ঢাকা, শনিবার, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

স্বর্ণজয়ী হাসিবের দুঃখগাথা

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০২-২৭ ১০:৪৫:৪৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-০৬ ১:৩২:৫১ পিএম

এস কে রেজা পারভেজ : প্রত্যাশা অনুযায়ী কখনো ফেডারেশনের সহযোগিতা পাননি। বারবার হেরে গিয়েও দমে যাননি। পরিশ্রম আর অধ্যবসায় সঙ্গী করে স্বপ্ন দেখেছেন ঘুরে দাঁড়ানোর। অবশেষে এসেছে সাফল্য। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘নাব্যা-ডব্লিউএফএফ (ওয়ার্ল্ড ফিটনেস ফেডারেশন) এশিয়া মাসেল ওয়্যার’ চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ জয় করে গর্বের আকাশে উড়িয়েছেন প্রিয় বাংলাদেশের পতাকা। বলছিলাম বডিবিল্ডার হাসিব মোহাম্মদ হোলির কথা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে যেকোনো টুর্নামেন্টে বডিবিল্ডিংয়ে এটিই আন্তর্জাতিক কোনো স্বর্ণপদক। তিনি যে টুর্নামেন্ট থেকে লড়েছেন একসময় বিশ্ব আসরের সেই টুর্নামেন্টে কয়েকবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারের মতো হলিউড সুপারস্টার। তবে দেশের জন্য এত বড় সম্মান বয়ে আনলেও এখন পর্যন্ত ফেডারেশন বা সংশ্লিষ্ট কারো কাছ থেকে সংবর্ধনা দূরে থাক, ধন্যবাদটুকুও পাননি তিনি।

এ নিয়ে মনের গভীরে দুঃখের পাহাড় জমলেও দেখছেন আরো বড় স্বপ্ন। সেটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ জয়ের। আগামী জুনে ব্রাজিলের রিওতে বসতে যাওয়া ওই টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখলেও বাদ সাধছে সাধ্য। এত বড় টুর্নামেন্ট অথচ স্পন্সরই যে নেই হাসিবের! কারণ এখন পর্যন্ত হাসিব যে পর্যায়ে এসেছেন তাতে বিন্দুমাত্র অবদান নেই তার ফেডারেশনের, ছিল না কোনো স্পন্সর। এ ক্ষেত্রে পুরো কৃতিত্বই দিতে হবে তার পরিবারকে। তবে স্বপ্ন বাস্তবায়নের সিঁড়ি খুঁজছেন এই স্বর্ণজয়ী। তিনি সেটি করে দেখাতে না পারলে বডিবিল্ডিংয়ে তার অনুজরাও যে নিরুৎসাহিত হবে। সে জন্য তিনি সফল হতে চান আর রেখে যেতে চান দৃষ্টান্ত।

সম্প্রতি এক বিকেলে হাসিব হোলি নিজের বাসায় এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডিকে। সেখানে তিনি বলেছেন তার বেড়ে ওটা, এই পর্যায়ের আসতে ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি ভালোবাসা আর পরিশ্রমের গল্প। সেই আলাপচারিতার চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

রাইজিংবিডি : বডিবিল্ডিংয়ে এলেন কীভাবে? এত খেলা থাকতে এই খেলাকেই কেন বেছে নিলেন?
হাসিব হোলি :
আমার বাবাও বডিবিল্ডিং করতেন। সে জন্য ছোটবেলা থেকেই এর প্রতি আমার খুব আগ্রহ জন্মে। সেই ১৪ বছর বয়স থেকে আমি ট্রেনিং করি। প্রথম প্রথম বাসায় অল্প অল্প করে ব্যায়াম করতাম। এরপর বাসায় বাবার কিছু ব্যায়াম করার যন্ত্রপাতি ছিল, সেগুলো দিয়ে শুরু করি। আমার বাবা স্থানীয় পর্যায়ের খেলায় বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়ন হতেন। এগুলো দেখে দেখে আমার মধ্যে একটা সুপ্ত বাসনা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমার বাবা কখনো চাইতেন না আমি বডিবিল্ডিং করি। কারণ, তিনি জানেন এই খেলার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এ জন্য আমাকে উৎসাহিত করতেন না। এমনকি এলাকার জিমগুলাতে বলে রাখতেন আমি যেন জিম করতে না পারি। এ জন্য আমি অনেক দূরে দূরে গিয়ে ব্যায়াম করতাম।

