ঢাকা, রবিবার, ৮ বৈশাখ ১৪২৬, ২১ এপ্রিল ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘নরকে ৭ দিন কাটিয়েছি’

শাহেদ হোসেন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০২-১২ ৩:৪১:২৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০২-১২ ৫:১২:৫২ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীন সরকার একে বলে কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র। সেই কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল কাজাখ বংশোদ্ভূত চীনা মুসলিম আইবোতা সেরিকের বাবাসহ অনেককে। তাদের মতে সেটি শিক্ষা কেন্দ্র নয় বরং কারাগার।

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের তারবাগাতে এলাকার একটি মসজিদের ইমাম আইবোতার বাবা। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে আটক করা হয়। এরপর থেকেই আর বাবার কোনো খোঁজ পাননি আইবোতা।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কেন আমার বাবাকে বন্দী করা হয়েছে। তিনি চীনের কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি, তাকে আদালতেও হাজির করা হয়নি।’

অরিনবেক কোকসেবেক নামে সংখ্যালঘু কাজাখ গোষ্ঠীর আরেক ব্যক্তি জানান, তিনি বেশ কয়েক মাস ওই বন্দিশিবিরে ছিলেন।

অরিনবেক বলেন,‘আমি সেখানে নরকের সাত দিন পার করেছি। আমার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়, পা ছিল বাঁধা। তারা আমাকে একটি গর্তের মধ্যে ছুড়ে ফেলে। আমি আমার হাত দুটি উঁচু করলাম এবং উপরের দিকে তাকালাম। এসময় তারা পানি মারতে শুরু করলো। আমি চিৎকার করতে লাগলাম।’

নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এরপরে কি হয়েছিল আমার মনে নেই। ওই গর্তে কতক্ষন ছিলাম মনে করতে পারিনি, তবে সময়টা শীতকাল এবং প্রচণ্ড ঠান্ডা ছিল। তারা আমাকে বলেছিল, আমি বিশ্বাসঘাতক। কারণ আমার নাকি দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে, আমার দেনা আছে এবং আমি জমির মালিক।’ কিন্তু এগুলো সবই মিথ্যা ছিল বলে জানান অরিনবেক।

এক সপ্তাহ পরে অরিনবেককে আরেকটি ভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চীনা ভাষা ও গান শেখানো হয়। তিন হাজার চীনা শব্দ মুখস্থ করলে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

অরিনবেক বলেন, ‘তারা কাজাখদের আটক করে কারণ তারা মুসলমান। কেন বন্দী করে? চীনের উদ্দেশ্য হচ্ছে কাজাখদের চীনা বানানো। তারা পুরো জাতিসত্ত্বাটিকে মুছে ফেলতে চায়।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/শাহেদ

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge