ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫, ২৬ এপ্রিল ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

উ. কোরিয়াকে তেল দেওয়ায় জাহাজ জব্দ

রাসেল পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১২-৩০ ১২:২৪:০৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-৩১ ১১:১৪:৪১ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে উত্তর কোরিয়ার জাহাজে জ্বালানি তেল সরবরাহের অভিযোগে হংকংয়ে নিবন্ধিত একটি তেলবাহী ট্যাংকার গত মাসে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লাইটহাউস উইনমোর নামে জাহাজ থেকে গোপনে উত্তর কোরিয়ার একটি জাহাজে ৬০০ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। তবে পিয়ংইয়ংকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে যেকোনো পণ্যসামগ্রী সরবরাহে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

উত্তর কোরিয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ চীন প্রত্যাখ্যান করার পর জাহাজ জব্দের তথ্য প্রকাশ করল দক্ষিণ কোরিয়া।

লাইটমোর উইনহাউস নিয়ে যা হয়েছে

পরিশোধিত তেল বোঝাই করতে ১১ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়েসু বন্দরে নোঙর করে জাহাজটি এবং এর চার দিন পর তাইওয়ানের উদ্দেশে রওনা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপ জানিয়েছে, তাইওয়ানে না গিয়ে ১৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক জলভাগে উত্তর কোরিয়ার একটি ও অন্য তিনটি জাহাজে তেল সরবরাহ করে লাইটহাউস উইনমোর। এ ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘিত হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তেল সরবরাহের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়ে। নভেম্বর মাসে লাইটহাউস উইনমোরের নাম উল্লেখ না করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ চিত্রগুলো প্রকাশ করে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, নভেম্বর মাসে উইনমোর ফিরে এলে সেটি জব্দ করা হয় এবং তখন থেকে জাহাজটি সে দেশে অবস্থান করছে।

এ ঘটনায় চীন কি যুক্ত?

এর কোনো প্রমাণ নেই। লাইটহাউস উইনমোর যদিও হংকংয়ের পতাকাবাহী জাহাজ কিন্তু এটি তাইওয়ানের ‘বিলিয়নস বাংকার গ্রুপ করপোরেশন’-এর কাছে ইজারা দেওয়া। এদিকে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, জাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান তাইওয়ানের অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা প্রতিষ্ঠানে মালিক বা কর্মকর্তারা তাইওয়ানের নাগরিক কিনা, তা জানাননি তারা।

অন্যদিকে, চীন সরকার জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেছেন, ‘ডিপিআরকের ওপর জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা চীনের উদ্যোক্তা বা ব্যক্তিদের মাধ্যমে লঙ্ঘনের ঘটনা কখনোই সমর্থন করা হয় না।’

উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়ার ৯০ শতাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য চীনের সঙ্গে হয়ে থাকে।

ট্রাম্পের উদ্বেগ

সাগরে উত্তর কোরিয়ার জাহাজে চীন গোপনে তেল সরবরাহ করছে বলে ওয়াশিংটন প্রশাসনের মধ্যে ক্রমেই সন্দেহ বাড়ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চীন দাবি করছে, পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর রেখেছে তারা।

বৃহস্পতিবার এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, চীনের ওপর তিনি খুবই হতাশ। কারণ, তারা হাতেনাতে ধরা পড়েছে। টুইটে তিনি লেখেন, ‘হাতেনাতে ধরা পড়েছে- খুবই হতাশ যে, উত্তর কোরিয়ায় পাঠানোর জন্য তেল সরবরাহ করছে চীন। যদি এসব ঘটনা চলতে থাকে, তাহলে উত্তর কোরিয়া সমস্যার বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান কখনোই সম্ভব নয়।’

দক্ষিণ কোরিয়ার চোসান ইলবো নামে পত্রিকায় এ ইস্যুতে একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ট্রাম্প ওই টুইট করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইটে ধরা পড়া চিত্র অনুযায়ী, অক্টোবর মাস থেকে এ পর্যন্ত জাহাজ থেকে জাহাজে অবৈধভাবে ৩০ বার তেল সরবরাহ করা হয়েছে।

এই খবরের পরিপ্রেক্ষিতে চীনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, বাণিজ্য ইস্যুতে চীনের প্রতি নরম হয়েছেন, কারণ, উত্তর কোরিয়া সমস্যার সমাধানে তাদের সাহায্য চান তিনি। চীনের প্রতি ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ায় তেল যাচ্ছে। এটি আমার চুক্তি নয়। উত্তর কোরিয়া নিয়ে তারা যদি আমাদের সাহায্য না করে, তাহলে আমি যা করতে চেয়েছি বলে সব সময় বলে এসেছি, তাই করব।’

আগের নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞায় দেশটিতে ৯০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম বা জ্বালানি তেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাগর পথে উত্তর কোরিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ তেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ ডিসেম্বর ২০১৭/রাসেল পারভেজ

Walton Laptop