রাইজিংবিডি : বডিবিল্ডিংয়ে তো অনেক খরচ। পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া কীভাবে এই ঘাটতি পূরণ করতেন?
হাসিব হোলি :
আমি যখন এইচএসসি পাস করি তখন জিমের খরচ চালানোর জন্য বিভিন্ন পার্টটাইম কাজ করা শুরু করি। একটি ক্লাবে আমি ট্রেনার হিসেবে যোগ দিই। এরই মধ্যে পরিবারও জেনে ফেলে বিষয়টি যে, আমি বডিবিল্ডিং করি। তবে পরিবার চাইত যে আমি অন্য কিছু করি। বিশেষ করে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট হই। কিন্তু আমার তো মন পড়ে থাকত বডিবিল্ডিংয়ে।

রাইজিংবিডি : প্রথম কোন পেশাদার টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেন?
হাসিব :
২০০৯ সালে সম্ভবত ১৬ বছর বয়সে আমি প্রথম কনটেস্টে পার্টিসিপেট করি। তখন আমি জুনিয়র মিস্টার বাংলাদেশ খেলতে যাই। কিন্তু ওখান থেকে বলা হলো যে, আমার ওয়েট বেশি অর্থাৎ ৮০র বেশি। সে জন্য সিনিয়রদের সঙ্গে খেলতে হবে। কিন্তু আমার বয়স কম হওয়ার কারণে ওই সময়ে সিনিয়রদের সঙ্গে পারলাম না। সেখান থেকে আমার ভেতর একটি জেদ কাজ করল যে, আমাকে পরেরবার পারতে হবে। সে জন্য অনেক পরিশ্রম করা শুরু করি। ২০১১ সালে আবার খেলি। আবারও পারিনি। কিন্তু খুব কাছাকাছি গিয়েছিলাম।

রাইজিংবিডি : কোনো পেশাদার ট্রেনারের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন?
হাসিব :
২০১১ সালের পর গ্র্যাজুয়েশনের ক্লাস-পরীক্ষার কারণে বেশ দীর্ঘ সময় কোনো টুর্মামেন্টে অংশ নিতে পারিনি। তবে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কারণে গ্র্যাজুয়েশন সিরিমনি করতে আমি মালয়েশিয়ায় যাই। সেখানে যাওয়ার সময়েই পরিকল্পনা করি বডিবিল্ডিংয়ে ট্রেনিং নিতে থাইল্যান্ডে যাব। কারণ, সেখানে বডিবিল্ডিংয়ের খুব ভালো ট্রেনিং সেন্টার আছে।

তখন মালয়েশিয়া থেকে এক ট্রিপে থাইল্যান্ডে চলে আসি। সেখানে এক সপ্তাহের একটি ট্রেনিং নিই। দেশে এসে ওই বছরই আমি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ানশিপে মিস্টার বাংলাদেশ হই হ্যাভিওয়েট ক্যাটাগরিতে। এরপর আমার খুব ভালো রেজাল্ট পাওয়াতে আমি আবারও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।

রাইজিংবিডি : থাইল্যান্ডে আপনি কোন ট্রেনিং সেন্টার থেকে ট্রেনিং নেন?
হাসিব :
আমি যেই ট্রেনিং সেন্টারে ট্রেনিং নিই, সেটি হচ্ছে ডা. সিত্থির। তিনি থাইল্যান্ডের লিজেন্ড বডিবিল্ডার। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। আমি জানতাম না এটি তার ইনস্টিটিউট। ভাগ্যই আমাকে সেখানে নিয়ে গেছে। ওনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু সামনে যেহেতু ইন্টারন্যাশনাল খেলার পরিকল্পনা ছিল, তাই ওনার কাছে সরাসরি ট্রেনিং করতে চেয়েছিলাম।

