায় নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করে সাদ এর জন্য ইরান ও লেবাননের শিয়া রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দায়ী করেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সৌদি আরব ও ইরানের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। একই সঙ্গে লেবাননেও রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়। এখন দেখার বিষয়, সংকট আরো ঘনীভূত হবে না কি অন্য কোনো মোড়ে গিয়ে ঠেকবে লেবানন।

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ নভেম্বর ২০১৭/ইভা/রাসেল পারভেজ

Walton