রাইজিংবিডি : ট্রেনিংটি কেমন ছিল?
হাসিব :
ওখানে কন্টাক্ট করে গত বছরের মার্চের দিকে আমি দ্বিতীয়বারের মতো আবারও থাইল্যান্ডে যাই। ট্রেনিংটি ছিল সপ্তাহে তিন দিন করে দুই মাসের। কিন্তু আমাকে তো এক মাসের বেশি ভিসা দেবে না। সে জন্য আমি অনুরোধ করলাম আমাকে এক মাসের মধ্যে এই ট্রেনিং শেষ করতে। কিন্তু ডা. সিত্থি বললেন, করা যাবে কিন্তু সেটি অনেক কঠিন হবে তোমার জন্য। অর্থাৎ সপ্তাহে ছয় দিনই করতে হবে। আমার কাছে কোনো বিকল্প ছিল না, তাই শুরু করলাম।

খুব টাফ ট্রেনিং ছিল। সেটি ছিল লেবেল অ্যাডভান্স ট্রেনিং। ওই সময়ে থাইল্যান্ডে পুরো গ্রীষ্মকাল। তাপমাত্রা ৪০-৪৪ ডিগ্রি  সেলসিয়াস। প্রথম কয়েক দিন তো আমার জ্বর চলে আসত। ওষুধ খেয়ে আবার শুরু করতাম ট্রেনিং। এটি অনেক ব্যয়বহুলও ছিল। এ জন্য আমাকে অনেক ঋণ করতে হয়েছে।

রাইজিংবিডি : প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলা?
হাসিব :
২০১৬ সালের মে মাসে চীনে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে গেলাম। কিন্তু এ সময় আমাকে এক এক বিরূপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কোনো খেলায় খেলোয়াড়েরা বিদেশে টুর্মামেন্ট খেলতে গেলে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন পাসপোর্ট জমা নিয়ে এনএসসির অধীনে ভিসা করায়। কিন্তু আমাদের বলা হলো, ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভিসা করতে হবে। অর্থাৎ ট্যুরিস্ট ভিসায় যেতে হবে।

বোঝেন খেলা হবে চীনে। সেখানকার ভিসা পাওয়া তো কঠিন। আমরা চারজন যাব। কিন্তু এর মধ্যে একজনের ভিসা হলো না। অথচ ফেডারেশনের আওতায় হলে তিনি যেতে পারতেন আবার টাকাও কম লাগত। কিন্তু আমার ভিসা করতে লাগল ২৪ হাজার, কিন্তু ফেডারেশনের আওতায় হলে লাগত ৪ হাজার। টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে আমরা যেখানে কঠোর পরিশ্রম করব, সেটি করতে না পেরে উল্টো আমরা ভিসার জন্য দৌড়াদৌড়ি করেছি।

রাইজিংবিডি : চীনে যাওয়ার পর কি অভিজ্ঞতা হলো?
হাসিব :
ওখানে গিয়ে আমরা একটি ভুল ক্যাটগরিতে রেজিস্টার করে ফেললাম। ফেডারেশন থেকে কোনো সহায়তা না করায় এবং আমরা না বোঝার কারণে এটি হলো। আরো বাজে অভিজ্ঞতায় পড়লাম আমরা। আমরা এখানে চর্চা করে গেছি বডিবিল্ডিং। আর সেখানে গিয়ে দেখি ক্লাসিক বডিবিল্ডিং। দুটো আলাদা জিনিস। মঞ্চে গিয়ে আমরা যখন পোজ দিলাম তখন দায়িত্বশীলরা এসে দেখিয়ে দিলেন এটি এভাবে নয়, ওভাবে। একটি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে গেলাম আমরা। এটি সম্পর্কে সব দেশের ফেডারেশন তাদের খেলোয়াড়দের আগেই পরিচিত করিয়ে দেয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। সেবার আমরা ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু কষ্ট পেয়েছি টুর্নামেন্ট শেষে ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের কথায়। তারা বললেন, আসলে বডিবিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ কিছু করতে পারবে না।

ওই খানে যাওয়ার পর আরেকটি সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব বডিবিল্ডিং-আইএফবি থেকে বলা হলো, তোমাদের দুই বছরের রেজিস্ট্রেশন ফি দেওয়া নেই। যেটা ফেডারেশনের দেওয়ার কথা। প্রতিবছরে ১০০ ডলার। টাকা না দিলে খেলতে পারবে না। সেখানে তো আমরা একটি লিমিটেড অ্যামাউন্ট নিয়ে গেছি। পরে তিনজন মিলে সেই টাকাটা দিই।



রাইজিংবিডি : ফেডারেশন থেকে এই অসহযোগিতার পরও কীভাবে পরবর্তী টুর্নামেন্টের জন্য নিজেকে তৈরি করলেন?
হাসিব :
আমি কখনো আশাহত হইনি। বিশ্বাস ছিল- পরিশ্রম করে গেলে লক্ষ্য অনুযায়ী সাফল্য আসবেই। আগস্টে গিয়ে ডা. সিত্থিকে সব খুলে বলি। তাকে আমি এমন একটি পরামর্শ দিতে বলি যে, ফেডারেশনের অথরাইজড হওয়া লাগবে না অথচ আমি খেলতে পারব। তখন ডা. সিত্থি আমাকে বলল, নাব্যা-ডব্লিউএফএফতে যাও, সেখানে যে ভাইস চেয়ারম্যান উনি আমার বন্ধু। আমি বলে দিলে তুমি অংশগ্রহণ করতে পারবা। আমি সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে জানুয়ারিতে সিঙ্গাপুর যাই। এশিয়ার ১৩টি দেশ সেখানে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ নাব্যা-ডব্লিউএফএফ অংশ নিয়ে (বয়সভিত্তিক ২৪ ক্যাটাগরিতে) প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হই। বাংলাদেশে বডিবিল্ডিং ইতিহাসে যেকোনো পর্যায়ের টুর্নামেন্টে এটিই প্রথম আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক।

রাইজিংবিডি : নিজের প্রচেষ্টায় এত দূর এলেন, নিশ্চয় আপনার ফেডারেশন বড় ধরনের ধন্যবাদ জানিয়েছে?
হাসিব :
না কিছুই হয়নি। এটি পাওয়ার পর ফেডারেশন থেকে কোনো সংবর্ধনাও দেয়নি। তবে সবাই এখন ফেডারেশনকে দোষ দিচ্ছে, কেন সহায়তা করা হলো না। তারা আমাকে সংবর্ধনা তো দেয়নি, উল্টো এখন আমাকে বহিষ্কার করতে চাইছে। এর পেছনে  বড় উদ্দেশ্য আছে। কারণ, আমি জুনে ব্রাজিল যাব মিস্টার ইউনিভার্স খেলতে। বহিষ্কার করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, ফেডারেশন ভয় পাচ্ছে, যদি আমি ব্রাজিলে গিয়ে কিছু একটা করে ফেলি!  তখন তো তারা বিপদে পড়ে যাবে। আর বহিষ্কার করলে হবে কী, তখন আমি তো তাদের কিছু বলতে পারব না। তারা বলবে, সে তো আমাদের ফেডারেশনের কেউ না। আমাকে অপসারিত করতে অনেক মিটিং হয়েছে। কিন্তু জিমের কাউন্সেলররা এটাকে সাপোর্ট দিচ্ছে না। তা ছাড়া মিডিয়ারও চোখ রয়েছে।

রাইজিংবিডি : স্বর্ণ জয়েও সংবর্ধনা পেলেন না, কেউ খোঁজও নিল না ? বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
হাসিব :
দেখেন, আমি যে অ্যাচিভমেন্টটা পেয়েছি সেটি যদি ক্রিকেট বা ফুটবলে হতো কি হতো? সরকারের কি অবস্থান থাকত? সংবর্ধনা দিয়ে, গাড়ি-বাড়ি দিয়ে ভরে ফেলত। কিন্তু আমাকে সংবর্ধনা তো দূরে থাক একটি ধন্যবাদও দেয়নি কেউ। এটি অনেক বড় কষ্ট এবং আক্ষেপের বিষয়। একা গিয়ে মেডেল নিয়ে এসেছি। এটা তো সকলের অনুপ্রাণিত করা উচিত। কিন্তু সেটা হয়নি। না ফেডারেশন থেকে, না সরকারের পক্ষ থেকে। উল্টো বহিষ্কার করার জন্য মিটিংয়ের পর মিটিং করছে।

রাইজিংবিডি : আমাদের দেশে বডিবিল্ডিং খেলা খুব বেশি জনপ্রিয় না। তা ছাড়া ওইভাবে এখনো মানুষ এ সম্পর্কে খুব একটা জানেও না। বডিবিল্ডিংকে জনপ্রিয় করা সম্ভব?
হাসিব :
যেকোনো খেলায় যদি এটাকে নেক্সট লেভেলে নিতে চান তাহলে প্রচুর ইন্টারন্যাশনাল খেলতে হবে। ক্রিকেটটা উঠল কেন? কারণ, এই খেলায় বাংলাদেশ বেশি বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। খেলায় হারজিত থাকবেই। হারতে হারতেই একসময় জিতবে। আর ফেডারেশনের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে, উদার হবে হবে। একটি খেলা কখনো জনপ্রিয়ও হবে না যদি না বেশি বেশি আন্তর্জাতিক না খেলে। দেখেন মানুষ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে চেনে কীভাবে। এক ম্যারাডোনা আর পেলেকে দিয়ে। তা ছাড়া তাদের কিন্তু কোনো এমন বড় অর্জন নেই। অর্থনৈতিক অবস্থা এমন নয় যে তাদের চিনতে হবে। একটি খেলোয়াড় একটি দেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।

রাইজিংবিডি : বডিবিল্ডিংয়ে আরো অর্জন আনতে আন্তর্জাতিক ট্রেনিংকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখেন ?
হাসিব :
চীনে যখন আমি চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে গেলাম সেটি আমার অনেক উপকার হয়েছে। কারণ, এতে বোঝা গিয়েছে যে আমাদের দুর্বলতা কোথায়। ফেডারেশনের উচিত বাইরে থেকে ট্রেনার নিয়ে আসা। দেখেন ভুটান একটি ছোট্ট দেশ। ওরাও ট্রেনার আনে ইউক্রেন থেকে। এই দেশ থেকে ওই দেশ থেকে। থাইল্যান্ড কোচ আনে ইতালি থেকে। একজন আন্তর্জাতিক কোচ থাকলে সবকিছু সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু দুঃখজনক আমাদের সেটি নেই।

রাইজিংবিডি : এরই মধ্যে তো আপনার এই ক্ষেত্রে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমাদের দেশের খেলোয়াড়দের দুর্বলতা আছে বলে মনে করেন ?
হাসিব :
বডিবিল্ডিংয়ের মতো ব্যক্তিগত খেলাগুলোতে প্রোপার ট্রেনিং হলে গোল্ড মেডেল জেতা কোনো ব্যাপারই না। বাইরের দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমাদের যে খুব বেশি পার্থক্য তা নয়। শুধু সবকিছু প্রয়োজন মতো পেলেই ভালো করা সম্ভব। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলে দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য একটি গর্বের ব্যাপার।

আর একটি ব্যাপার হচ্ছে, সরকারের সাহায্য ছাড়া ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন। আমি যখন সিঙ্গাপুর গেলাম সেবার প্রথমে আমি ভিসা পাইনি। কিন্তু হাল ছাড়িনি। এ জন্য লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি, আর স্বপ্নও সত্যি হয়েছে।

রাইজিংবিডি : বডিবিল্ডিংয়ে আপনার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য?
হাসিব :
এখন আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো সাফল্য পেতে চাই। বিশেষ করে জুনে ব্রাজিলের রিওতে বডিবিল্ডিংয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আসর বসছে। সেখানে অংশ নিয়ে ভালো কিছু করতে চাই। কিন্তু আমার কাছে কোনো স্পন্সর নেই। এই পর্যায়ে নিজেকে আনতে অনেক খরচ হয়েছে। আর পারছি না। জানি না রিওতে অংশ নিতে পারব কি না? কিন্তু আমি কখনো আশাহত হই না। ব্যবস্থা একটি হয়ে যাবে আশা করি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/রেজা/আমিনুল/এএন

Walton
 
   
Marcel